ঢাকা, ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩২৬

নিজে গাড়ি চালিয়ে শফিকে ইজতেমায় পৌঁছে দেন মেয়র জাহাঙ্গীর

প্রকাশিত: ১২:০৩ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


নিজের গাড়িতে বসিয়ে, নিজেই গাড়ি চালিয়ে হেফাজতের আমির ও বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শাহ শফীকে ইজতেমা ময়দানে নির্দিষ্ট কামরায় পৌঁছে দিলেন গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এসময় তিনি আল্লামা শফীর কাছে দোয়া চান।

 

আল্লামা শফী পরে ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তর জুমার নামাজে অংশ নেন। তিনি রাতে সেখানেই অবস্থান করেন।

 

এ বিষয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জানান, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী থেকে বেসরকারি হেলিকপ্টারে করে টঙ্গীর বাটা সু কারখানা এলাকার হেলিপ্যাডে নামেন। পরে সেখান থেকে তিনি (মেয়র) নিজ গাড়িতে করে তাঁকে ইজতেমা ময়দানে নির্দিষ্ট কামরায় পৌঁছে দেন।

 

আল্লামা শফী প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শুক্রবার টঙ্গী আসেন।  

তাবলীগ জামাতের ৫৪ তম এ সম্মেলনে টঙ্গীর তুরাগ তীরে কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম হয়েছে।

 

মাওলানা জোবায়ের ও মাওলানা সাদ অনুসারীদের দুদিন করে আলাদা ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দুটি আখেরি মোনাজাত হচ্ছে। মাওলানা জোবায়েরপন্থীদের ব্যবস্থাপনায় আখেরি মোনাজাত শনিবার। এই ধাপে অংশগ্রহণকারীরা জোবায়েরপন্থী আলেম-ওলেমা কওমিপন্থী তাবলিগ জামাতের অনুসারী মুসুল্লি। দ্বিতীয় ধাপের নেতৃত্বে থাকছেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির ভারতের মাওলানা সাদ সমর্থক ওয়াসেকুল ইসলামের অনুসারীরা।

 

বৃহস্পতিবার আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার প্রথম পক্ষের আখেরি মোনাজাত শেষে সোমবার আখেরি মোনাজাত হবে দ্বিতীয় পক্ষের। আর এর মাধ্যমে শেষ হবে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা।

 

দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিরা বিশ্ব ইজতেমায় ইমান-আমল, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য-সংহতি ও জীবনের অন্যান্য বিষয়ের ওপর বয়ান করবেন।

 

শুক্রবার ফজর নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক আমবয়ান পেশ করেন। ময়দানে বয়ান, জিকির, তালিম আর মাশোয়ারায় মগ্ন থাকেন মুসল্লিরা।

 

মূলত বুধবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে থাকেন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার ভোরে একদফা আমবয়ান হয়। মাগরিবের নামাজের পর হয় আরেক দফা আমবয়ান।

 

টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১৬০ একর বিস্তৃত বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা অবস্থান নেন তাদের নির্ধারিত তাঁবুর নিচে। তারা জিগির-আজগার এবং আল্লাহর ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মিলিয়েই টঙ্গীর তুরাগ তীরে যেন মুসল্লিদের মিলনমেলায়।

 

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি মুসল্লিদের আনা-নেয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা মাঠের সংস্কারকাজ এবং সেবামূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ইজতেমা মাঠে পাঁচটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।

 

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, র‌্যাবের ১০টি ওয়াচ টাওয়ার, মুসল্লিদের জন্য ৩৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার, অজু, গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১৩টি গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন তিন কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আকাশ ও নৌপথে পুলিশ, র‌্যাবের নিয়মিত টহল। নিরাপত্তা চাঁদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো শিল্পনগরী।

গেল জানুয়ারিতে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। সংঘর্ষের পর ইজতেমা অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মুসল্লি নিহত ও পাঁচ শতাধিক মুসল্লি আহত হন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দুপক্ষকে একসঙ্গে এনে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়।