ঢাকা, ১৭ নভেম্বর রোববার, ২০১৯ || ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৪৮

শিশু নির্যাতনকারীর ক্ষমা নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:৩৪ ১৮ অক্টোবর ২০১৯  


প্রতিটি শিশুর জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশু হত্যা এবং নির্যাতনে জড়িতদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি ভোগ করতে হবে। আজ যারা শিশু নির্যাতন বা হত্যা করবে, তাদের কঠিন সাজা পেতে হবে, অবশ্যই হবে। এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনই বরদাশত করা হবে না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ’ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা চাই আমাদের শিশুরা আর কখনই যেন এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়। প্রত্যেকটি শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। আর প্রতিটি শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়। তা নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর খুনীদের বিচার না করে, বরং আইন করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে সেসময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়। শিশু ও নারী হত্যাসহ হত্যা, খুন এবং নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হয়। আমি আমার বাবা, মা-ভাইয়ের খুনীদের বিচার চাইতে পারিনি। এমনকি একটি মামলাও আমাদের করতে দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি সমাজে গর্হিত অপরাধ বেড়ে গেছে। একজন বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন পিতার নিজের শিশু পুত্রকে হত্যা প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন (’৭৫ এর ১৫ অগাস্ট) নারী-শিশুসহ জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিচার হলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারতো না। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু ‘শিশু অধিকার আইন’ প্রণয়ন করে যান। তারই পদাংক অনুসরণ করে ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করে নীতিমালা, আইন, শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তাদের বেড়ে ওঠা, খেলাধূলাসহ সবকিছুর ব্যবস্থাই ধীরে ধীরে করেছি।
শিশুদের ভেতরকার মেধা, মনন ও শক্তিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্নভাবে আমাদের শিশুরা যাতে গড়ে উঠতে পারে; সেজন্য কম্পিউটার শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি শিক্ষাসহ সবধরনের শিক্ষার ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো.রকিবুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন। সংগঠনের সদস্য সচিব মাহমুদুস সামাদ এমপি, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম শহীদুল্লাহ ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত সারাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলাধূলা, চিত্রাংকন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সারাদেশ থেকে আগত শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, শিশুরা যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কোনও কাজ না করে সেই ধরনের ব্যবস্থাও সরকার নিয়েছে। এমনকি তাদের শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে, এমনকি ঝরে পড়া শিশু এবং যারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল, সেসব শিশুদেরও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। আর যারা এতিম এবং প্রতিবন্ধী ও অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্যও কর্মসূচি নিয়েছে।
তিনি অটিজম আক্রান্ত শিশুদের আপন করে নিয়ে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার জন্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আজ এখানে যেসব শিশুরা উপস্থিত রয়েছে, তাদের একটা কথাই বলবো, তোমাদের আশেপাশে যখন কোনও প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক বা দরিদ্র শিশু দেখবে; তাদের কখনও অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও। ওদের পাশে থেকো, সহযোগিতা করো। কারণ তারাও তোমাদের মতই একজন। যেন কোনওভাবেই তারা অবহেলার শিকার না হয়।
তিনি ছোটবেলার শিক্ষা ‘কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করে বলেন, ‘আসলে এটা করা নিষ্ঠুরতা, এটা বলা অমানবিকতা। আমাদের শিশুরা নিশ্চই তা করবে না।
বক্তৃতা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। অমিত সম্ভাবনাময় রাসেলকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডী ৩২ নম্বরের বাড়িতে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতক চক্র।