ঢাকা, ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার, ২০২১ || ৭ বৈশাখ ১৪২৮
good-food
১১৩

উৎসব করে অন্যের বউ চুরি আর অপহরণ!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:১১ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিত হয় বিভিন্ন রীতি। যার অনেক কিছুই আমাদের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক নয়। আমাদের কাছে যা অস্বাভাবিক সেগুলোই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটা করে পালন হয়। 

 

বিয়ে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অদ্ভুত সব রীতি-নীতি। যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিয়ে নিয়ে সবারই কমবেশি স্বপ্ন থাকে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান রয়েছে; যেখানে বিয়ে মানেই নানা রকম পরীক্ষা দেওয়া।

 

অন্যের স্ত্রীকে চুরি করে পালানো অত:পর বিয়ে। এমন সব অদ্ভুত রীতিও পালিত হয়েছে আসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমন বিয়ের রীতিকে উৎসব মনে করা হয়। 

 

শুধুমাত্র বউ চুরিই নয়, অপহরণ - এমনকি ধর্ষণের মাধ্যমে বিয়েতে রাজি করানোর মতো নানান প্রথাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলন রয়েছে।

 

বিশ্বজুড়ে প্রাগৈতিহাসিক সময়কাল থেকেই চলে আসছে ব্রাইড কিডন্যাপিং বা বধূ অপহরণ। বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মেক্সিকো, ইউরোপ এবং আমাজন জঙ্গলের উপজাতিদের মধ্যে অতীতকাল থেকেই প্রচলিত ব্রাইড কিডন্যাপিং। বর্তমানে ককেশাস এবং মধ্য এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এ ধরনের রীতি।

 

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কনে অপহরণের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া হয়। যা যৌন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এসব রীতি-নীতি আইনবিরোধী হলেও সামাজিক রীতি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তা পালিত হয়ে আসছে।  

 

ঠিক তেমনই অন্যের বউকে চুরি করে পালানো, এরপর তাকে বিয়ে করার বিষয়টি বড়ই অদ্ভুত। এমন আজব এক রীতিকে আবার উৎসব হিসেবে পালন করছে অনেক দেশ।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন রীতির প্রচলন রয়েছে। যা জানলে আপনি অবাক হবেন বৈ-কি, ঘৃণাও জন্মাবে তাদের ওপর। কারণ নারীকে শুধু অপহরণই নয়, বরং ধর্ষণ করার মাধ্যমেও বিয়েতে রাজি করানো হয়।

 

বিয়ের অনেক রকম অদ্ভুত রীতি অনেক জায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক রীতি আছে যা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। আফ্রিকার দেশগুলোতে যেসব উপাজাতিরা রয়েছে তাদের জীবনযাপন যেমন আলাদা তেমন তাদের সামাজিক রীতিগুলিও অদ্ভুত। তেমনই এক উৎসব বউ চুরি। এতে নেই কোনো শাস্তি বা অপরাধীর তকমা।


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর পশুপালক উপজাতি ওডাআবে এই রীতি মেনে আসছে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে তাদের এই উৎসব হয় নানা মরুদ্যানে। টানা সাতদিন ধরে অন্যের বউকে চুরি করে পুরুষরা। সামিল হয় সেইসব পুরুষর স্ত্রীরাও। পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ গান। তবে উৎসবের দিনক্ষণ ও স্থান আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। উৎসবের কিছুদিন আগে তা ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ভাষায় এর নাম “গেরেওল”। উৎসবে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী বাছাই করে নেন মহিলারা।


আমাদের সমাজে একাধিক বিয়ে বা বিয়ের পর সম্পর্ক যতটা অপমানজনক ও অনৈতিক, সেখানকার মেয়েদের কাছে এটা ততটাই পবিত্র। মেয়েরা বিয়ের আগে যে কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে পারে। আবার বিয়ের পরেও তাদের থাকতে পারে একাধিক স্বামী। তাদের সমাজে এই রীতি সর্বজন স্বীকৃত। বউ চুরি করাটা তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা।


