ঢাকা, ০৭ জুন রোববার, ২০২০ || ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
good-food
৬১

‘নিখোঁজ’ ফটোসাংবাদিক কাজল বেনাপোলে আটক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১০:৩৬ ৩ মে ২০২০  

ঢাকা থেকে নিখোঁজ দৈনিক পক্ষকাল-এর সম্পাদক ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভারত থেকে ফেরার সময় তাকে আটক করেন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। পরে তাকে হস্তান্তরের জন্য বেনাপোল পোর্টথানায় আনা হয়।


শনিবার (০২ মে) দিনগত গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্তের রঘুনাথপুর থেকে ৪৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করেন।

 

এর আগে গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন শফিকুল ইসলাম কাজল। ১১ মার্চ শফিকুলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন ঢাকার চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া সাংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয় তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর।

 

বেনাপোলের রঘুনাতপুর বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ হাবিলদার আছের আলী জানান, বিজিবি সদস্যরা রাতে টহলের সময় দেখতে পান ভারত থেকে অবৈধভাবে একজন দেশে ঢুকছেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে (১১-সি) ধারায় মামলা দিয়ে পুলিশে দেন।


 

বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, বিজিবি শফিকুল ইসলাম কাজল নামে এক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে এসেছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

 

দৈনিক পক্ষকাল পত্রিকার বেনাপোল প্রতিনিধি আমিনুর রহমান জানান, আজ রোববার ভোরে খবর পেয়ে তিনি থানায় যান। পরে সেখানে তিনি তার সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেন। তবে বিস্তারিত কথা বলতে পারেননি।

 


প্রসঙ্গত, ৫০ বছর বয়সের শফিকুল ইসলাম কাজল একজন ফটোসাংবাদিক এবং দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক। তিনিসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের মামলার একদিন পর ১০ মার্চ থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছিল না।


নিখোঁজের আগের দিন ২০২০ সালের ৯ মার্চ আওয়ামী লীগের এমপি সাইফুজ্জামান শিখর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শেরে বাংলা থানায় শফিকুল ইসলাম কাজল এবং আরও ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

 

এদিকে, নিখোঁজ শফিকুল ইসলাম কাজলের ছেলে মনোরম পলক ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তার বাবা বেনাপোল থানায় আছেন। তাকে আনতে আমরা আজই সেখানে যাচ্ছি। 

 

পলক জানান, গতরাত প্রায় ৩টার দিকে আমার কাছে একটা ফোন আসে। ফোনের অপর পাশ থেকে বলেন, ‘আমি বেনাপোল থানার ডিউটি অফিসার বলছি, আপনার বাবার নাম কি কাজল? সে কোথায়?


তখন আমি বলেছি বাবা নিখোঁজ। ওইসময় তিনি প্রশ্ন করেন কোনো জিডি করা হয়েছে কিনা। 

 

জিডি করার কথা জানার পর বাবার সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দেন। ওই সময় আমার মা ও বোন সঙ্গে ছিল। বাবার গলার স্বর শুনে চিনতে পারি। বাবা বলেন ভোরের প্রথম গাড়িতে চলো আসো, আমাকে নিয়ে যাও। 

 

ফোন রেখে রাজধানীর চকবাজার থানায় যেখানে জিডি ও মামলা করা হয় সেখানে যোগাযোগ করে বেনাপোল থানার ওই ফোন নম্বরটা দেই। দুই থানার কর্মকর্তারা কথা বলেন। পরে তারা কথা বলে নিশ্চিত হন। 

 

রোববার (০৩ মে) আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে বেনাপোল রওয়ানা হয়েছি। আশা করছি, আজকেই বাবাকে নিয়ে ফিরবো। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।