ঢাকা, ২১ এপ্রিল রোববার, ২০১৯ || ৮ বৈশাখ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২৯

বারবার মানুষের উপকারে আসতে চায় সেই শিশুটি

প্রকাশিত: ২০:০৩ ২৯ মার্চ ২০১৯  


বয়স মাত্র আট থেকে ১০ হবে। সেই শিশুর চোখেমুখে রাজ্যের উদ্বেগ। দুই হাত ও পা দিয়ে পলিথিন পেঁচিয়ে চেপে ধরে আছে পানির পাইপের ফেটে যাওয়া অংশ। যেন পানি বের না হতে পারে।  আগুন নেভানোর কাজে লাগে। অথচ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা অবলীলায় দেখছিলেন আপামর জনসাধারণ। ব্যস্ত ছিলেন ছবি তুলতে।

গেল বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।  সেই বহুতল ভবনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের এভাবে সহায়তা করে ছোট শিশু নাইম। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে।

উৎসুক জনতার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। তবে সেই শিশুটির কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নাইম আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। থাকে কড়াইলের বৌবাজারে। বাবা রুহুল আমীন ডাব বিক্রেতা। মা গৃহকর্মীর কাজ করেন। ছোট এক বোন আছে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। ইতিমধ্যে সে জানতে পেরেছে, তার ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে।

আজ শুক্রবারও এফআর টাওয়ারের সামনে এসেছিল নাইম। সেখানে পেয়েই তাকে প্রশ্ন করা হলো-কীভাবে খবর পেল সে। বললো, দুপুর ১টায় টিভিতে দেখলাম এখানে আগুন লেগেছে। তা দেখামাত্রই চলে আসি। এসে দেখি বিল্ডিংয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ার কারণে মানুষ দম নিতে পারছে না।পরে দেখি পাশে পাইপ ফাটা। পলিথিন পেঁচিয়ে চেপে ধরলাম। যেন পানি বের না হতে পারে। আগুন নেভানোর কাজে লাগে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে রেখেছিলাম।

শুধু পানির পাইপ ধরে রেখেই নয়। ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ উদ্ধারকাজ সংশ্লিষ্টদের নির্বিঘ্নে এফআর টাওয়ারে ঢুকতেও সহায়তা করেছে নাইম। সেখানে প্রচুর জনতার ভিড় ছিল। উদ্ধারকর্মীদের তা সামলাতে সহায়তা করেছে।

নেপথ্যে নাইম জানত,  সেখানে সাধারণ মানুষের ঢোকার অনুমতি নেই। তাই তারা যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য অন্যদের সঙ্গে সেও কাজ করে। বেলা ৫টায় বাড়ি ফেরে সে।

এতটুকু বয়সে নাইমের মানবতাবোধ দেখে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বড় হয়ে সে কি হতে চায়। সরল স্বীকারোক্তি স্বপ্ন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া। কিন্তু কেন? জানালো-জনগণের সেবা করবে। মানুষের প্রয়োজনে বের হবে।


এই বিভাগের আরো খবর