ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০২৬ || ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৬

সম্পর্ক ঠিক রাখতে যেসব বিষয় সত্যি কাজে দেয়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৩৭ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

সম্পর্ক সবসময় এক রাখা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় দম্পতিদের মধ্যে নানান কারণে দূরত্ব তৈরি হয়। আবার দেখা যায় যে কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। কাপল থেরাপিস্টদের মতে আপনি যদি কোনো অসুখী সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তবে আপনি আক্ষরিক অর্থেই মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় (হার্টেক বা হৃদযন্ত্রণা) ভুগতে পারেন। খবর বিবিসি

বিশেষজ্ঞ করা বলছেন, ভালো সম্পর্ক আমার মন ও শরীর সুস্থ রাখতে দারুণ কাজে দেয়। একই সঙ্গে কিন্তু শরীরের নানান জটিলতা যেমন কম ঘুম থেকে মাথা, হাত-পা ব্যথা কিন্তু পরিবার, সন্তান এবং সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি করতে পারে।

তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে আপনি কি খারাপ সম্পর্ক ভালো করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমন কিছু বিষয় আছে যা আপনাকে চমক দেবে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে কাপল থেরাপিস্টরা এমন কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন যা সম্পর্ক আবারো সুন্দর করতে পারে।

দম্পতিরা কেন ঝগড়া করেন

বিভিন্ন কারণের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে তারা মূলত নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই ঝগড়া করে আর এই ঝগড়ার বিষয় খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। বারবার ফিরে আসা বা অমীমাংসিত থেকে যাওয়া এই সমস্যাগুলোকে বলা হয় ‘পারপেচুয়াল’(চিরস্থায়ী) বা ‘গ্রিডলকড’ (অচলবস্থায় আটকে থাকা) সমস্যা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত দম্পতিদের থেরাপি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউট’-এর গবেষণা পরিচালক ও মনোবিজ্ঞানী ক্যারি কোল বলেন, এই অচলবস্থায় আটকে থাকা সমস্যাগুলো হতে পারে অর্থ-কড়ি, সন্তান লালন-পালন, কিংবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে। আবার এগুলো বাসা পরিচ্ছন্ন রাখার মতো আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো বিষয় নিয়েও হতে পারে। এ ছাড়াও একাধিক গবেষণাতেও এমনটাই দেখা গেছে।

আসলে তাদের ঝগড়ার বিষয় খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। তবে সুখী দম্পতিদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। ঝগড়া হতেই পারে কিন্তু নিজেদের আচরণ কেমন সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

যে চার আচরণ বিপদ ডেকে আনে

দম্পতি বিশেষজ্ঞ কোলের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে চারটি আচরণের যোগ রয়েছে। এগুলো হলো সমালোচনা, অবজ্ঞা, আত্মপক্ষসমর্থন এবং স্টোনওয়ালিং বা দ্বন্দ্বের সময় কথা বলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।

কোল বলেন, এই চার আচরণ একটি সম্পর্ককে ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে আশার বিষয় হলো, দুজন সঙ্গী যদি সম্পর্কটি ঠিক করতে চান, তাহলে এসব আচরণ পরিবর্তন দরকার। সমালোচনা যখন কোনো নির্দিষ্ট আচরণের পরিবর্তে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে, অবজ্ঞা যখন সঙ্গীকে ছোট করে, আত্মপক্ষসমর্থন যখন নিজের ভুল দেখার সুযোগ বন্ধ করে দেয় এবং স্টোনওয়ালিংয়ের মাধ্যমে একজন সঙ্গী যখন আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরে যান তখন দ্বন্দ্ব আরো বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক আচরণ, আগ্রাসন ও বৈরিতার সঙ্গে বিচ্ছেদের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গীর সমালোচনা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

ঝগড়ার ধরনেও পার্থক্য

সব ঝগড়াই যে সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর, তা নয়। সম্মান, কৌতূহল ও সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা বরং সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঙ্গীর প্রতি সাড়া দেয়ার অনুভূতি। অর্থাৎ সঙ্গী কথা বললে মন দিয়ে শোনা, তাকে বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা। গবেষণায় এমন আচরণের সঙ্গে দাম্পত্য সন্তুষ্টির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এমনকি দাম্পত্যের দ্বন্দ্ব ঘুমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে ধ্বংসাত্মক তর্কের সঙ্গে খারাপ ঘুম এবং গঠনমূলক আলোচনার সঙ্গে ভালো ঘুমের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ফিরিয়ে আনা সহানুভূতি

সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে গেলে আবার পরস্পরের কথা মন দিয়ে শোনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দম্পতি-থেরাপি এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতি-থেরাপি সম্পর্কের সন্তুষ্টি বাড়াতে, মানসিক ঘনিষ্ঠতা জোরদার করতে এবং সম্পর্কের সংকট কমাতে কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইভানস্টনে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যামিলি ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ও দম্পতি থেরাপিস্ট জে লেবো বলেন, থেরাপিতে আসা অনেক দম্পতির মধ্যেই সহানুভূতি ক্ষয়ে যায়। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কীভাবে সেই সহানুভূতি আবার ফিরিয়ে আনা যায়। তার মতে, থেরাপি কার্যকর হওয়ার একটি লক্ষণ হলো কথা বলা ও শোনার দক্ষতার উন্নতি। সংকটে থাকা সম্পর্কে সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনাই অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আরো বলো, শুনছি

কোলের মতে, সম্পর্ক ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বোঝার দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে। একটি হলো একজন সঙ্গী যখন অন্যজনকে বলেন, তুমি কেন এমন অনুভব করছ, সেটা আমি বুঝতে পারছি। এর অর্থ, নিজের মতের সঙ্গে ভিন্ন হলেও সঙ্গীর দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করার চেষ্টা করা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো কৌতূহল। মতের অমিল থাকলেও যদি একজন সঙ্গী বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আরো বলো, তুমি এমনটা কেন ভাবো? তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক সংকেত হতে পারে।

ভিন্ন স্বপ্ন

কোল একটি দম্পতির উদাহরণ দিয়েছেন, যারা অর্থ খরচ নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া করতেন। দুজনের শৈশবই কেটেছিল দারিদ্র্যের মধ্যে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তাদের জীবনের লক্ষ্যকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছিল। স্ত্রী চেয়েছিলেন সঞ্চয় করে আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে স্বামী নিজের উপার্জনের টাকা খরচ করে ভালোভাবে জীবন উপভোগ করতে চাইতেন। ফলে অর্থ ব্যয় নিয়ে তাদের নিয়মিত বিরোধ হতো।

থেরাপিতে তারা বুঝতে পারেন, আসলে তাদের ঝগড়ার পেছনে ছিল দারিদ্র্যের ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন স্বপ্ন। পরে তারা সমঝোতায় পৌঁছান কত টাকা সঞ্চয় করবেন এবং কতটা খরচ করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি সমাধান তৈরি করেন।

লেবোর মতে, থেরাপির ফলাফলে দম্পতির নিজেদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো থেরাপিস্ট থাকলেই হবে না  সম্পর্কের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা দুজনেরই থাকতে হবে। এমনকি যারা আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারাও দম্পতি-থেরাপির মাধ্যমে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াটি কম বৈরিতার সঙ্গে সামলাতে পারেন। বিশেষ করে সন্তান থাকলে, বিচ্ছেদের সময় তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর