ঢাকা, ০৪ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

ঘুম ভাঙা মাত্রই মোবাইলে চোখ, কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:২১ ৪ জুন ২০২৬  

বিছানায় একটা বালিশ কম থাকলেও চলবে। কিন্তু ঘুমোনোর সময়ে পাশে মোবাইল থাকা চাই। আজকাল আর কেউ অ্যালার্ম দেওয়া ঘড়ি ব্যবহার করেন না। মোবাইলেই সেট করা থাকে অ্যালার্ম। সেটা বাজা মাত্র ঘুম চোখে হাতড়াতে থাকেন মোবাইল ফোন। চোখ রগড়াতে রগড়াতে আঙুল ঠেকান স্মার্টফোনের স্কিনের। 

সারা রাত ধরে জমা হওয়া নোটিফিকেশন, মেসেজ দেখে দিন শুরু করেন। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ঠিক কী কী হচ্ছে—তা দেখে দিনের শুরু। এই অভ্যাসকে ‘আপডেটেড’ থাকা বলতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছে, এই অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে আপনার ব্রেনের। ব্যাপক প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে।

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ  ডাঃ কুনাল সুদ  ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিয়ো শেয়ার করে জানিয়েছেন, ঘুম থেকে উঠেই স্মার্টফোন ঘাঁটলে কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন। এই অভ্যাস কী ভাবে ক্ষতি করে মন ও মাথার। 

ইনফরমেশনে ওভারলোড

ঘুম ভাঙার পরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। সেগুলো ধীর গতিতে কাজ করে। ওই সময়ে মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না। ব্রেন ও নার্ভ অ্যাক্টিভ হতে কিছুটা সময় নেয়। ওই মুহূর্তে আপনি যদি মোবাইল ঘাঁটেন, তা হলে মস্তিষ্কের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে একাধিক তথ্য বোঝা বা চিন্তাভাবনা করার জন্য মস্তিষ্ক প্রস্তুত থাকে না। এর জেরে মস্তিষ্কের উপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং এর জেরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়। 

অ্যাংজ়াইটি বাড়ে

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে স্বাভাবিক ভাবেই শরীরে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) লেভেল বেশি থাকে। এই হরমোন জেগে উঠতে সাহায্য করে। আপনি যখন ঘুম ভাঙা চোখে মোবাইল চেক করেন, তখন এই হরমোনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মানসিক চাপ তৈরি করে এমন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, মেসেজের জেরে কর্টিসলের ক্ষরণ আরও বেড়ে যায়। এর জেরে অ্যাংজ়াইটি ও স্ট্রেস বাড়ে এবং স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি এই ধরনের অভ্যাস ‘Anxiety Loop’ তৈরি হয়, যা ক্রনিক স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই অভ্যাসও ছাড়া উচিত।


আর কী কী সমস্যা দেখা দেয়? 

দিনের শুরুটাই যদি মানসিক চাপে ভরপুর হয়, তখন স্বাভাবিক ভাবেই গোটা দিনটা বিগড়ে যায়। মনোযোগ নষ্ট হয়। দিনভর মানসিক ক্লান্তি কাজ করে। সারাদিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। এগুলো লক্ষণগুলো অনেকেই বুঝতে পারেন না এবং এর জেরে ক্রনিক ডিপ্রেশন তৈরি হয়। এই স্ট্রেসের পাশাপাশি আরও পারিপার্শ্বিক চাপ থাকে। সব মিলিয়েই মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করে।

কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে হাত নয়। অ্যালার্মের জন্য ঘড়ি ব্যবহার করাই ভালো। ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ২০-৩০ মিনিট পরে মোবাইলে হাত দিন। মস্তিষ্ককে সক্রিয় হওয়ার সময় টুকু দিন। এ ছাড়া রাতে বিছানায় মোবাইল নিয়ে যাবেন না।