ঢাকা, ০১ জুলাই বুধবার, ২০২৬ || ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
১৪

ডেঙ্গু সম্পর্কে কী কী মাথায় রাখা প্রয়োজন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:২৭ ১ জুলাই ২০২৬  

বর্ষার মরশুম, প্রায় প্রতিদিনই অল্প বিস্তর হলেও বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে এখানে সেখানে পানি জমে থাকার প্রবণতাও। তাই এই মরশুমে বাড়ে মশাদের দাপট। ছড়ায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো রোগ। অনেকের ধারণা, শুধু নোংরা পরিবেশেই ডেঙ্গুর মশা জন্মায়। ডেঙ্গু-কে আটকাতে গেলে সেই সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাও প্রয়োজন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, সময় মতো চিকিৎসাও শুরু করা যায়।

কোন কোন ভুল ধারণা ভাঙা প্রয়োজন?

কম বৃষ্টি মানেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কম, এমন নয়। মাঝারি বৃষ্টির পরে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ছোট ছোট জায়গায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার বংশবিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। ভারী বর্ষণে অনেক সময় মশার লার্ভা ধুয়ে গেলেও, টবে, বালতিতে বা ট্রেতে জমে থাকা পানি দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকলে সেখানে সহজেই মশা জন্মায়। তাই বর্ষার পুরো সময় জুড়েই সতর্ক থাকা জরুরি।

শুধু নোংরা জায়গা নয়, পরিষ্কার বাড়িতেও ডেঙ্গুর মশা জন্মাতে পারে। ফুলের টবের নীচের ট্রে, এসির ড্রেন পাইপ, পোষ্যের পানির পাত্র, কুলার, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব জায়গা পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার কামড় এড়ানো। শিশুদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরানো, শিশুদের জন্য নিরাপদ মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, জানালায় জালি লাগানো, মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাসই বড় সুরক্ষা দিতে পারে। কারণ ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ এখনও নেই।

বর্ষাকালে জ্বরকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। ডেঙ্গুর শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উচ্চ জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, দুর্বলতা, র‍্যাশ, বমি বা পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগ নির্ণয় করলে জটিলতার ঝুঁকি কমে।

পেঁপে পাতার রস, ছাগলের দুধ বা বিভিন্ন ভেষজ উপায় ডেঙ্গু সারিয়ে তোলে— এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এসবের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেরি করলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল পানীয় এবং চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণই ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার মূল চাবিকাঠি।

মনে রাখবেন, অনেক সময় ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় শুরু হয় জ্বর কমার পর। সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিনে বমি, তীব্র পেটব্যথা, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে লাল দাগ বা অস্বাভাবিক তন্দ্রাভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এই সতর্ক সঙ্কেতগুলো সময়মতো চিহ্নিত করা রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর