ঢাকা, ১৬ মে রোববার, ২০২১ || ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
good-food
৪৫

মাস্ক: যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ২২ এপ্রিল ২০২১  

অতিমারির প্রকোপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে মাস্ক। যে হারে সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে চলেছে গোটা বিশ্বে, তাতে আগামী কয়েক বছর তো বটেই, সারাজীবনের জন্য তা অপরিহার্য হয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কাপড়ের না সার্জিক্যাল, সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোন মাস্ক বেশি ভালো, তা নিয়ে এখনও ধন্দ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় বহু মানুষ কাপড়ের মাস্ক বেছে নিচ্ছেন। সেই কথা মাথায় রেখে কাপড়ের মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

 

অতিমারির প্রকোপ থেকে বাঁচতে শুরু থেকেই মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের উপর জোর দিয়ে আসছে হু। কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হাত পরিষ্কার রাখায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, মাস্ক পরা হোক বা খোলা, যেকোনও সময় তা ছোঁয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। মাস্কের কোথাও কোনও ছিদ্র বা ছেঁড়া রয়েছে কি না, দেখে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মাস্ক পরার পর মুখের দু'পাশে ফাঁক রয়েছে। তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। মাস্ক পরার পর মুখ, নাক এবং থুতনি সম্পূর্ণ ঢাকা থাকতে হবে।

 

গ্রীষ্মের দাবদাহে মাস্ক পরে অনেকেই হাঁফিয়ে ওঠেন। যে কারণে নিজের অজান্তেই মাস্কে হাত চলে যায়। টেনেটুনে আলগা করেন কেউ কেউ। অস্বস্তি হলে উপরের অংশ ধরে মাস্ক ঠিক করতেও দেখা যায়। কিন্তু হু বলছে, ঘন ঘন মাস্ক না ছোঁয়াই ভালো। আর যদি মাস্ক খুলতেই হয় বা ঠিক করতে হয়, তা কানের পাশে অথবা মাথার পেছন থে‌কে বন্ধনি ধরেই খুলতে বা পরতে হবে। খোলার পরই মুখের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 

সার্জিক্যাল মাস্কের ক্ষেত্রে একবার পরার পরই তা ফেলে দিতে হয়। তবে কাপড়ের মাস্ক পুনর্ব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়েছে হু। মাস্ক ভিজে না গেলে, নোংরা না হলে খোলার পর পরিষ্কার ব্যাগে রেখে দেওয়া যাবে। ফের ব্যবহার করতে চাইলে বন্ধনি ধরে ব্যাগ থেকে বের করে সাবান বা ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। দিনে একবার গরম পানিতে সাবান মিশিয়ে মাস্ক ধুয়ে নিলে ভালো হয়।

 

কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এর আগে ত্রিস্তরীয় মাস্কের উপর গুরত্ব দিয়েছিল হু। বলা হয়, দোকান থেকে কিনে বা বাড়িতে তৈরি করা মাস্ক পরা যাবে। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা মাস্কের কাপড়ের উপর যেহেতু নির্ভর করে, তাই তিনটি স্তরে আলাদা রকমের কাপড় দিতে হবে। মাস্কের যে অংশটি ভেতরের দিকে থাকবে, তাতে সুতির কাপড় ব্যবহার করলে ভালো। 

 

কারণ তা মুখ থেকে নির্গত ড্রপলেটস দ্রুত শুষে নিতে পারে। মাঝের স্তরে থাকবে পলিপ্রোলাইনের মতো এমন উপকরণ, যা ফিল্টারের কাজ করবে। বাইরের স্তরটি তৈরি হবে পলিয়েস্টারের মতো উপকরণ দিয়ে, যা মুখের ভেতর থেকে সংক্রমণ বাইরে ছড়াতে দেবে না। আবার বাইরে থেকেও সংক্রমণ মুখে প্রবেশ করা আটকাবে।

করোনাভাইরাস বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর