ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৪ || ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
good-food
৩৫৮

যোগাযোগের নয়া যুগে বাংলাদেশ

মেট্রোরেলে প্রথম যাত্রী প্রধানমন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২৮ ডিসেম্বর ২০২২  

খুলে যাচ্ছে একের পর এক স্বপ্নদুয়ার। এবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো নগর যোগাযোগের নতুন দিগন্ত মেট্রোরেল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হলো। বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিক যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

 

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের সি-১ ব্লকের খেলার মাঠে নাম ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন তিনি। দিয়াবাড়ি স্টেশনে উপস্থিত হয়ে লাল ফিতা কেটে নামফলক উন্মোচনের পর সেখানে সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঙ্গে ছিলেন জাতির পিতার কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান, ঢাকা-১৮ আসনের এমপি হাবীব হাসান, সড়ক ‍ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লা নুরী, ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তমোহিদে, জাপান রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

 

সমাবেশ শেষে দিয়াবাড়ি স্টেশন থেকে টিকিট কেটে মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রীও হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চালক মরিয়ম আফিজা মেট্রোরেলকে নিয়ে যান আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের পথ।

 

বেলা ১টা ৩৩ মিনিটে ১ নম্বর টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও টিকিট কাটেন। ১টা ৩৭ মিনিটে কার্ড পাঞ্চ করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন। চলন্ত সিঁড়িতে চড়ে প্ল্যাটফর্মে যান তারা। পরে সবুজ পতাকা উড়িয়ে মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

এরপর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।  

 

প্রধানমন্ত্রী শুধু নিজেই এই বাহনে চড়লেন এমন না, তার সহযাত্রী হন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা শিক্ষক, ইমাম, অন্যান্য ধর্মযাজক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমিক, দোকানি/বাদাম বিক্রেতা/সবজি বিক্রেতা, মেট্রোরেলের শ্রমিক, প্রতিরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, একজন দৃষ্টি/বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সব মিলিয়ে দুই শতাধিক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম মেট্রোরেল ভ্রমণ করলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার জানান, বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার মানুষরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রীদের তালিকায় আছেন।

 

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুরুতে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। পৌনে ১২ কিলোমিটারের এই পথ মেট্রোরেলে পাড়ি দিতে সময় লাগবে ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

 

ডিএমটিসিএল জানায়, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলার সময় ট্রেনগুলো মাঝপথে কোথাও থামবে না। ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের এই পথে ৯টি স্টেশন থাকলেও উত্তরা ও আগারগাঁওয়ের যাত্রী ছাড়া অন্যরা এ সুবিধা পাবেন না।

 

এদিকে, মেট্রোরেলের টিকিটেও আধুনিকতার ছোঁয়া থাকছে। মেট্রোরেলে যাতায়াতে কোনো কাগজের টিকিট থাকবে না। মেট্রোরেল স্টেশন থেকেই কার্ড কিনে যাতায়াত করতে হবে। প্রথম দিকে স্টেশনে দুই ধরনের কার্ড পাওয়া যাবে। স্থায়ী ও এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ড। শুরুতে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশন থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। এই পথের ভাড়া ৬০ টাকা।

 

তবে, ১০ বছর মেয়াদি স্থায়ী কার্ড কিনতে হবে ২০০ টাকা দিয়ে। এই কার্ড দিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনমতো টাকা রিচার্জ করা যাবে। স্থায়ী কার্ড পেতে নিবন্ধন করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের লিংক দেওয়া হবে। এদিন থেকে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মা-বাবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি লাগবে।

 

স্টেশনের টিকিট অফিস মেশিন (টিওএম) থেকে বিক্রয়কর্মীর সহায়তায় কার্ড কেনা যাবে। এ ছাড়া ভেন্ডিং মেশিন থেকে যাত্রীরা নিজেরাই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

আপাতত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা চলবে মেট্রোরেল। ১০ মিনিট অন্তর প্রতি যাত্রায় ২০০ জন করে যাত্রী বহন করবে একেকটি ট্রেন। এছাড়া বন্ধ থাকবে প্রতি মঙ্গলবার। যাত্রীদের দুই প্রান্তের দুই রেল স্টেশনে নিয়ে আসবে বিআরটিসির ৩০টি দ্বিতল বাস। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল ২০টি এবং উত্তরা হাউজ বিল্ডিং থেকে দিয়াবাড়ি স্টেশন পর্যন্ত ১০টি বাস চলবে। বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগর পরিবহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যে ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিআরটিসির বাসে সেই ভাড়াই নেওয়া হবে।