করোনা : কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে শরীরকে ?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২১:৫৬ ৩ এপ্রিল ২০২০
কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম জানা গিয়েছিল গেল বছরের ডিসেম্বরে। এরই মধ্যে এই ভাইরাস এবং এর ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর মহামারি সামাল দিতে হচ্ছে বিশ্বকে।
অধিকাংশ মানুষের জন্যই এই রোগটি খুব ভয়াবহ নয়, কিন্তু অনেকেই মারা যায় এই রোগে।
ভাইরাসটি কীভাবে দেহে আক্রমণ করে, কেন করে, কেনই বা কিছু মানুষ এই রোগে মারা যায়?
'ইনকিউবেশন' বা প্রাথমিক লালনকাল
এই সময়ে ভাইরাসটি নিজেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করে।
আপনার শরীর গঠন করা কোষগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার মাধ্যমে কাজ করে ভাইরাস।
করোনাভাইরাস, যার আনুষ্ঠানিক নাম সার্স-সিওভি-২, আপনার নি:শ্বাসের সাথে আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে (আশেপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে) বা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেয়ার পর আপনার মুখে হাত দিলে।
শুরুতে এটি আপনার গলা, শ্বাসনালীগুলো এবং ফুসফুসের কোষে আঘাত করে এবং সেসব জায়গায় করোনার কারখানা তৈরি করে। পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং আরো কোষকে আক্রান্ত করে।
এই শুরুর সময়টাতে আপনি অসুস্থ হবেন না এবং কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো উপসর্গও দেখা দেবে না।
ইনকিউবেশনের সময়ের - প্রথম সংক্রমণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়ার মধ্যবর্তী সময় - স্থায়িত্ব একেকজনের জন্য একেক রকম হয়, কিন্তু গড়ে তা পাঁচদিন।
নিরীহ অসুখ
অধিকাংশ মানুষের অভিজ্ঞতায় করোনাভাইরাস নিরীহ অসুখই মনে হবে।
দশজনে আটজন মানুষের জন্যই কোভিড-১৯ একটি নিরীহ সংক্রমণ এবং এর প্রধান উপসর্গ কাশি ও জ্বর।
শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা এবং মাথাব্যথাও হতে পারে, তবে হবেই এমন কোনো কথা নেই।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার ফলে গায়ে জ্বর আসে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে শত্রুভাবাপন্ন একটি ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করে এবং বাকি শরীরে সাইটোকাইনস নামক কেমিক্যাল পাঠিয়ে বুঝিয়ে দেয় কিছু একটা ঠিক নেই।
এর কারণে শরীরে ব্যথা ও জ্বরের মত উপসর্গ দেখা দেয়।
প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের কারণে শুষ্ক কাশি হয়। কোষগুলো ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার কারণে অস্বস্তিতে পড়ার কারণে সম্ভবত শুকনো কাশি হয়ে থাকে।
তবে অনেকের কাশির সাথেই একটা পর্যায়ে থুথু বা কফ বের হওয়া শুরু করবে যার মধ্যে ভাইরাসের প্রভাবে মৃত ফুসফুসের কোষগুলোও থাকবে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর তরল পান করা এবং প্যারাসিটামল খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয় না।
এই ধাপটি এক সপ্তাহের মত স্থায়ী হয়। অধিকাংশ মানুষই এই ধাপের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করে কারণ ততদিনে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে সেটিকে প্রতিহত করে ফেলে।
তবে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এর আরো ক্ষতিকর একটি সংষ্করণ তৈরি হয়।
এই রোগ সম্পর্কে হওয়া নতুন গবেষণায় ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যে রোগটির এই ধাপে আক্রান্তদের সর্দিও লাগতে পারে।
ভয়াবহ ব্যাধি
এই ধাপের পর যদি রোগ অব্যাহত থাকে, তা হবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটি সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ায়।
যেই কেমিক্যালগুলো শরীরে বার্তা পাঠাতে থাকে, সেগুলোর প্রতিক্রিয়া তখন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ হয়।
লন্ডনের কিংস কলেজের ডক্টর নাথালি ম্যাকডরমেট বলেন, "রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় ভাইরাসটি। এর ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় ফুলে যায় শুরু হয়। কীভাবে এটি ঘটছে, তা আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না।"
ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হওয়াকে নিউমোনিয়া বলে।
আপনার মুখ দিয়ে প্রবেশ করে শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসের ছোট টিউবগুলোয় যদি যাওয়া যেত, তাহলে আপনি হয়তো শেষপর্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের বায়ুথলিতে গিয়ে পৌঁছাতেন।
এই থলিগুলোতেই রক্তে অক্সিজেন যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়। কিন্তু নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষুদ্র থলিগুলো পানি দিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে এবং ফলস্বরুপ শ্বাস নিতে অস্বস্তি তৈরি করা, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যার মত উপসর্গ তৈরি করে।
কিছু মানুষের শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরও প্রয়োজন হয়।
চীন থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, এই ধাপে ১৪% মানুষ আক্রান্ত হয়।
অতি জটিল রোগ
এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে যে প্রায় ৬% করোনাআক্রান্ত ব্যক্তির রোগ অতি জটিল পর্যায়ে যায়।
এই ধাপে শরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে অসক্ষম হয় এবং মৃত্যুর বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
মূল সমস্যাটা হয়, এই ধাপে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে এবং সারা শরীরেই বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে।
রক্তচাপ যখন মারাত্মকভাবে নেমে যায় তখন এই ধাপে সেপটিক শক পেতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি, এমনকি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র সমস্যা হওয়ার উপসর্গ দেখা দেয় ফুসফুসে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়লে, কারণ সেসময় শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট অক্সিজেন পুরো শরীরে প্রবাহিত হতে পারে না। এর ফলে কিডনি রক্ত পরিশোধন ছেড়ে দিতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
ডাক্তার ভারত পঙ্খানিয়া বলেন, "ভাইরাসটি এত বড় পরিসরে প্রদাহ তৈরি করে যে শরীর পুরো ভেঙ্গে পড়ে, একসাথে একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফেইল করে।"
এ পর্যায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি ভাইরাসের সাথে পেরে না ওঠে তাহলে তা শরীরের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।
এ পর্যায়ে আক্রান্তকে চিকিৎসা দিতে ইসিএমও বা এক্সট্রা-কোর্পোরেয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।
এই পদ্ধতিতে একটি কৃত্রিম ফুসফুস দ্বারা টিউবের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করে নিয়ে সেই রক্ত অক্সিজেনপূর্ণ করে আবার শরীরে প্রবেশ করানো হয়।
তবে ক্ষতির মাত্রা বেশি হলে কখনো কখনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীরকে আর বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয় না।
চিকিৎসা
যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোন টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো নেই, এবং এমন কোন চিকিৎসা নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে।
রক্ষার উপায়
একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে বা এ ভাইরাস বহন করছে - তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
তা ছাড়া ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন বার বার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এ নির্দেশনায় বলছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, বার বার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষবেন না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে।
"আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন" - বলেন তিনি।
উহান শহরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসাকর্মী নিজেরাই এতে আক্রান্ত হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও অনেকসময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
চীনের উহান শহরের জিনইনতান হাসপাতালে মারা যাওয়া প্রথম দু'জন আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ছিলেন, যদিও তারা দু'জনই দীর্ঘসময় ধরে ধূমপান করতেন।
প্রথম যিনি মারা গিয়েছিলেন, ৬১ বছর বয়সী এক পুরুষ, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার তীব্র নিউমোনিয়া ছিল।
তার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা ছিল, এবং ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তার ফুসফুস বিকল হয়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।
হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর ঐ ব্যক্তি মারা যান।
৬৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় যে ব্যক্তি মারা যান তারও শ্বাস প্রশ্বাসে ব্যাপক সমস্যা ছিল।
তাকেও একটি ইসিএমও মেশিনের সহায়তা দেয়া হয়, কিন্তু তবুও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রক্তচাপ কমে যাওয়ার পর তীব্র নিউমোনিয়া ও সেপটিক শকে মারা যান তিনি।
- বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ
- ঘুম ভাঙা মাত্রই মোবাইলে চোখ, কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন?
- যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- সীমান্তে বিএসএফের ১০ পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
- শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ
- প্রতিদিন কেন সাইক্লিং করবেন? রইল ৫ কারণ
- ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি
- ফের বিয়ে করছেন আমির খান, পাত্রী কে
- নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ফাইনালে বাংলাদেশ
- হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ছাড়ালো ৬০০
- খুলনায় বিরল প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান
- মমতাজউদ্দীন আহমদের চলে যাওয়ার দিন
- নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে ‘গালাগাল’ ট্রাম্পের
- এলপিজির দাম কমলো
- আদালতে অঝোরে কাঁদলেন রামিসার মা
- যে ৭ অভ্যাস সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে
- বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত সৌদির, আছেন যারা
- FIFA World Cup 2026: A Grand Continental Celebration Begins
- রক্তচাপের আড়ালে কি লুকিয়ে হাইপারটেনশন? জানুন সংকেত
- কোরবানির ঈদ: অতিরিক্ত মাংস খেলে হবে যেসব সমস্যা
- পুরুষরা বেশি হাসেন নাকি মহিলারা?
- ঐশ্বরিয়াকে কটাক্ষ, ফুঁসে উঠলেন কঙ্গনা
- মেসির বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কা
- গরমে যে ডাল রোজ খেতে পারেন
- মুক্তির অনুমতি পেল শাকিব খানের ‘রকস্টার’
- রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: অভিযোগপত্র গ্রহণ, বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ
- ঈদ: জমজমাট মসলার বাজার, ভেজালের শঙ্কা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে, খসড়ায় যা আছে
- মেসি, এমবাপ্পে, রোনালদো ও নেইমারের সঙ্গে তুলনায় না ইয়ামালের
- FIFA World Cup 2026: A Grand Continental Celebration Begins
- নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে ‘গালাগাল’ ট্রাম্পের
- যে ৭ অভ্যাস সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে
- মমতাজউদ্দীন আহমদের চলে যাওয়ার দিন
- প্রতিদিন কেন সাইক্লিং করবেন? রইল ৫ কারণ
- আদালতে অঝোরে কাঁদলেন রামিসার মা
- হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ছাড়ালো ৬০০
- ফের বিয়ে করছেন আমির খান, পাত্রী কে
- ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি
- এলপিজির দাম কমলো
- খুলনায় বিরল প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান
- নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ফাইনালে বাংলাদেশ
- বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত সৌদির, আছেন যারা
- শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ
- সীমান্তে বিএসএফের ১০ পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
- যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঘুম ভাঙা মাত্রই মোবাইলে চোখ, কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন?
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাপ্পারাজ
- বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা










