ঢাকা, ০৭ নভেম্বর শনিবার, ২০২৬ || ২২ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৬

গেম খেলে মানুষকেও টেক্কা দিচ্ছে এসব প্রাণী!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৫:১৯ ৭ নভেম্বর ২০২৬  

ভিডিও গেম খেলার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিশোর-তরুণ বা গেমারদের ছবি। কিন্তু আপনি কি জানেন, পর্দায় চোখ রেখে জয়স্টিক নাড়াতে বা টাচস্ক্রিনে দক্ষ আঙুল ছোঁয়াতে শুধু মানুষই পারে না? বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে তাক লাগানো এক তথ্য। গবেষণাগারে বিভিন্ন প্রজাতির বুদ্ধিমান প্রাণীকে গেম খেলতে শেখানো হয়েছে এবং তারা মানুষের মতোই বুদ্ধিমত্তা ও একাগ্রতার সাথে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় গেম খেলে বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু বিস্ময়কর প্রাণী সম্পর্কে।

শিম্পাঞ্জি ও বোনোবো (মানুষের চেয়েও দ্রুত!)

মানুষের সবচেয়ে কাছের প্রজাতি হিসেবে শিম্পাঞ্জি ও বোনোবোদের বুদ্ধিমত্তা অনেক আগেই প্রমাণিত। তবে ভিডিও গেমে তাদের দক্ষতা সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি হতে পারে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আইয়ুমু’ (Ayumu) নামের একটি শিম্পাঞ্জি টাচস্ক্রিনে সংখ্যার মেমোরি গেমে অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। পর্দায় চোখের পলকে একের পর এক এলোমেলো সংখ্যা ফুটে উঠে মুছে যাওয়ার পরও আইয়ুমু নির্ভুলভাবে ১ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা মনে রেখে চাপতে পারত যে গতিতে সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া বিখ্যাত বোনোবো ‘কাঞ্জি’ জয়স্টিক দিয়ে মেজ (ধাঁধা) সমাধান এবং ভার্চুয়াল শিকারের মতো গেম অনায়াসেই খেলতে পারত।

ম্যাকাক বানর ‘পেজার’ (ব্রেন চিপ দিয়ে গেম জয়!)

ইলন মাস্কের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘নিওরালিংক’-এর এক গবেষণায় ‘পেজার’ নামের একটি ম্যাকাক বানর ইতিহাস তৈরি করে। শুরুতে তাকে জয়স্টিক দিয়ে কম্পিউটারের পর্দায় ‘মাইন্ড পং’ (MindPong) নামের ক্লাসিক গেম খেলা শেখানো হয়। গেমটিতে বল ঠেকাতে পারলেই স্ট্র দিয়ে পেজারের মুখে দেওয়া হতো সুস্বাদু কলার স্মুদি। পরবর্তীতে পেজারের মাথায় বসানো চিপের সাহায্যে জয়স্টিক সরিয়ে নেওয়া হলেও সে শুধু ‘মনের ভাবনায়’ নিখুঁতভাবে পর্দায় বল ঠেকিয়ে গেমটি খেলে পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।

ডলফিন (পানির নিচে টাচস্ক্রিন গেমিং)

সমুদ্রের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী ডলফিন। মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষক ও জীববিজ্ঞানীরা পানির নিচে এক ধরনের বিশেষ জলরোধী টাচস্ক্রিন তৈরি করে ডলফিনদের সামনে রাখেন। ডলফিনরা তাদের নাক বা মুখের ডগা দিয়ে স্ক্রিন স্পর্শ করে ধাঁধাযুক্ত গেম, ডিজিটাল গোলকধাঁধা এবং চলমান বস্তুকে তাড়া করার গেম সফলভাবে খেলতে পেরেছে। স্ক্রিনের কোনো চ্যালেঞ্জে জিতলেই তাদের উপহার হিসেবে দেওয়া হতো পছন্দের মাছ।

শূকর (নাক দিয়ে জয়স্টিক চালানো!)

শূকরকে অনেকেই কেবল অলস প্রাণী মনে করেন, কিন্তু তাদের বুদ্ধি কুকুরের চেয়েও বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ‘হ্যামলেট’ ও ‘অমলেট’ নামের দুটি শূকরকে ভিডিও গেম খেলা শিখিয়েছিলেন। তারা হাত নয়, বরং তাদের ভারী নাক দিয়ে একটি বিশেষ জয়স্টিক চেপে স্ক্রিনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বল পাঠাত। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, তারা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল যে তাদের নাকের নড়াচড়ার সাথে পর্দার কার্সরের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

কবুতর (স্ক্রিনে ঠোকর দিয়ে পয়েন্ট লাভ)

কবুতরের মস্তিষ্ক খুব ছোট হলেও ভিজ্যুয়াল টার্গেট ট্র্যাক করায় এরা দারুণ পটু। বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় কবুতরকে টাচস্ক্রিনে ছোট ছোট ভার্চুয়াল কীট বা জ্যামিতিক বস্তুর ওপর ঠোকর মেরে ধ্বংস করার ভিডিও গেম খেলতে দেখা গেছে। স্ক্রিনে চলমান কোনো বস্তু কোথায় গিয়ে থামবে, তা আঁচ করে আগেই সেখানে ঠোকর দিতে সক্ষম এরা।

প্রাণীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা এই গেমগুলো তৈরি করেননি। মূলত প্রাণীদের স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মস্তিষ্কের গঠন এবং ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) কতটা সফলভাবে কাজ করে, তা জানার জন্যই এই চমকপ্রদ গেমিং পরীক্ষাগুলো চালানো হচ্ছে।