ঢাকা, ০১ আগস্ট শনিবার, ২০২৬ || ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৮

এবার সরকার বদলের হুমকি ককরোচ জনতা পার্টির

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:১৯ ৩১ জুলাই ২০২৬  

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর নিজেদের সাফল্যে উজ্জীবিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবার আরও কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। তার দাবি, সরকার যদি ছাত্রদের প্রতি বর্তমান মনোভাব না বদলায়, তবে ভবিষ্যতে শুধু কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, ছাত্ররাই সরকার বদলের ক্ষমতা রাখে।

আন্দোলন শেষে নিজের মহারাষ্ট্রের সম্ভাজীনগরের বাড়িতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ হয়রানি করছে। তার দাবি, ছাত্রদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, হেফাজত ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ওরা কোনো সন্ত্রাসবাদী নয়। ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। যদি সরকার এভাবেই দেশের ভবিষ্যৎকে ভয় দেখাতে থাকে, তবে আজ আমরা শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করেছি, আগামী দিনে ছাত্ররাই সরকার বদলে দিতে পারে।”

অভিজিৎ দীপকের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাত্র আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হলেও তাতেই আন্দোলনের লক্ষ্য শেষ হয়ে যায়নি। তার কথায়, ছাত্রদের ক্ষোভ শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ছিল না, বরং গোটা সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধেই ছিল। তিনি বলেন, “সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যাতে আমাদের আবার আন্দোলনে বসতে হয়। ছাত্রদের সমস্যার সামনে ফেলবেন না। এটা ভাববেন না যে ছাত্ররা শান্ত হয়ে গেছে। তাদের ক্ষোভ এখনো রয়েছে।”

আসলে দিল্লি সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সিজেপির মধ্যে। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে অথবা আন্দোলনের সময় হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই শর্তেই আপত্তি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, আন্দোলনে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ছাত্র বা সমর্থকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

সংগঠনের আশঙ্কা, ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ‘হিংসার অভিযোগ’-এর মতো শর্তকে সামনে রেখে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে।

অন্যদিকে দিল্লি সরকার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ মেনেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আদালতও নির্দেশ দিয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ নেই, তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই সরকার পদক্ষেপ করছে বলে দাবি প্রশাসনের।