ঢাকা, ১৮ অক্টোবর শুক্রবার, ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৮২

প্রাচীনকালে জন্মনিয়ন্ত্রণের যত উদ্ভট পদ্ধতি

প্রকাশিত: ১৯:৩৮ ১ অক্টোবর ২০১৯  


প্রাচীনকালে ছিল না কোনও কনডম! কিন্তু তাও প্রাচীন মানুষ যৌন সংসর্গ করত। শুধু তা করা নয়, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ ভাবনা চিন্তা করত প্রাচীন যুগের মানুষজন। আর এজন্য সবরকম চেষ্টা করে যেত তারা। কিছু সময়ে সফল হত, কিছু সময়ে না! তাও নানা সময়, নানা জায়গায়, নানাভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে মানুষ। আর এমনই অদ্ভুত কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণের নজিরই তুলে ধরা হলো আপনার জন্য-
১. চাঁদের দোষ!
গ্রীনল্যান্ডে মনে করা হত, একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে চাঁদের। আর তাই গর্ভধারণ এড়াতে চাঁদকে এড়িয়ে চলত নারীরা। তাকাতো না চাঁদের দিকে। এমনকি ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিজেদের পেটে থুতু লাগিয়ে নিত তারা। যাতে করে ঘুমের ভেতরেও চাঁদ কোনও ধরনের ঝামেলা করে ফেলতে না পারে।
২. তেল- পারদের মিশ্রণ
প্রাচীনকালে চীনে গর্ভধারণ এড়াতে অদ্ভূত এক পদ্ধতি অবলম্বন করা হত। আর সেটা হচ্ছে, তেল আর পারদের মিশ্রণ পান করা। খালি পেটে নারীদের অসময়ে গর্ভধারণ থেকে বাঁচার জন্য মিশ্রণটি খেতে দিত। যদিও এখন আমরা জানি, পারদ হাড় আর শরীরের জন্য ঠিক কতটা ক্ষতিকর!
৩. জলপাই তেল
প্রাচীন গ্রীসে জলপাই আর সিডারের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করত পুরুষেরা। কারণ, মনে করা হত; এটি তাদের শুক্রাণু অনেক বেশি দূর্বল করে দেয়। ফলে সেটা নারীকে গর্ভবতী হওয়া থেকে বিরত রাখে। নিজের লেখাতেও এ মিশ্রণের কথা জানিয়েছেন অ্যারিস্টটল।
৪. মধুর ব্যবহার
প্রাচীন মিশরে নারীর গর্ভধারণ এড়াতে ব্যবহার করা হত মধু। তবে পুরুষ নয়, নারীরা ব্যবহার করত এটা। মনে করা হত, মধুর প্রলেপ থাকলে পুরুষের শুক্রাণু নারীর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে জন্ম হবে না কোনও সন্তানেরও! বর্তমানে অবশ্য মধুর পরিবর্তে হানি ক্যাপ ব্যবহার করে অনেকে।
৫. নেকড়ের মূত্র
মধ্যযুগে বেশ ভালো রকমের অন্ধ বিশ্বাস ছিল সবার ভেতরে। বিশেষ করে ব্যাপারটা ওষুধ নিয়ে হলে তো কথাই নেই! চিকিৎসার নানা ধরন ছিল তখন। তারই অংশ হিসেবে নারীদের অযাচিত গর্ভধারণ থেকে দূরে থাকতে যৌনমিলন করার আগে ঘরের বাইরে যেত পুরুষ। গিয়ে কোনও নেকড়ের মূত্র ত্যাগ করার স্থানে মূত্রত্যাগ করত। কিংবা ঘুরে আসত কোনও গর্ভবতী নেকড়ের মূত্রত্যাগের স্থান!
৬. লাইসল পণ্য
খুব বেশি দূর যেতে হবে না। ১৯০০ এর প্রথম দিকের কথা। তখনও জন্মনিয়ন্ত্রণ বৈধ হয়নি আমেরিকায়। লাইসল নামের একটি পণ্য বের করা হয় বাজারে। যেটা নারী দেহের ভেতরে গিয়ে খানিকটা অংশ জ্বালিয়ে দেয় আর নিরাপদভাবে নিশ্চিত করে জন্মনিয়ন্ত্রণ! তবে যতটা নিরাপদই বলা হোক না কেন, এটা ব্যবহার করতে গিয়ে আহত তো হনই, নিহতও হন প্রায় ৫ জন!