ঢাকা, ১৮ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

ডিম টাটকা না পুরোনো, কেনার সময় বুঝবেন কীভাবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১২:৩৯ ১৮ জুন ২০২৬  

ডিমকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ধরা হয়, তাই এটি অনেকেরই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। তবে এই প্যাচপ্যাচে গরমে অন্যান্য খাবারের মতোই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ডিমও। কিন্তু মুশকিল হলো অনেক সময় ডিম বাইরে থেকে দেখে বোঝাই কঠিন হয়ে পড়ে যে সেটি এখনও টাটকা আছে, নাকি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই ভুলের কারণে বাজার থেকে পচা ডিম নিয়ে চলে আসেন। খাওয়া হয় না, আবার পয়সা নষ্ট। ডিম ভেঙে দোকানে পরীক্ষা করা সম্ভব নয় তা ভালো না খারাপ।

অনেকে আবার ডিমের কার্টুনে লেখা তারিখ দেখে ডিমের গুণমান বিচার করেন। কিন্তু সেই তারিখ সব সময় ডিম কতটা টাটকা, তা জানায় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি শুধু প্যাকেজিংয়ের তারিখ হয়, আবার কোথাও ‘বেস্ট বাই’ তারিখ উল্লেখ থাকে। এছাড়া যদি ডিম কার্টুন থেকে বের করে রাখা হয় তাহলে তার বয়স বোঝা আরও কঠিন হয়ে যায়। কী ভাবে বুঝবেন ডিম ভালো না খারাপ? জেনে নিন এই সহজ ট্রিকস…

১. পানিতে পরীক্ষা

ডিম টাটকা কি না তা জানার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় হলো ফ্লোট টেস্ট বা পানিতে ভাসানোর পরীক্ষা। এর জন্য প্রয়োজন শুধু একটি বাটি এবং ঠান্ডা পানিতে। প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণমতো পানিতে নিন যাতে ডিম পুরোপুরি ডুবে যায়। এবার ডিমটিকে আস্তে করে পানিতে ছেড়ে দিন। যদি ডিম একেবারে তলায় গিয়ে শুয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ডিম একদম টাটকা।

যদি ডিম তলায় পৌঁছে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় বা কিছুটা কাত হয়ে থাকে, তা হলে সেটি কয়েক দিনের পুরোনো ডিম। তবে সাধারণত এমন ডিম খাওয়ার জন্য নিরাপদ। বেশিদিন স্টোর করে রাখতে পারবেন না, তাই কেনার সময় সেটাও মাথায় রাখুন। কিন্তু যদি ডিমটি পানির উপর ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। পুরোনো ডিম হলে এমন হয় এবং তা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

২. কেন এমন হয়?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিমের খোসায় থাকা অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাস ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। ফলে ডিমের ভেতরে থাকা এয়ার পকেট বা বায়ুথলি ধীরে ধীরে বড় হয়। যত বেশি বাতাস জমে, ডিম তত হালকা হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। অন্যদিকে টাটকা ডিমে বায়ুথলি ছোট থাকে বলে তা ডুবে যায়।

৩. ডিম ভাঙার পর কী ভাবে বুঝবেন?

যদি ডিম ভেঙেই ফেলেন, তাহলেও এর সতেজতা সহজে বোঝা যায়। টাটকা ডিমের সাদা অংশ ঘন ও কিছুটা আঠালো হয়, আর কুসুম থাকে গোলাকার ও উঁচু। পুরোনো ডিমের সাদা অংশ তুলনামূলক পাতলা ও জলীয় হয়ে যায় এবং কুসুমও চ্যাপ্টা দেখায়।

৪. দুর্গন্ধও বড় সতর্কবার্তা

নষ্ট ডিম চেনার সবচেয়ে সহজ লক্ষণ হলো এর তীব্র দুর্গন্ধ। ডিম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যদি পচা বা সালফারের মতো তীব্র গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া উচিত।

৫. সংরক্ষণের টিপস

ডিম সবসময় ফ্রিজে এবং সম্ভব হলে তার মূল কার্টুনেই সংরক্ষণ করা উচিত। এতে ডিম দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং এর গুণগত মান বজায় থাকে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর