ঢাকা, ১৫ জুন সোমবার, ২০২৬ || ১ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

প্রস্টেট ক্যান্সার নিয়ে প্রচলিত ৬ ভুল ধারণা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ১৫ জুন ২০২৬  

পুরুষদের স্বাস্থ্যের এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে আজও অনেকেই খোলাখুলি আলোচনা করতে চান না। প্রস্টেট ক্যান্সার তার মধ্যে অন্যতম। অনেকেরই ধারণা, এটি শুধু বয়স্ক ব্যক্তিদেরই হয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আজও প্রস্টেট ক্যান্সার নিয়ে প্রচলিত রয়েছে বহু ভুল ধারণা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সব…

ভারতে পুরুদের মধ্যে যেসব ক্যান্সারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রস্টেট ক্যান্সার। ১ লক্ষ পুরুষের মধ্যে প্রায় ৪.৬-৫.৬ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত। বছরে প্রায় ৪০, ০০০ জন প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যদিও এই পরিসংখ্যান পশ্চিমের দেশগুলির তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিজনক, তবে গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখীই। 

তবে সময় মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেশি। তাই এই সম্পর্কে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য থাকাটা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই রোগ সম্পর্কে কী কী ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে মানুষের মধ্যে?

কোনও সমস্যা নেই মানেই চিন্তার কারণও নেই?

অনেকেই মনে করেন, প্রস্রাবে কোনও অসুবিধা না হলে বা শরীরে কোনও উপসর্গ না থাকলে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু বাস্তবে প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাব করতে অসুবিধা বা তলপেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময় রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু বয়স্কদেরই প্রস্টেট ক্যান্সার হয়?

বয়স বাড়ার সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়লেও এই রোগ শুধু প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চল্লিশ বা পঞ্চাশের কোঠার পুরুষদেরও প্রস্টেট ক্যান্সার হতে পারে, বিশেষ করে যদি পরিবারের কারও এই রোগের ইতিহাস থাকে। তাই বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ।

পিএসএ বেশি মানেই ক্যান্সার?
পিএসএ (প্রস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) রক্তপরীক্ষা প্রস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে পিএসএ মাত্রা বেশি হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণেও পিএসএ বাড়তে পারে। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

প্রস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়লেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে

সব ক্ষেত্রে তা নয়। কিছু ধরনের প্রস্টেট ক্যান্সার খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অনেক সময় ‘অ্যাকটিভ সার্ভেইলেন্স’ বা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। এতে রোগের অগ্রগতি নজরে রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা হয়।

চিকিৎসা করালে স্বাভাবিক জীবনযাপন নষ্ট হয়ে যায়?

অনেক পুরুষ চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। যদিও প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা বা যৌনস্বাস্থ্যের কিছু প্রভাব দেখা দিতে পারে, তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কল্যাণে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে গিয়েছে। বর্তমানে রোবোটিক সার্জারি, টার্গেটেড রেডিয়েশন এবং নার্ভ-স্পেয়ারিং প্রযুক্তি রোগীদের উন্নত ফল দিচ্ছে।

প্রস্টেট ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ?

এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া প্রস্টেট ক্যান্সারের রোগীরা চিকিৎসার পর দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এমনকি উন্নত পর্যায়ের ক্ষেত্রেও আধুনিক চিকিৎসা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।