ঢাকা, ০৮ জুন সোমবার, ২০২৬ || ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

কত দিন পর পর জিন্স কাচা উচিত? জেনে নিন ভালো রাখার নিয়ম

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৫৫ ৮ জুন ২০২৬  

ফ্যাশনের দুনিয়ায় ডেনিম বা জিন্সের প্যান্টের মতো জনপ্রিয় পোশাক আর দুটি নেই। কলেজপড়ুয়া থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী—সবারই আলমারিতে জিন্স এক অপরিহার্য অঙ্গ। তবে এই জিন্স কাচা বা পরিষ্কার করা নিয়ে মানুষের মনে দ্বিমত ও বিভ্রান্তির শেষ নেই। কেউ কেউ একবার বা দুবার পরেই জিন্স ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেন, আবার অনেকে মাসের পর মাস তা কাচেন না।

শুনলে অবাক হবেন, স্বয়ং বিশ্বের এক নম্বর জিন্স প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘লেভিস’ (Levi's)-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) একবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর জিন্স প্যান্ট বছরের পর বছর কাচেননি! তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য সঠিক নিয়মটি কী? জিন্সের প্যান্ট কত দিন অন্তর কাচা উচিত, তা জেনে নিন।

জিন্স মূলত তৈরি হয় অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই সুতোর বুনন বা ডেনিম ফ্যাব্রিক দিয়ে। সাধারণ সুতির কাপড়ের মতো এটি চট করে নষ্ট হয় না। কিন্তু এই প্যান্ট বারবার ধুলে তার আয়ু কমে যায় এবং ফ্যাব্রিক আলগা হয়ে ফিটিংস নষ্ট হয়ে যায়। টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেনিম বা জিন্স কত দিন পর পর কাচবেন, তা নির্ভর করে ব্যবহারের ধরণ এবং আবহাওয়ার ওপর।

১০ থেকে ১২ বার পরার পর কাচাই শ্রেয় 

আন্তর্জাতিক ফ্যাব্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জিন্স প্যান্ট অন্তত ১০ থেকে ১২ বার পরার পর কাচা উচিত। যদি আপনি প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য জিন্স পরেন এবং তাতে কোনো দৃশ্যমান কাদা বা দাগ না লাগে, তবে তা দ্রুত ধুয়ে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই। বারবার ধুলে জিন্সের আসল নীল রঙ ম্লান হতে শুরু করে এবং ডেনিমের শক্ত বাঁধন দুর্বল হয়ে পড়ে।

আবহাওয়া ও ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা

ভারত বা বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যেখানে আর্দ্রতা এবং ঘাম বেশি, সেখানে একটানা ১০ বার পরা কঠিন হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, আপনি যদি কড়া রোদে অনেকক্ষণ ঘুরে আসেন এবং জিন্সটি ঘামে ভিজে যায়, তবে তা ৩ থেকে ৪ বার পরার পরই ধুয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু শীতকালে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) পরিবেশে থাকলে অনায়াসে ১০-১২ বার পরার পরেই তা কাচতে পারেন।

জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার ভয় কতটা?

অনেকের ধারণা, দীর্ঘদিন জিন্স না কাচলে তাতে ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। তবে কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একটি জিন্স ২ দিন না কাচলে তাতে যত ব্যাকটেরিয়া থাকে, ১৫ মাস না কাচলেও ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা প্রায় একই থাকে। মানুষের শরীরের মৃত চামড়া থেকেই এই ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে জিন্স থেকে যদি কোনো ধরণের দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে, তবে বুঝতে হবে এটি কাচার সময় হয়েছে।

কাচার পরিবর্তে জিন্স ফ্রেশ রাখার ঘরোয়া উপায়

১. রোদে দেওয়া: প্রতিবার পরার পর জিন্সটি ধুয়ে না ফেলে বারান্দায় বা ঘরের কড়া বাতাসে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখুন। সূর্যের আলো ও বাতাস এর ভেতরের আর্দ্রতা ও হালকা গন্ধ দূর করে দেয়।

২. ফ্রিজিং পদ্ধতি: বিচিত্র শোনালেও জিন্স ভালো রাখার একটি চমৎকার উপায় হলো ফ্রিজে রাখা। জিন্সটি একটি জিপলক ব্যাগে ভরে সারারাত ফ্রিজের ফ্রিজারে রেখে দিন। চরম ঠান্ডায় এর ভেতরের সমস্ত গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে এবং কাপড়ের রঙও নষ্ট হবে না।

৩. স্পট ক্লিনিং: জিন্সের কোনো নির্দিষ্ট অংশে কাদা বা তরল খাবারের দাগ লাগলে পুরো প্যান্টটি না কেচে শুধু সেই অংশটি টুথব্রাশ এবং মৃদু ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

কাচার সঠিক পদ্ধতি

যখন জিন্স কাচবেন, তখন সবসময় প্যান্টটি উল্টো (Inside Out) করে নিন। ওয়াশিং মেশিনে কাচলে 'জেন্টল মোড' ব্যবহার করুন এবং কখনো গরম জল ব্যবহার করবেন না। ঠাণ্ডা জলে মৃদু লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে কাচাকুচি করাই জিন্সের আয়ু বাড়ানোর একমাত্র উপায়।

জিন্স প্যান্টের সৌন্দর্যই লুকিয়ে রয়েছে এর রাফ অ্যান্ড টাফ ব্যবহারে। তাই ডেনিমকে সাধারণ জামাকাপড়ের মতো রোজ রোজ না কেচে, সঠিক নিয়মে যত্ন নিন। এতে আপনার সাধের পোশাকটি বছরের পর বছর নতুনের মতো উজ্জ্বল আর আরামদায়ক থাকবে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর