ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১০৪৯

মার্চেই বগুড়া করতোয়া নদীর তীরে উচ্ছেদ

প্রকাশিত: ২১:৩১ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


 

রিপন দাস : মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বগুড়া পৌরসভা এলাকায় করতোয়া নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ শুরু করা হবে। জেলা নদী রক্ষা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসন।
প্রায় ৪ বছর আগে বগুড়াবাসীর পক্ষে পবিবেশবাদী সংগঠন বেলা করতোয়া নদী রক্ষায় হাইকোর্টে রীট করলে আদালত এ নদীর দখল ও দূষনরোধসহ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।
ইতোমধ্যেই বগুড়া সদরের করতোয়া নদীর দুই তীরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) ও বগুড়া পৌরসভাসহ প্রায় ৩৮ অবৈধ দখলকারীকে চিহ্নিত করেছে ভুমি অফিস। এর মধ্যে ৩০ দখলদারদের পরিচয় ও ঠিকানা থাকলেও ৮ দখলদারের কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
গত রবিবার সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আলীমুন রাজীব তালিকাভূক্ত ৩৮ দখলদারদের নাম প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যেই দখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
“নদী শুকিয়ে গেলে জীব বৈচিত্র্য ও সভ্যতা হারিয়ে যায়। আর এই নদ নদী রক্ষায় আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে” এ স্লোগানে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বগুড়া সার্কিট হাউসে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এক সভায় নদী দখল, পানি ও পরিবেশ দূষণ অবস্থার পর্যালোচনা এবং উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনারে জানানো হয় যারা নদী দখল উচ্ছেদে কোন ধরণের বাধা প্রদান করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, যারা নদী অবৈধ দখল করে আছেন এবং দখল উচ্ছেদে কোন ধরণের বাধা প্রদান করলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও যদি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি এতে বাধা দেয় তার রাজনীতি করা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, নদী দখল যখন ভাঙ্গতে যাবে তখন কেউ বাধা দিলে সেই সব ব্যক্তি ব্লাক লিস্ট হয়ে যাবে।  
১২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করতোয়া নদীর দখল, দূষণ রোধ ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে দেয়া নির্দেশ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন এই নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দখল ও দূষণ রোধে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
করতোয়া নদী দূষণরোধসহ অবৈধ দখল বন্ধ হবে এমন তথ্য জানার পর সব শ্রেনী ও পেশার মানুষ এখন অধির আগ্রহে আছেন। তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘ দিনের এ করতোয়া নদী আবারো পুর্বের খর স্রোতা নদীতে পরিণত হোক।

 


এই বিভাগের আরো খবর