ঢাকা, ০৪ মার্চ সোমবার, ২০২৪ || ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
good-food
২১৬

চীনা ঋণের ফাঁদে ১৬৫ দেশ, আছে বাংলাদেশও

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৩:১৩ ৩১ জানুয়ারি ২০২৪  

দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে মুখিয়ে আছে চীন। গেলো এক যুগে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ বাস্তবায়নের আওতায় যাদেরকে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড় দিয়েছে কঠিন শর্তে। এসব ঋণ পরিশোধ নিয়ে এরই মধ্যে চাপে পড়তে শুরু করেছে দেশগুলো। রিপোর্টে বলা হয়, এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে।

 

ঢাকার চিরচেনা যানজট কমাতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছে আংশিক চালু হওয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়। যদিও কেবল এই অংশ শেষ করতেই সময় লেগেছে ১২ বছরের বেশি।

 

চীনা অর্থায়নে এমন বহু প্রকল্প এখন ডানা মেলেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির উদ্যোগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন সব প্রকল্প। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইড ডেটার তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ ঋণ নিয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার।

 

সংস্থার তথ্য বলছে, বিআরআইয়ের অধীনে গেলো এক যুগে বাংলাদেশসহ ১৬৫টি দেশে প্রকল্প নেয়া হয়েছে ২১ হাজারের ওপরে। যা বাস্তবায়নে দেশটি ঋণ দিয়েছে ১ হাজার ৩০০ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে এসব ঋণের বিপরীতে ২০২৩ সালে সুদ হিসেবে চীন আদায় করেছে ৮০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে।

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়ান ওয়েনবিন বলেন, বিআরআই ফ্রেমওয়ার্কে আমরা সহযোগিতার হাত সারা বিশ্বের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছি। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সহজতর হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে এক কাতারে নিয়ে আসছে এ প্রকল্প।

 

তবে বিশ্বজুড়ে রেল, সড়ক, বন্দর, জ্বালানি, খনিজ ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগের এই উদ্যোগ মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে বহু দেশের জন্য। কারণ, এইড ডেটার  হিসাবে ঋণ গ্রহণকারী ৮০ শতাংশই দেশই এখন ভুগছে আর্থিক সঙ্কটে। আর ৩৭ শতাংশ দেশ নিম্ন আয়ের, যারা পা দিয়েছে চীনা ঋণের ফাঁদে। 

 

বলা হয়, স্বল্প সুদের লোভ দেখিয়ে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্নে বিভোর করে দেশগুলোকে বন্দি করা হয় ঋণের জালে। পরে সুকৌশলে শর্তের বেড়াজালে আটকে আদায় করা হয় ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ। জানা যায়, শুধু আফ্রিকার দেশগুলোতে আলাদাভাবে বিনিয়োগের জন্য বিআরআইয়ের অধীনে নতুন করে ১০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ বাড়িয়েছে চীন।  

 

তবে এই উদ্যোগের বিপদ টের পেয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েক দেশ এর বিরোধিতায় শুরু থেকেই।