ঢাকা, ১৫ নভেম্বর শুক্রবার, ২০১৯ || ৩০ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৮৫

মানিকগঞ্জের রওশনারা এখন যুক্তরাজ্যের রামসগেটের মেয়র

প্রকাশিত: ২১:১৩ ২৪ মে ২০১৯  


১৯৬৭ সালে ১৩ বছর বয়সে প্রকৌশলী বাবা রজ্জব আলী খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান রওশনারা। প্রবাসে জীবনযাপন করলেও নাড়ির টানে প্রায় প্রতিবছর ছুটে আসেন জন্মস্থানে। দেখে যান সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা কাশিমপুর (কাঠাল বাগান) গ্রাম।

রওশনারা ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। ইরতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পান তিনি। স্থানীয় তালেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে বাবার সঙ্গে চলে যান যুক্তরাজ্যে। সেই থেকে সপরিবারে বসবাস করছেন সেখানে।

এরপর দেশটিতেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন রওশনারা। সেখানে ব্যারিস্টার ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। স্বামী রেজাউর রহমানের সঙ্গে যুক্ত হন হোটেল ব্যবসায়। এরপর আসেন রাজনীতির ময়দানে। তা স্বামীর বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায়।

তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে রওশনারা সবার বড়। দুই মাস আগে বাবা মারা গেছেন। তিনি ছিলেন বুয়েটের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। ১৯৬৭ সালে সপরিবারে যান যুক্তরাজ্যে। এলাকায় দানবীর হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। নিজের জমিতে এলাকাবাসীর জন্য মসজিদ, ঈদগাহ, রাস্তা ও বেশকিছু ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

বাবার মতোই রওশনারাও এলাকায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান। যুক্তরাজ্যের রামসগেট শহরের নামে নিজ গ্রামে রামস-বাংলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা গড়ে তুলেছেন। প্রবাসে থেকেও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নানাভাবে এলাকার মানুষকে সহায়তা করছেন।

রামস-বাংলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার ম্যানেজার রওশনারার চাচাতো ভাই আব্দুল মোতালেব হোসেন জানান, সংস্থার মাধ্যমে দেশে প্রতিবছর বন্যার সময় ত্রাণ, শীতার্তদের মাঝে কম্বল ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে সহায়তা করেন রওশন। এছাড়া ব্যক্তিগত খরচে এলাকার অনেক মানুষের চোখের অপারেশন করিয়েছেন।

তিনি বলেন জানান, রওশনারা রহমানের পেশা ব্যবসা। রামসগেট শহরে তন্দরি রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি। যুক্তরাজ্যে সক্রিয় রাজনীতি ব্যবসার ব্যস্ততা থাকলেও প্রতিবছরই দেশে আসেন। সময় কাটান নিজ গ্রামে। মানবিক কাজের কারণে এলাকার সবাই তাকে ভালোবাসেন।

মোতালেব হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন রওশনারা রহমান। সামান্য ভোটে সেবার পরাজিত হন। এর আগে লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সবশেষ চলতি বছরের ১৪ মে নির্বাচনে বিপুল ভোটে রামসগেট-এর মেয়র নির্বাচিত হন।

রওশনারার জয়ে উৎফুল্ল জন্মস্থান মানিকগঞ্জের সিংগাইরের মানুষ। স্থানীয় তালেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী জানান, আমাদের এলাকার গর্ব রওশনারা রামসগেট শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য আমরা খুবই গর্ববোধ করছি। এলাকার সব মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত।

রওশনারা রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। লেবার পার্টি আমার প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস রেখেছিল। এজন্যই আমাকে মনোনয়ন দেয়। শহরের মেয়র নির্বাচিত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এটা খুবই সম্মানের। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য আরও কাজ করে যেতে চাই।

তিনি বলেন, নিজের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য খুবই জরুরি। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমি সবসময় আমার দেশ এবং জন্মস্থানকে স্মরণ করি। এজন্য সুযোগ পেলেই দেশে ফিরে যাই। গ্রামের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমারও ভালো লাগে। ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেন আরও উন্নত হয় সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রায় এক যুগ আগে লন্ডনে একটি রিক্সা নিয়ে যান রওশনারা। বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলে। বিটিভির এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে সেটি প্রচারিত হয়।


এই বিভাগের আরো খবর