ঢাকা, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২৬ || ১ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৭

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:০২ ১৬ অক্টোবর ২০২৬  

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ থাকলেও সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রান্তিক দশায় পৌঁছানো মানুষদেরও স্বাবলম্বী করা সম্ভব হবে বলে সংস্থা দুটি মূল্যায়ন করেছে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে।

উপদেষ্টা ড. তিতুমীর জানান, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয় অনেক বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অতীতের লাগাতার মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এ সংকট উত্তরণে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছে। স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাছাইয়ের অনিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন অনেকে সহায়তা পেতেন যাদের প্রয়োজন ছিল না, অথচ প্রকৃত দুস্থরা বঞ্চিত হতেন। বর্তমান সরকার এই দুর্বলতা দূর করতে ‘ডিজিটাল জনপরিকাঠামো’ (ডিপিআই) ব্যবহার করছে, যাতে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সহায়তা প্রকৃত প্রাপকের কাছে পৌঁছায়। নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেবল কঠোর মুদ্রানীতিই যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে ড. তিতুমীর বলেন, এর পাশাপাশি রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। কর ফাঁকি ও পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় ইতিবাচক ফল আসতে শুরু করেছে। গত অর্থবছরে সামগ্রিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিল মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশে।

আইএমএফের বিভিন্ন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শর্ত ও সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে এসব পূর্বাভাস বুঝতে হবে। বিশেষ করে সংস্কার না হলে কী পরিণতি হতে পারে, তা-ও পূর্বাভাসে উঠে আসে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান সরকার দৃশ্যমান সংস্কারের মাধ্যমে সেই সংশয় দূর করছে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটের কারণে ব্যাংক খাতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরকার এখন আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কথা উল্লেখ করে জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটিতে গ্রাহকেরা স্বাভাবিক লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন, পাশাপাশি নতুন আমানতও আসছে। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাকেও তিনি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও রাসায়নিক সারের বৈশ্বিক আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংকটে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা না থাকলেও সরকার জনগণের ওপর এর সরাসরি চাপ কমাতে কাজ করছে। কৃষকদের সুরক্ষা দিতেই সরকার ডিজেলের দাম না বাড়ানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র এবং আঞ্চলিক রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ব্যাংককের কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর