ঢাকা, ০৭ নভেম্বর শনিবার, ২০২৬ || ২২ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৫

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় কোন কোন খাবার খেলে ভালো?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৫:১৭ ৭ নভেম্বর ২০২৬  

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কিন্তু চিকিৎসক যখন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে বলেন, তখন কি কোনো নিয়ম মেনে চলেন?

ব্রিটিশ চিকিৎসক ও টিভি বিশেষজ্ঞ ডা. আমির খান অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু সংক্রমণের জীবাণুকেই মারে না, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকেও নষ্ট করে দিতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় পেটের সমস্যা এড়াতে ৫টি টিপস দিয়েছেন তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিকে পেটের ক্ষতি হয় কেন?

ডা. আমির খানের ব্যাখ্যা, অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর জীবাণুর পাশাপাশি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকেও নষ্ট করে দিতে পারে। এর জেরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি এড়াতে তিনি পাঁচটি নিয়ম মানার কথা বলেছেন।

প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ বা হাঁচি-কাশির সমস্যায় অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। গুরুতর সমস্যা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক যে অ্যান্টিবায়োটিক লিখবেন, সেটাই খাওয়া উচিত। অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অন্ত্র, ভ্যাজাইনা ও ত্বকের মাইক্রোবায়োমেরও ক্ষতি হতে পারে।

খাদ্যতালিকায় প্রিবায়োটিক খাবার বাড়ান

অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন এবং কোর্স শেষের পরে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে প্রিবায়োটিক খাবার। এগুলো অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে রসুন, পেঁয়াজ ও কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

প্রোবায়োটিক খাবার খান

প্রিবায়োটিকের পাশাপাশি ডায়েটে রাখুন প্রোবায়োটিকও। এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দই, কিমচি, ঘোলের মতো খাবার খেতে পারেন। যে খাবার ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে তৈরি হয়, তাতেই সাধারণত প্রোবায়োটিক থাকে।

রঙিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ খাবার

বিভিন্ন রঙের শাকসব্জি ও ফল খাওয়ার কথা বলেছেন ডা. আমির খান। খাবারে রঙের বৈচিত্র্য ও ফাইবারের পরিমাণ যত বেশি হবে, তাতে ভিটামিন ও খনিজও তত বেশি মিলবে। তা ছাড়া ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার জন্যও উপকারী।

প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান

চিকিৎসক আমির খানের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত অন্ত্র সারিয়ে তুলতে পরিবেশেরও বড় ভূমিকা আছে। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, বাগান করার মতো কাজে নানা রকম উপকারী মাইক্রোবায়োমের সংস্পর্শে আসা যায়, যা অন্ত্রের পক্ষে ভালো। তাই শরীর সুস্থ বোধ করলে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডিসক্লেইমার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না। ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর