ঢাকা, ১৬ জুন রোববার, ২০১৯ || ২ আষাঢ় ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৪৬

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর জাঙ্ক ফুড

প্রকাশিত: ২২:১০ ৬ জুন ২০১৯  


মহুয়া এবারই ক্লাস নাইনে উঠেছে। ৩ মাস আগে থেকে তার মাসিক শুরু হয়েছে। আগে বেশ প্রাণোচ্ছল থাকলেও মাসিক শুরুর পর মেয়েটি কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে, নেতিয়ে পড়ছে। শারীরিক পরিবর্তনও হচ্ছে। মুখে ব্রণ, আর শরীরও কিছুটা শুকিয়ে গেছে। সারাক্ষণ কেমন জানি আনমনা থাকে।

বিষয়টি প্রথমে কেউ খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও মহুয়ার মা খুব চিন্তায় পড়ে গেল মেয়েকে নিয়ে। দিন দিন কেমন জানি রোগা হয়ে যাচ্ছে মেয়েটি। একদিন পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন মহুয়াকে। ডাক্তার সব শুনে কিছু ওষুধ আর খাবারের তালিকা বলে দিলেন।

গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হক বলেন, মূলত মেয়েদের ১১ বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে মাসিক শুরু হয়। এ সময়টিকে মেয়েদের বয়:সন্ধিকাল বলা হয়। আর এসময় কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন হয়। হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কিশোরীদের শারিরীক পরিবর্তন শুরু হয়। স্তনগ্রন্থি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমে, যৌনাঙ্গের গ্রন্থি বৃদ্ধির কারণে বিপাকক্রিয়ার হার বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, এসময় কিশোরী মেয়েদের প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন। যাতে করে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা পায়। কিন্তু আমাদের মতো দেশে দেখা যায় উল্টো ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসময় পুষ্টিকর খাবার পায় না কিশোরীরা। আবার খাবারের অনিয়মও হয় এ বয়সে। আর এসব কিছুর প্রভাব পড়ে কিশোরীর শরীরে। দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা।

ডা. মনোয়ারা বলেন, বয়:সন্ধিতে মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মুখে ব্রণ। মূলত হরমোনের তারতম্যের কারণে এসময় কিশোরী মেয়েদের মুখে প্রচুর পরিমানে ব্রণ দেখা দেয়। আর তাই ব্রন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মেয়েদের প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এছাড়া খেতে হবে শাকসব্জি ও আঁশযুক্ত খাবার। এসময় নানা ধরনের চকোলেট, আইসক্রিম এবং কোমল পানীয় না খাওয়াই উত্তম।

তিনি বলেন, এসময় কিশোরী মেয়েরা এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতায় ভোগে। মূলত যখন মাসিক শুরু হয় তখন কারো কারো প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আর তাই এ সময় আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে। এসময় প্রচুর পরিমাণ মাংস, মাছ, ডিম এবং শাক খেতে হবে। এছাড়া আয়রন আছে এমন ফলও খেতে হবে। খেজুর, কিসমিস, কলা এসব ফলে প্রচুর আয়রন রয়েছে।

তিনি বলেন, এসময় অনেক কিশোরী অতিরিক্ত মাত্রায় ডায়েটিং করে। মুলত নিজেদের স্লিম রাখতেই তারা খেতে চায় না। কিন্তু এ না খাওয়ার কারণে তারা অপুষ্টিতে ভোগে এবং শরীরে নানা ধরনের রোগ বাসা বাঁধে। দেখা যায় মেয়েরা রক্তশূণ্যতা এবং ভিটামিনের অভাবে ভুগছে। আর তাই এসময় প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এছাড়া এসময় ভিটামিন সির ঘাটতিও দেখা দেয়। আর তাই লেবু, পেয়ারা,কমলা খেতে পারে কিশোরীরা যাতে করে ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণ হয়।

ডা. মনোয়ারা বলেন, এ বয়সে সবার কোমল পানীয়, চকোলেট, ফাস্টফুড, পেস্ট্রি জাতীয় খাবার খুব প্রিয়। অনেকে এসব খাবারের প্রতি চরম আসক্ত থাকে। কিন্তু এসব খেলে ওজন বেড়ে যায় এবং হরমোনের তারতম্য হয়। পলিষ্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম দেখা যায়। ফলে কিশোরী মেয়েদের মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তাই এসময় সেসব খাবার পরিহার করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।


এই বিভাগের আরো খবর