ঢাকা, ১৮ অক্টোবর শুক্রবার, ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৫৯

সম্রাটের অফিস থেকে মদ, ইয়াবা, পিস্তল, ক্যাঙ্গারু চামড়া উদ্ধার

প্রকাশিত: ২১:২৩ ৬ অক্টোবর ২০১৯  


বহুল আলোচিত ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। এদিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, একটি পিস্তল ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

সম্রাটকে সঙ্গে নিয়েই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে রোববার দুপুর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা র‌্যাবের এই অভিযান চলে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রোববার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে।

গেল ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তারা।

গ্রেপ্তারের পর তাদের ঢাকায় র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার অফিসে ঢোকেন একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা।

একই সময় রাজধানীর শান্তিনগরে শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এবং মহখালী ডিওএইচএসের ২৯ নম্বর সড়কে সম্রাটের দুটি বাসায় এবং মিরপুর দুই নম্বর সেকশনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।


কাকরাইলের অফিসে অভিযান শেষে ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, এক হাজারের বেশি ইয়াবা, বেশ কিছু মদের বোতল এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সেখানে কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া গেছে জানিয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, সেগুলো নির্যাতন করার কাজে ব্যবহার করা হত বলে তাদের ধারণা। 

মহাখালীতে অভিযান শেষে র‌্যাব-২ অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ বলেন, সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছাড়াও শারমিনের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ওই বাসায় থাকেন। তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু সেখানে পাওয়া যায়নি।

শারমিন বলেছেন, সম্রাট গত কয়েক বছর ধরে এই বাসায় যান না। তবে প্রতিমাসে দেড় লাখ টাকা করে খরচ দিয়ে আসছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শন্তিনগরের অভিযান শেষ করে সেখানে ‘কিছু টাকা আর ক্রেডিট কার্ড’ পাওয়ার কথা জানিয়ে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, “এর বাইরে সিগনিফিকেন্ট কিছু আমরা পাইনি।”

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক জানান, মিরপুরে আরমানের বাসায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।  

গত মাসের মাঝামাঝিতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। অভিযানে যুবলীগ, কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা র‍্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন সম্রাট দৃশ্যমান ছিলেন। তিনি ফোনও ধরতেন। সে সময় ছয় দিন তিনি কাকরাইলে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করেন। ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সম্রাটের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাকে পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। সেখানেই সবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পর অন্য স্থানে চলে যান সম্রাট। এরপর তার অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

সম্রাটের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, গত ২ বছর ধরে ঢাকার মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যেতেন না যুবলীগের প্রভাবশালী আলোচিত এই  নেতা। তিনি কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে নিজ কার্যালয়ে থাকতেন।

গেল ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করে র‍্যাব। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতারাই মূলত এই ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম দিন ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‍্যাব।

এরপরই গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্লাবটির সভাপতি খালেদ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকেরা মনে করেন, ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক সম্রাট। 


 


এই বিভাগের আরো খবর