ঢাকা, ১৯ জুন বুধবার, ২০২৪ || ৫ আষাঢ় ১৪৩১
good-food
১৬৬

ইউটিউব দেখে পেঁয়াজ চাষে সফল শিক্ষার্থী মুনিরুল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১১:৪৩ ২২ এপ্রিল ২০২৪  

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউটিউব দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন শিক্ষার্থী মো. মনিরুল ইসলাম। তার এই উদ্যোগ কৃষক ও তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। মৌসুমে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজ চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় ফলন পেয়েছেন ১২০ মণ। সব মিলে ১০ বিঘায় প্রায় ১০০০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছেন।

 

ইতিমধ্যে প্রতি মণ ২০০০ টাকায় ১৭০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন মনিরুল। বাজার এ অবস্থায় থাকলে এই মৌসুমে ১০ থেকে ১৫  লাখ টাকা লাভ হবে এমনটাই ভাবছেন তিনি। এছাড়া আরও ৩ বিঘা জমিতে রসুন এবং এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করেছেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন গরু ও ছাগলের খামার।

 

মনিরুল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র। গেল অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষাবাদ করেও সফলতা পেয়েছিলেন তিনি। চাষবাস প্রসঙ্গে মনিরুল বললেন, ইউটিউব দেখে চাষাবাদ শুরু করেছি। পেঁয়াজ চাষে সফলতা পেয়েছি। রোপণ, পরিচর্চা, জমির ইজারাসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকার মতো। প্রতি বিঘায় প্রায় ১২০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছি, যা বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করলে খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ থাকবে।

 

২০১৫ সালে এসএসসি পাসের পরই মনিরুল বাবার সঙ্গে চাষাবাদ শুরু করেন। পড়াশুনার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ চাষাবাদ করেছেন। কবুরাট মাঠে গিয়ে দেখা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। মনিরুলের বাড়িতেও ভিন্ন চিত্র। ২০ জন নানা বয়সের মহিলা পেঁয়াজ কাটা-বাছা করছেন। মনিরুল কখনো মাঠে যাচ্ছেন, কখনো বাড়িতে পেঁয়াজ কাটা-বাছা করছেন। কখনো গরু-ছাগলের খাবার দিচ্ছেন।

 

মনিরুল জানান, কৃষিভিত্তিক পড়াশোনা করে আধুনিক কৃষক হতে চান। সে জন্য ইউটিউব দেখে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৫ সালে মাত্র ১৬ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছিলেন। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার চাষাবাদ বাড়তে থাকে। এ বছর ১০ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের চাষ করেছেন। চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়িতে গরু-ছাগলের খামার তৈরির চেষ্টা করছেন। এখন তার ৪টি গরু ও ১৭টি বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে।

 

শহিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, মনিরুলের চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছে। অনেকের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছেন মনিরুল। ছেলে বড় হয়ে সরকারি চাকরি করবেন এ জন্য পড়াশোনা করিয়েছিলেন বলে আক্ষেপ করেন তার মা মনিকা খাতুন। তিনি জানান, চাষে ভালো ফলন হচ্ছে। অনেকেই তাদের বাড়িতে কাজ করছে। অনেক টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। তাই চাকরির জন্য আর দুঃখ হয় না, আগে আফসোস করতাম এখন ভালোই লাগে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদ করে ছাত্রজীবনেই সফল হয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম। বর্তমানে শিক্ষিতদের আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ। ইউএনও মাহবুবুল হক জানান,  মনিরুলের মতো অন্যান্য তরুণ ও যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সাকসেস স্টোরি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর