ঢাকা, ০৫ জুলাই রোববার, ২০২০ || ২১ আষাঢ় ১৪২৭
good-food
৬৮

করোনায় বেশি ঝুঁকিতে শ্রমজীবী শিশুরা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ১২ জুন ২০২০  

দেশে গত এক মাসে মোট ১৬৩ জন শিশু করোনা আক্রান্ত হয়েছে বা সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। গত ৯ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ১২৭ জন শিশুর এ ভাইরাস পজিটিভ এসেছে। 

এ সময়ে আক্রান্ত ১২৭ শিশুর মধ্যে ৭ জন মারা গেছে। এছাড়া আরো ৩১ জন করোনার লক্ষণ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এ তথ্য জানিয়েছে। 

শিশু অধিকার ফোরাম দেশের ২৭২টি বেসরকারি উন্নয়স সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২০। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সাল থেকে ১২ জুনকে বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘কোভিড-১৯:শ্রম থেকে শিশুদের রক্ষা করা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দরকার’।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ বলেন, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৮.৭ অর্জনের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে সবধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করার ব্যাপারে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই বিশ্ববীব্যাপী প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সেই অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। 

তিনি বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলের ব্যাপারে সরকার এখন পর্যন্ত যে সফলতা অর্জন করেছে তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ মহামারী পরিস্থিতি এবং সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তা শিশুদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি দেশে শ্রমজীব শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

শিশুশ্রম নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের করণীয় বিষয়ে সহিদ মাহমুদ বলেন, শ্রম আইনের শিশুশ্রম সম্পর্কিত অধ্যায়ের সংস্কার করে ১২ বছর বা সেটার নিচের শিশুদের জন্য ‘হালকা ধরনের কাজ’- এর সংজ্ঞা এবং তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৯৪ শতাংশ শিশু কাজ করে, কিছু নির্দিষ্ট কাজকে নিকৃষ্ট ধরনের ঘোষণা করতে হবে। সেসব কাজে শিশুদের নিষিদ্ধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার করোনা মোকাবেলায় দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। তবে দেশে কর্মে নিয়োজিত শিশুদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেনি। বর্তমান অবস্থায় স্বল্প মজুরিতে কাজ করানোর জন্য আবারও শিশুদেরে শ্রমে নিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই ব্যাপারে সরকারের উচিত আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সেই সঙ্গে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুরা যেন শ্রমে নিয়োজিত না হয়, সেই বিষয়েও প্রস্তুতি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।