ঢাকা, ১২ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২৮ পৌষ ১৪৩২
good-food
১৬

মোসাব্বিরকে হত্যা ব্যবসার দ্বন্দ্বে: ধারণা ডিবির

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৩১ ১১ জানুয়ারি ২০২৬  

ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ও পায়নি ডিবি।

রবিবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে।”

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, জিন্নাত, মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজ।

আসামি শনাক্তের পর ডিবির একাধিক টিম ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়েছে। 

শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযানে দুই জন শুটার এবং জিন্নাত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেনও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিল্লালের বাবা শহীদুল্লাহ ও তার চাচা আব্দুল কাদির- যিনি ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করেছিলেন, তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ঘটনার আগে আসামিরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছিল এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণে সহযোগিতা করেছিল মো. রিয়াজ নামের একজন; তাকে ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “আসামিদের কাছ থেকে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে আসামিরা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত এখনো চলছে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।

হত্যায় অপরাধজগতের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভিকটিম (ভুক্তভোগী) রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি।”

মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামি

আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, “তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এখানে দুই ভাই গ্রেপ্তার আছে এবং তাদের আরেক ভাই পলাতক, যিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ড ব্যবসা কেন্দ্রিক।”

“এর বাইরে আরও কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিকটিম রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, তাই রাজনৈতিক কারণ ছিল কি না তা আমরা তদন্ত করব।” 

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, “আসামিদের ব্যবসা রয়েছে কারওয়ান বাজারে, তবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল।”

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরেকজন শুটার রহিম এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের জন্য বিদেশ থেকে ১৫ লাখ টাকা আসার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেকগুলো বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে এটিও রয়েছে। কিছুদিন আগে মোসাব্বির একটি মানববন্ধন করেছিল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, যেখানে মারামারি হয়েছিল এবং মামলা হয়েছে।”

বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বন্দুকধারীরা মোসাব্বিরকে গুলি করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কয়েকবার কারাগারে ছিলেন।

ঘটনার পরদিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সম্প্রতি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, মোসাব্বির কয়েক দিন ধরে জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর