ঢাকা, ১৭ জুন বুধবার, ২০২৬ || ২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
১৪০

মেট্রোরেল আইনের যে ধারায় যা আছে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ১ মে ২০২৬  

দেশের জনসাধারণকে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা প্রদানকারী মেট্রোরেলের রয়েছে শক্ত আইনি কাঠামো। সেই আইন ভাঙলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নিশ্চয়তাও আছে।

মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রণীত হয় ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলায় কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও কার্যকর হবে।

মেট্রোরেল আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ সবসময় সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সেবা বাবদ যাত্রীর ভাড়ার হার নির্ধারণ করবে।

আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী, যাত্রী পরিবহন ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটে এবং বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত যাত্রী পরিবহন ভাড়ার তালিকা মেট্রোরেল স্টেশন এবং কোচের ভেতরে সহজে দেখা যায়-এমন স্থানে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত কোনও যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করা যাবে না।

মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত রাখবে বলে মেট্রোরেল আইনের ২০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ ও বীমা সুবিধার বিষয়টিও এই আইনে রয়েছে। ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনাকালে উদ্ভূত দুর্ঘটনার ফলে যদি কোনও ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হন কিংবা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান; তাহলে কর্তৃপক্ষ তাকে অথবা তার পরিবারকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও পরিমাণে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। 

মেট্রোরেল আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ তাকে নিকটস্থ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। 

যদি কর্তৃপক্ষ আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা না করে; সেক্ষেত্রে তিনি নিজ উদ্যোগে তা নিতে পারবেন। তবে এ সম্পর্কিত খরচ নির্ধারিত পদ্ধতি ও পরিমাণে তাকে পরিশোধ করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে।

আইনের ২৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ও দায়িত্বে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট (বিমা) কোম্পানির নিকট থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে দেবে। 

২৯ ধারায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার কারণে মেট্রোরেল ও তার যাত্রী ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি বা স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা স্থাপনা ও সম্পদের মালিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানানোর ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট (বিমা) কোম্পানির নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায়পূর্বক ওই ব্যক্তি অথবা স্থাপনা ও সম্পদের মালিককে দেবে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষ (লাইসেন্সধারী) যদি মেট্রোরেল ও রেলের যাত্রীর এবং তৃতীয় পক্ষের বিমা না করেন; তাহলে সেটি হবে অপরাধ। এজন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

আইনের ৩৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি মেট্রোরেল ও রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমন কোন কাজ  করেন, তাহলে দণ্ডনীয় অপরাধ হবে। এজন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। 

৩৬ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি অননুমোদিতভাবে মেট্রোরেলের টিকিট বা পাস বিক্রি করে কিংবা টিকিট বা পাস বিকৃত অথবা জাল করে, তাহলে এটিও হবে অপরাধ। সেজন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

অন্যদিকে, মেট্রোরেল আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি টিকিট বা বৈধ পাস ব্যতিরেকে কিংবা অনুমোদিত দূরত্বের অধিক মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন অথবা ভাড়া এড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্য কোনও কৌশল অবলম্বন করেন, তাহলে এসব কাজও অপরাধ বলে গণ্য হবে। 

এ অপরাধে ওই ব্যক্তি মেট্রোরেলের যাতায়াতের ভাড়ার ১০ (দশ) গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবেন। ওই অর্থ অনাদায়ে ক্ষেত্রে অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

আইনের ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, প্ররোচনা দেন বা ষড়যন্ত্র করেন এবং সেই ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটিত হয়, তাহলে সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী কিংবা প্ররোচনাদানকারী নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। 

আর ৪৪ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি এই আইনে উল্লিখিত অপরাধের জন্য দণ্ড ভোগ করার পর পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাহলে তিনি এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে শাস্তি রয়েছে সেটার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই আইনের বিধানগুলোর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইন বা বিধির অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে বলে আইনের ৪৬ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

আর ৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের ধারা ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৭, ৩৮ ও ৪০ এর অধীন অপরাধগুলো মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত করে বিচার করা যাবে।

ভ্রমণ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর