ঢাকা, ০৮ জুলাই বুধবার, ২০২৬ || ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

মিশরের গোল বাতিল ও ভিএআর বিতর্কে যে যা বলছেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১৪ ৮ জুলাই ২০২৬  

শেষ ষোলোয় দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লা আলবিসেলেস্তেরা। তবে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে এই ম্যাচে গোল বাতিল ও ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে চায়ের দোকানে চলছে বিতর্ক, আলোচনা ও সমালোচনা। 

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান মিশরের মোস্তফা জিকো। কিন্তু অনেক্ষণ পর ভিএআর পরীক্ষার পর ফাউল দিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এরপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ধাক্কায় হামদি ফাতহির পড়ে যাওয়া ও হুলিয়ান আলভারেসের ট্যাকলে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবি—সবকিছুই যেন ম্যাচের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক নাকি ভুল এ নিয়ে চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ। ভিএআরের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও চলছে আলোচনা। এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমী, ভক্ত, বিশ্লেষণ, সাবেক খেলোয়াড় ও রেফারিরাও মন্তব্য করেছেন। কে কী বললেন এই ম্যাচের বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সেটিই দেখা যাক—

অ্যান্ডি ডেভিস (সাবেক রেফারি): মারওয়ান আত্তিয়ার স্পষ্ট ফাউলের কারণে আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়। সেই ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবেই মিশর গোলটি করেছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করায় সঠিক সিদ্ধান্ত। 

গ্রাহাম স্কট (সাবেক রেফারি): মিশরের গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। মোস্তফা জিকোর করা গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর আত্তিয়ার চ্যালেঞ্জটি ছিল খুবই স্বাভাবিক শারীরিক বিষয়। 

মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ (সাবেক রেফারি): মাঠের রেফারি যখন সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছেন, তখন ভিএআরের মাথা ঘামানোর কোনো সুযোগই নেই। ফাউল ছিল কি না, তা সম্পূর্ণ মাঠের রেফারির তাৎক্ষণিক বিবেচনার বিষয়। এটি মোটেও স্পষ্ট ফাউল ছিল না। ভিএআর একটু বেশিই চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে এবং মিসরের গোলটি বাতিল করতে তারা যেন ম্যাচের মধ্যে খুঁত খুঁজেছে।

ইয়ান রাইট (ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের সাবেক ফরোয়ার্ড): যদি আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে বক্সের প্রান্তে ফাউলের জন্য আগের ঘটনা টেনে এনে গোল বাতিল করতে পারেন, তবে সালাহর ঘটনার জন্যও আপনাকে আগের ঘটনা টেনে দেখতে হবে। তাকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা যা-ই বলি না কেন, আঘাতটি হয়তো সামান্য ছিল, কিন্তু তাকে আঘাত করা হয়েছে এবং এরপরই তারা মাঠের অপর প্রান্তে চলে যায় (গোল করে)। 

জেমি ক্যারাঘার (ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার): আমি বলতে পারি, এটি যদি অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হতো, তবে (মিসরের গোল) গোল হিসেবেই গণ্য করা হতো। এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা সিরি আতে হতো, তবে ভিএআর পর্যালোচনার পরও এটি গোলই থাকত। শেষ দিকে এসে এই টুর্নামেন্টে প্রচুর অধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

অ্যালান শিয়ারার (ইংল্যান্ড ও নিউক্যাসলের সাবেক স্ট্রাইকার): হয় দুটিই ফাউল, না হয় একটিও ফাউল নয়। কিন্তু তারা আমাদের বলেছিল যে, তারা নতুন করে রেফারিং (মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন) করবে না।

হোসাম হাসান (মিশরের কোচ): ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কারণ, তিনি ফরাসি। ম্যাচের আগে একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল এবং এর ফল আমাদের ভোগ করতে হয়েছে। ম্যাচের আগে ও ম্যাচ চলাকালীন দুই সময়েই ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।’ 

মোস্তফা জিকো (মিশরের ফরোয়ার্ড): রেফারি অন্যায় করেছেন। তিনি একেবারেই ন্যায্য ছিলেন না। এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্যই নির্ধারিত।