ঢাকা, ২৯ মার্চ রোববার, ২০২৬ || ১৫ চৈত্র ১৪৩২
good-food
১৬

হাম কী, কেন ঝুঁকিপূর্ণ: সুরক্ষার উপায় জানুন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:০৪ ২৯ মার্চ ২০২৬  

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় এর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে শুধু রাজশাহী নয়, দেশের অন্তত সাত জেলায় ইতোমধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসেই হামে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও হামকে সাধারণ জ্বর-সর্দি ভেবে অবহেলা করছেন। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

হাম কী এবং কেন ঝুঁকিপূর্ণ

হাম হলো অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন, তবে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই ৮-১০ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন- যা এর সংক্রমণ ক্ষমতার ভয়াবহতা তুলে ধরে।

যেভাবে ছড়ায়
হাম আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভাইরাস শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন।

উপসর্গ কীভাবে বুঝবেন?
প্রাথমিকভাবে লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বরের মতো হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। শুরুতে দেখা যায়- উচ্চ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি ও চোখ লাল হওয়া।

কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (র‍্যাশ) দেখা দেয়, যা সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, খাওয়ার অনীহা এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কতটা মারাত্মক হতে পারে
হামকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) সৃষ্টি করতে পারে। অপুষ্ট বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

টিকা নিশ্চিত করুন: নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর ভ্যাবসিন দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখুন নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন ও শিশুদের ভিড় এড়িয়ে রাখুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন?
শিশুর জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সতর্কতা এখনই
হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। একজন আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে একটি পরিবার বা স্কুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। টিকা গ্রহণে অবহেলা বা সচেতনতার ঘাটতি থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে- হাম প্রতিরোধযোগ্য হলেও অবহেলা করলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সময়মতো টিকা এবং সতর্কতাই পারে এই ঝুঁকি কমাতে।

তথ্যসূত্র- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইইডিসিআর বাংলাদেশ।