প্রতিযোগিতা শুরুর আগে পুরুষেরা প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে সাজগোজ করে লাল মাটি, লিপস্টিক, আইলাইনার দিয়ে। মাথার চুলে বিনুনি করে তার শোভা বাড়াতে পুঁতি ও কড়ি গাঁথা হয় তাতে। পরস্ত্রীর নজর কাড়া মূল লক্ষ্য। বিচারকের ভূমিকা পালন করে উপজাতির সেরা তিন বিবাহিতা সুন্দরী। নিজেদের শারীরিকভাবে যোগ্য প্রমাণ করাটাই পুরুষদের উদ্দেশ্য থাকে। তাই তারা নৃত্যের সময় নানা অঙ্গভঙ্গি করে ও ইচ্ছে করে তাদের দাঁত বের করে রাখে তাদের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী দেখানোর জন্যে।

প্রতিযোগিতা চলাকালীন নৃত্যরত ওডআবে পুরুষেরা তাদের চারপাশে ভিড় করে থাকা নারীদের দিকে যেসব ইঙ্গিত করে তাতে যেসব মহিলারা সাড়া দেয় তা মনে পুরুষেরা। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পছন্দ করা পরস্ত্রীর কাঁধে টোকা মারে পুরুষ। সেই ডাকে বিবাহিত মেয়েটি সাড়া দেয়। শেষে তারা মেলায় হারিয়ে যায়।

 

আফ্রিকার ৩টি দেশে এমন উৎসব পালিত হয়। প্রায়ই কনে অপহরণের নামে সেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর উপজাতি ওডাবে এ রীতি মেনে আসছে যুগ যুগ ধরে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে সেখানকার পুরুষরা অন্যের বউকে চুরি করে পালায়। উৎসবটি হয় মরুভূমিতে।


টানা ৭ দিন ধরে অন্যের বউকে চুরি করে পুরুষরা। যে পুরুষ অন্যের বউকে চুরি করবেন; তাদের স্ত্রীরাও উৎসবে যোগ দেন। পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ-গান। এ উৎসবে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী বাছাই করেও নিতে পারেন নারীরা। এমন উৎসবে পুরুষদের অংশগ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের শারীরিকভাবে যোগ্য প্রমাণ করা।

 

রুয়ান্ডার বিভিন্ন অঞ্চলেও নববধূ-অপহরণের ঘটনা প্রচলিত। এক্ষেত্রে অপহরণকারীরা তাদের পছন্দসই নারীকে নিজ বাড়ি থেকে বা রাস্তা থেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায়। জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে ওই নারীকে বিয়ে করে।

অনেক সময় কনের পরিবার ধনী হলে এমন বিয়ে হতে দেয় না। আবার কনে গরীব হলে ধর্ষকের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়া হয়।


রুয়ান্ডার এ রীতি অনুসারে, অপহরণ হওয়া নারী যদি ধর্ষণের পর গর্ভধারণ করেন, সেক্ষেত্রে ওই নারীর কদর আরও বেড়ে যায়। তখন ঘটা করে বরের পরিবার বিবাহের অনুষ্ঠান করে থাকেন। এরপর অপহরণকারী ও তার পরিবার কনের মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এমন সময় বরের পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কনের পরিবারকে একটি গাভি, নগদ অর্থ ও দামি উপহার দিয়ে থাকে।


রুয়ান্ডায় কনে-অপহরণ বিবাহের কারণে অনেক নারীই পরবর্তীতে বিপদে পড়েন। সেখানকার মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পুরুষ এমন বিয়ে করেন; তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই স্ত্রীদের ছেড়ে দেন। এমনকি অপহরণের পর ধর্ষিত নারীদের গর্ভ থেকে বেশিরভাগই প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম হয়। যা সত্যিই দুঃখজনক!


মিশরে খ্রিস্টান বিবাহিত বা অবিবাহিত সব নারীকেই ইসলামে দীক্ষিত করতে পুরুষরা কনে অপহরণ করেন। তারপর মুসলিম পুরুষরা তাদের বিয়ে করেন। এক্ষেত্রে নারীদের ধর্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ সাঈদ হুসেন খলিল এল-সিসি’র সালাফিস্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন রীতির প্রচলন ঘটে।

 

ইথিওপিয়ার অনেক অঞ্চলে নববধূ অপহরণের ঘটনা প্রচলিত। ২০০৩ সালে ইথিওপিয়ার সমীক্ষা অনুসারে, সেখানে প্রায় ৬৯ শতাংশ ঘটনা ঘটে। ইথিওপিয়ায় কোনো পুরুষ যদি অন্যের বউকে অপহণ করতে চান, তাহলে তিনি বন্ধুদের সমন্বয়ে কাজটি করেন। এক্ষেত্রে তারা ঘোড়া ব্যবহার করে থাকেন।


সেখানকার এ রীতি পালন করা হয় সবার সামনেই। কোনো পুরুষ যদি এমন কোনো নারীকে অপহরণ করে, তবে তিনি তার নিজ বাড়িতেই নিয়ে যেতে পারবেন। যতদিন না ওই নারী গর্ভবতী হচ্ছেন; ততদিন পুরুষটি তার পরিবারের সামনেই নারীকে ধর্ষণ করেন। এরপর বিয়ে দেওয়া হয় তাদের। যদি ওই নারী গর্ভবতী না হন; তাহলে ধর্ষণকারী পুরুষ ওই নারীকে স্ত্রীর মর্যাদা দেন না।


২০১০ এবং ২০১৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ইউনিসেফ জানায়, ইথিওপিয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৩ শতাংশ বিবাহ এমন অপহরণের মাধ্যমে ঘটে। শুধু যে বিবাহিত নারীকেই অপহরণ করা হয়, তা কিন্তু নয়। অনেক নাবালিকাকেও অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।


জোরপূর্বক যৌনাচার এবং গর্ভাবস্থায় অনেক কিশোরী গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকে। আবার অনেকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারাও যায়। সেখানে অপহরণের শিকার নারীদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে এইডসে আক্রান্ত হয়ে জীবন কাটায়।

 

মধ্যএশিয়ায় কিরগিস্তান, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কারাকালাপাকস্তানে কনে অপহরণের ঘটনা নিত্য ঘটে থাকে। তবে কিরগিস্তানে ২০১৩ সালে এ রীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কনে অপহরণে দোষীর সাজা হিসেবে ১০ বছরের কারাদণ্ড।


কিরগিস্তানে কনে অপহরণ ‘আলা কচু’ নামে পরিচিত। স্ত্রী গ্রহণের একটি স্বীকৃত এবং সাধারণ উপায় এটি। ২০১৫ সালে কিরগিস্তানের এক সমীক্ষায় উঠে আসে, সেখানকার প্রায় ১৪ শতাংশ নারীই অপহরণের শিকার হয়ে বিবাহে আবদ্ধ হন। বেসরকারি সংস্থাগুলোর গবেষণা অনুসারে, সেখানে বউ চুরির ঘটনা ৭৫-৮০ শতাংশ।


যদিও বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে গেছে। তবুও একেবারেই যে ঘটে না, তা কিন্তু নয়। আবার অবৈধ এ কর্মকাণ্ডে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধেও খুব কম বিচার হয়।


শুধু এ কয়েকটি দেশ নয় বরং কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, দাগেস্তান, চেচনিয়া এবং ইঙ্গুশেটিয়াসহ আজারবাইজানেও এমন ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও জর্জিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, হামং সংস্কৃতিতেও ব্রাইড কিডন্যাপিংয়ের প্রচলন রয়েছে।

 

এমনকি চীন, জাপান, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপের রোমা (রোমানি) সম্প্রদায়, ভূমধ্যসাগরীয়, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, মাল্টা, স্লাভিক উপজাতিদের মধ্যেও বউ চুরির মতো নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটে আসছে।

 

বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে যেসব উপাজাতিরা রয়েছে। তাদের মধ্যেই এমন উদ্ভট সব রীতিনীতি পালনের সংস্কৃতি। তেমনই এক উৎসব বউ চুরি। খানিকটা অবাক হলেও এটি সত্যি। এই চুরিতে নেই কোনো শাস্তি। কেউ আপনাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচারও করবে না। 

 

অন্যের বউ নিয়ে পালানোই এই উৎসবের উদ্দেশ্য।শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালন করে আসছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর পশুপালক উপজাতি ওডাআবে। যেখানে অন্যের বউকে চুরি করে থাকে পুরুষরা। তাই এই উৎসবের নাম 'বউ চুরির উৎসব'। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস এলেই দেশটির বিভিন্ন মরুদ্যানে উৎসবটি পালিনের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। টানা সাতদিন ধরে চলা এই উৎসব। উৎসবে অন্যের বউকে চুরি করার চেষ্টা করে পুরুষরা। এতে অংশ নেয় তাদের স্ত্রীরাও। পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ গান। তবে উৎসবের দিনক্ষণ ও স্থান আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। উৎসবের কিছুদিন আগে তা ঘোষণা করা হয়। শত শত বছর ধরে সেপ্টেম্বর মাসে তারা পালন করে আসছে গেরেওল উৎসব। এই উৎসবের জন্য নারীরা একেবারে মুখিয়ে থাকেন। উৎসবে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী বাছাই করে নেন তারা।

এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হলো- ইয়াকে প্রতিযোগিতা। এটি হলো পুরুষের প্রজনন নৃত্য প্রতিযোগিতা। ময়ূর যেমন সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করতে প্রজন্ন নৃত্য করে তেমনি ওডাআবে উপজাতি পুরুষরাও নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি পুরুষেরা নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে এখানে। মূলত এই উৎসবের মাধ্যমে ওডাআবে সমাজের নারী-পুরুষরা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙ্গার সুযোগ পান।

বিভিন্ন ধর্মে এসব বিষয়ে আইনি ও সামাজিক জটিলতা থাকলেও ওই উপজাতির ক্ষেত্রে কোনো রাখঢাক নেই। এছাড়া ওডাআবে উপজাতির মেয়েরা বিয়ের আগে যার সঙ্গে ইচ্ছে সম্পর্কে যেতে পারে। আবার বিয়ের পরও তারা যত খুশি স্বামী রাখতে পারেন। গোষ্ঠীপতি শাসিত ওই সমাজে মেয়েরা বিয়ের আগে যে কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে পারে। এমনকি বিয়ের পরেও রাখতে পারে একাধিক স্বামী। এটিই তাদের জন্য সমাজ স্বীকৃত ও স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রাচীনকাল থেকেই এখানকার সমাজে অবাধ যৌনতার সুযোগ পান নারী পুরুষ সবাই। বিয়ের আগেই উপজাতি নারীরা যে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। চাইলে সেই পুরুষকে বিয়ে  করতেও পারেন না চাইলে  অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন। এমনকি বিয়ের পরও যতখুশি স্বামী রাখতে পারবেন এখানকার নারীরা। 

 

এক সংসার ত্যাগ করে অন্য নারী বা পুরুষের সঙ্গে ঘর বাঁধার ঘটনা সর্বত্রই কম-বেশি আছে। অবৈধ প্রেমের টানে ১৫ বছরের সংসার ভেঙেও প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে চলে যায় অনেকে। সমাজ স্বীকৃতি দিক বা না দিক, এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে দেশে দেশে, সমাজে সমাজে। কিন্তু অন্যের বৌ চুরি করে সংসার করা যদি কোন সমাজের রীতি হয় তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়? হ্যা, এমন রীতিই চালু আছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের ওদাবে আদিবাসী সম্প্রদায়ে।

 

ওদাবে সম্প্রদায়ের মানুষ অন্যের বৌ চোর নামে বেশি পরিচিত। শৈশবে পিতামাতার ইচ্ছানুযায়ী নিজের আত্মীয়দের মধ্যে একজন ওদাবেকে বিয়ে করতে হয়। তবে ওদাবে সম্প্রদায়ের পুরুষরা এতে অখুশি হন না। কারণ বছর শেষে অন্যের সুন্দরী বউ চুরি করার সুযোগ রয়েছে তাদের হাতে। ওদাবে সম্প্রদায়ে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় অদ্ভূত এক বউ চুরির অনুষ্ঠান। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত গেরেওল অনুষ্ঠানে ওদাবে পুরুষরা রঙ-বেরঙের কাপড় পরিধান করেন, সারা শরীর রঙ করেন, নাচ-গান করে মন জয় করে নতুন একটি বউ চুরি করার সব রকমের চেষ্টা-তদবির করেন।

 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কোন পুরুষ ওদাবে যদি কোন নারীকে তার প্রথম স্বামীর কাছ থেকে কৌশলে চুরি করে নিতে পারেন তবে সেই নব দম্পতি সামাজিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এভাবে ভিন্ন কায়দায় একজনের স্ত্রী চুরি করে নেয় আরেকজন। পরবর্তীতে সেই বিয়েগুলোকে ভালোবাসার বিয়ে বলে ওদাবে সমাজে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।