ঢাকা, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

বল কেটে ভাগ করলেন টাং ও রবিনসন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:০৬ ২০ আগস্ট ২০২৬  

মাঠ ছাড়ার সময়ই পাশাপাশিই থাকলেন অলিভার রবিনসন ও জশ টাং পাশাপাশিই থাকলেন। হাতে হাত রেখে উঁচিয়ে ধরলেন দুজন। বল তো স্রেফ একটিই। দুজন মিলেই উঁচিয়ে ধরলেন সেটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলটি থাকবে কার কাছে? নাহ, এটি নিয়ে কোনো টানাপোড়েন বা মনোমালিন্য হয়নি দুই ইংলিশ পেসারের।

অভিনব এক সমাধা বের করে নিয়েছেন দুজন মিলে! ৫ উইকেট পেলে তো বলটি স্মারক হিসেবে নিজের কাছে রেখে দেওয়াই রীতি। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনে রবিনসন ও টাং নিয়েছেন ৫টি করেই উইকেট। এরপর বলটি মাঝ বরাবর কেটে ভাগ করে নিয়েছেন দুজন!

রীতি অনুযায়ী বলটি হেডিংলির গ্রাউন্ডস্টাফের কাছে পাঠিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের ম্যানেজমেন্ট। সেখানেই বলটিকে ভাগ করা হয় এবং ক্রিকেটের বিরল এক স্মারক হাতে পেয়ে যান রবিনসন ও টাং। দিনের খেলা শেষে সেই অর্ধেক বল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে রবিনসন শোনালেন বল ভাগ করার পেছনের গল্প।

“আমরা যখন মাঠ ছাড়ছিলাম, তখন টাংকে বললাম, ‘আমার মনে হয় আমাদের এটা ভাগ করে নেওয়া উচিত।’ সেও বলল এবং আমি বললাম, এটাই করা উচিত, এটা বেশ দারুণ হবে। এটা সেই ধরনের একটা ব্যাপার, অর্ধেক ক্রিকেট বল তো খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায় না! তাই এটা এমন একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা আমরা কখনও ভুলব না।

একই ইনিংসে দুজন বোলারের পাঁচ উইকেট পাওয়া খুব একটা সাধারণ ঘটনা নয়। এটি (বল ভাগ করা) তাই দারুণ এক সৌজন্য এবং মনে রাখার মতো ব্যাপার।”

দিনের খেলা শেষে বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে টাং বললেন, এমন অভিজ্ঞতা তার জন্য প্রথম। “রবো (রবিনসন) বলছিল, আমরা বলটাকে মাঝখান থেকে দুই ভাগ করতে পারি। মাঠকর্মীরা সদয় হয়ে সেটা করেছেন। এই প্রথম এমন কিছু হতে দেখলাম। নিশ্চিতভাবেই এটা কোথাও টাঙিয়ে রাখব!”

একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেট করে পাওয়ার ঘটনা নিয়মিত দেখা না গেলেও খুব বিরল নয়। ইংল্যান্ডের ইতিহাসেই যেমন ১৬ বার হয়েছে এমন। তবে এবারেরটি দেখা গেল ২০ বছর পর। সবশেষ ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৫টি করে নিয়েছিলেন স্টিভ হার্মিসন ও মন্টি পানেসার।

হেডিংলিতে বুধবার ম্যাচের শুরুটাই দুর্দান্ত করেন রবিনসন। ম্যাচের প্রথম বলেই বিদায় করে দেন তিনি পাকিস্তানি ওপেনার আজান আওয়াইসকে। প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার টেস্টের প্রথম বলে উইকেটের পতন হলো ইংল্যান্ডে। সিরিজের প্রথম বলে পাকিস্তান উইকেট হারাল ইতিহাসেই প্রথমবার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রবিনসনের ৫০০তম উইকেটও সেটি।

পাকিস্তানের প্রথম ৫ ব্যাটারের ৪ জনকেই ফেরান রবিনসন। ওপেনার ইমাম-উল-হাককে বিদায় করেন টাং। এই পেসার পরে নিজের ‘দা মপ’ নামের স্বার্থকতা প্রমাণ করে লেজ ছেঁটে দেন দ্রুতই। ২১ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। সেখানে ৪টি শিকার করেন টাং।

রবিনসনের জন্য এই পারফরম্যান্স বেশি জরুরি ছিল তার প্রর্ত্যাবর্তনের টেস্ট বলেও। প্রায় আড়াই বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরেন তিনি গত জুন মাসে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে সেই ম্যাচে প্রথম ওভারেই শিকার করেন ৩ উইকেট। ইনিংস নেন ৫টি আর ম্যাচে ৭টি। পরের টেস্ট তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে। সিরিজের শেষ টেস্টে ফিট থাকলেও সুযোগ পাননি একাদশে। এবার ফিরেই দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেন আবার।

সময়টা তার দারুণ কাটছে মাঠের বাইরেও। গত সপ্তাহেই দ্বিতীয়বার বাবা হয়েছে ৩২ বছর বয়সী পেসার। জন্ম হয়েছে তার মেয়ে ইভার। তার নিজের কাছেও তাই এই পারফরম্যান্স অন্যরকম স্মরণীয়।

“হ্যাঁ, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টায়য় নবজাতকের জন্ম হয়েছে, তাই লিডসের হোটেলে আসার পর থেকেই ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করছি। সপ্তাহটা সত্যিই বিশেষ, আরেকটি সন্তান হওয়ায় আজকের দিনটা যেন আরও মধুর হয়ে উঠেছে। জন্মের পর ওদেরকে ছেড়ে এসে যখন মাঠে নামতে হয়, তখন এমন পারফর্ম করাটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল। আমি জানি ওরা এখানে নেই, বাড়িতে আছে, কিন্তু আমি সারাক্ষণ ওদের কথাই ভাবছিলাম।”

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর