ঢাকা, ২১ এপ্রিল রোববার, ২০১৯ || ৮ বৈশাখ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২২

সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:২৩ ২ এপ্রিল ২০১৯  


তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তে কঠোর থাকবে সরকার। তিনি বলেন, সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাত্র।

মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শন সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, টেলিভিশন শিল্পকে বাঁচাতে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার আইন প্রয়োগ শুরু করেছে। কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছে মাত্র।

‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর উপধারা-১৯(১৩) বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় না। শুধু দেশীয় নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের আইন।

তিনি বলেন, ১ এপ্রিল যে দুটি চ্যানেলকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ দুটি চ্যানেল বিদেশি বিজ্ঞাপন নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রচার করছিল। সরকার যা করেছে তা টেলিভিশনের মালিক, সাংবাদিক, কলাকুশলীদের স্বার্থের জন্যই করেছে। কারণ, বাইরের চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করার কারণে বছরে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনেক সাংবাদিক, কলাকুশলী বেতন পাচ্ছেন না। যা করা হচ্ছে তাদের স্বার্থের জন্যই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একই ধরনের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, কন্টিনেন্টাল ইউরোপে, অন্য দেশে আছে। সেসব দেশে এ আইন মানা হয়। বাংলাদেশে আইনটি মানা হচ্ছিল না। প্রয়োগ করা হয়নি। এটি না করার কারণে যেটি হয়েছে- বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত সেই বিজ্ঞাপনের বড় একটা অংশ চলে গেছে ভারতে।

হাছান মাহমুদ বলেন বলেন, আমরা নোটিশ দিয়ে সাতদিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলেছি। সাতদিনের মধ্যে জবাব দিক, এরপর জবাব অনুযায়ী ব্যবস্থা।

চলচ্চিত্র সমাজের দর্পন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র হচ্ছে শিল্প। বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্র চলে আসছে। চলচ্চিত্র মানুষকে বিনোদন দেয়। সংস্কৃতির অগ্রাসীয় থাবায় এবং আমাদের দেশে আগের মতো সিনেমা নির্মিত না হওয়ায় হলগুলো বন্ধ হওয়ার পথে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে হবে। আর চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে সিনেমা হলগুলোও রাখতে হবে। তা না হলে সিনেমা নির্মিত হলে তা চলবে কোথায়? আর চলচ্চিত্র নির্মিত না হলে নতুন নতুন শিল্পীও তৈরি হবে না। তাই আমাদের সিনেমা হলগুলোকে বাঁচাতে হবে।

বৈঠকে তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শন সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, সংগঠনের উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, সহসভাপতি আমির হামজা, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরো খবর