ঢাকা, ২৪ জুন সোমবার, ২০২৪ || ১১ আষাঢ় ১৪৩১
good-food
৪২৩

হামাসের হাতে বন্দি প্রেমিকা, মুক্তির আশায় দিন গুনছেন প্রেমিক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:০৩ ২৩ অক্টোবর ২০২৩  

ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হাতে বন্দি প্রেমিকা! ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২ সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল। এই ক’দিনে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গেছে চব্বিশ বছরের যুবকের। কীভাবে প্রেমিকাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টাই করছেন আপ্রাণ। হামাসের কাছে তার কাতর অনুরোধ, প্রেমিকাকে বাঁচিয়ে রাখুক!

 

ইনবার হাইম্যান, নামে ওই তরুণী গত ৭ অক্টোবর ছিলেন নোভার মিউজিক ফেস্টিভ্যালে। ওই ফেস্টিভ্যালের ভলান্টিয়ার হয়ে ভিড় সামলাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই হামাস গোষ্ঠীর হানা। গানের মধুর সুর পাল্টে যায় বিষাদে। দর্শকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, পালানোর চেষ্টা করেন সবাই। কিন্তু তাদের মধ্যেই কেউ কেউ হামাসের হাতে বন্দি হন। সেই তালিকায় ছিলেন ইনবারও। 

 

ওই তরুণীর প্রেমিক নোয়াম অ্যালন সেদিন অনুষ্ঠানে ছিলেন না। হামাস হানার খবর পেয়েই প্রেমিকার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন তিনি। খোঁজ খবর শুরু করেন। অনেক চেষ্টার পর জানতে পারেন, তার প্রেমিকা ধরা পড়ে গেছেন। তার কয়েকদিন বাদেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ইনবারকে দুই হামাসপন্থি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই ভিডিও আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে নোয়ামের।

 

সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে প্রেমিকার কথা বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদেই ফেলেন নোয়াম। তার অনুরোধ, ‘আমি ওদের (হামাস গোষ্ঠী) বলব ইনবারের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে আর মেরে না ফেলতে। আমি বেশি কিছু আশা করছি না। শুধু এইটুকু মনুষত্ব চাই। সমস্ত পণবন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার, জল ও চিকিৎসা যেন দেওয়া হয়।’

 

ইসরায়েল সরকার ও মার্কিন সরকারের কাছে নোয়ামের কাতর অনুরোধ, সব বন্দিকে সুস্থ সবলভাবে যেন ফিরিয়ে আনে। তিনি এটাও বলেন, 'ইসরায়েল সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছে এখন বন্দিরাই মূল প্রাধান্য পাচ্ছে। যা দেখে ভালো লাগছে।’

 

শেষে নোয়াম এইটুকুই বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ইনবার ফিরে আসবেই...।’ প্রেমিকাকে ফিরিয়ে আনতে কোনও সুযোগই নষ্ট করছেন না নোয়াম। ইনবারের গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সর্বত্র। গ্রাফিতি করে হোক বা ছবিতে ছবিতে ইনবারের গল্প এখন শহরের কোণায় কোণায়।

 

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তাদের এ নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। হামলায় আহত হয়েছেন ১৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

 

যদিও ইসরায়েল দাবি করছে তারা হামাসের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে হামাসের যোদ্ধাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গাজার বেসামরিক মানুষ।

ফিচার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর