হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২০:০৫ ১৭ নভেম্বর ২০২৫
ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে মামলার আসামি থেকে দায় স্বীকার করে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সেই সঙ্গে শহীদদের পরিবারকে এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে যা বললেন ট্রাইব্যুনাল : ঐতিহাসিক এই রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘হাত, পা, নাক, চোখ, মাথার খুলি হারানো যেসব সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের বাস্তব অবস্থা দেখলে যেকোনো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা ধরে রাখা কঠিন। ফলে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যেকোনো মূল্যে বিচারের আওয়াতায় আনা উচিৎ। এক্ষেত্রে ন্যায়বিচারকে ব্যাহত হতে দেওয়ার সুযোগ নেই।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, সংঘটিত অপরাধে প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়া, আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ এবং সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধ সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। এসব অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
দুই নম্বর অভিযোগের অপরাধ বর্ণনা করে ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, এই অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দু’টি অপরাধের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি অপরাধ হচ্ছে জুলাই গণ-আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ। এই নির্দেশনা দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ ৩(২) (ছ) (জ) ও ৪(১) (২) (৩) ধারার অপরাধ সংঘটন করেছেন। দ্বিতীয় অপরাধটি হচ্ছে— শেখ হাসিনার এই নির্দেশ অনুসরণ করে গত বছর ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা ও একই দিনে সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া। এই অভিযোগে সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই সমস্ত অপরাধের জন্য তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, একই অপরাধে সহ-আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন সমানভাবে দায়ী। এর জন্য আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। কিন্তু আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে। তাই সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশে তার এই সাক্ষ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছে। ফলে তাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত নমনীয়তা প্রদর্শন করছে। সবকিছু বিবেচনায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া, শুনানিতে প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া, স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের ঐতিহাসিক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায়ে শহীদরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে, প্রসিকিউশন পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর তার প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আজকে যেসব আসামিকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই একই শাস্তি প্রাপ্ত হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল আন্তর্জাতিক নর্মস, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটির মতো কমপ্লেক্স অপরাধের বিচার করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে সেটা করেছে।’
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করেছে— অপরাধী যত বড় হোক, যত ক্ষমতাশালী হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’
হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার বৃত্তান্ত : চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে বিচার— সব পর্যায়ের বৃত্তান্ত এভাবে এগিয়েছে। মামলাটির নম্বর আইসিটি বিডি কেস নম্বর ২/২০২৫। চীফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা ও অন্যান্য শিরোনামে দায়ের হওয়া এই মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে।
অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত শুরু : ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট এবং ২৯ অক্টোবর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। মিস কেস নম্বর ০২/২০২৪ করা হয় ১৬ অক্টোবর। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় ১৬ অক্টোবর এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ১৭ অক্টোবর। গ্রেফতার আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে গত ১৬ মার্চ গ্রেফতার দেখানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জ : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় গত ১২ মে। ১ জুন দাখিল হয় ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। এতে ১৪ খণ্ডে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার দালিলিক সাক্ষ্য জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল পত্র-পত্রিকা, দেশি-বিদেশি অনুসন্ধান প্রতিবেদন, শহীদ ও আহতদের তালিকাসহ গেজেট, বই, স্মারকগ্রন্থ, ঘটনাভিত্তিক তালিকা, গ্রাফিতির বই, অভ্যুত্থানকালীন প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম পাতার সংকলন, আহতদের চিকিৎসা সনদ, পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল প্রতিবেদন, অস্ত্র ও বুলেট ব্যবহারের জিডি, হেলিকপ্টারের ফ্লাইট শিডিউলসহ নানা নথি। ৯৩টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব দালিলিক সাক্ষ্য ও ৩২টি বস্তু প্রদর্শনীর মাধ্যমে বুলেট, পিলেট, রক্তমাখা কাপড়, ভিডিও, অডিও, ডিভিডি, পেনড্রাইভ ও বই ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
মোট ৮৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি জমা পড়ে, যার মধ্যে ৫৪ জন সরাসরি সাক্ষ্য দেন। ১৭ জুন পলাতক আসামির জন্য দুই জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২৪ জুন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ১ জুলাই চার্জ শুনানি শুরু হয় এবং ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। এ সময় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করেন।
প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করা হয় ৩ আগস্ট; একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী ছিলেন গুরুতর আহত খোকন চন্দ্র বর্মন। ৮ অক্টোবর শেষ সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর। মোট ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১২ অক্টোবর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয় এবং রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়।
১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বরকে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগসমূহ : প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ ১
চব্বিশের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতিপুতি সম্মোধন করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপর ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজন নেতা একই ধরনের মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যের পর ছাত্ররা আন্দোলনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং (নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ করে ও নির্যাতন চালায়।
সাক্ষ্যপ্রমাণ:
বিটিভি থেকে প্রাপ্ত ওই সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও, শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতার বক্তব্যের ভিডিও ও সংবাদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, দেশব্যাপী হত্যা ও নির্যাতনের খবর ও ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য।
অভিযোগ ২
কাউন্ট-১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালকে ১৪ জুলাই রাতে ফোন দিয়ে আসামি শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে তাদের ফাঁসি অর্থাৎ হত্যার নির্দেশ দেন।
কাউন্ট-২, ১৮ জুলাই শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে কথোপকথনে লেথাল উইপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশ, ড্রোন ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্ত করা এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার নির্দেশসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুড়িয়ে জনতার ওপর দায় চাপানোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
কাউন্ট-৩, হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে ফোনে ২ বার কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ, আটক-নির্যাতন এবং বিএনপি, জামায়াত ও জঙ্গি ট্যাগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাক্ষ্যপ্রমাণ :
সরকারি প্রতিষ্ঠান এনটিএমসি থেকে পাওয়া ভয়েস রেকর্ড ও সেগুলোর ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ট্রান্সক্রিপশন, শহীদদের তালিকা, আহতদের তালিকা সম্বলিত গেজেট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক প্রকাশিত দ্বিতীয় স্বাধীনতায় শহীদ যারা নামক ১০ খণ্ডের শহীদদের তালিকা। গুলিবিদ্ধদের শরীর থেকে প্রাপ্ত বুলেট ও পিলেট, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও ছবি, পত্র-পত্রিকা, ১ হাজার ৪০০ শহীদ হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করা জাতিসংঘ কমিশনের প্রতিবেদন, বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রোজেক্টের (আইটিজেপি) প্রামাণ্যচিত্র; ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি ব্যবহারের হিসাব, হেলিকপ্টারের ফ্লাইট শিডিউল, কারফিউ জারির সরকারি আদেশ ও ‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ।
অভিযোগ ৩
১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ।
সাক্ষ্যপ্রমাণ :
শেখ হাসিনার ১৪ জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও, ঢাবি ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড, আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার সময় এনটিভির লাইভ ভিডিও ও মূল কপি, আবু সাঈদেও মৃতদেহের পাঁচটি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যা পুলিশের নির্দেশে চারবার পরিবর্তন করা হয়, ওই ঘটনায় সাজানো মামলার নথি, আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক, চিকিৎসক, ছাত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য।
অভিযোগ ৪
চব্বিশের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ।
সাক্ষ্যপ্রমাণ :
পুলিশের নির্বিচারে গুলির ভিডিও ও আরটিভি থেকে পাওয়া মূল কপি, শহীদ আনাসকে গুলি করার ভিডিও, তার মাকে লেখা চিঠি এবং তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও, ইয়াকুবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রিকশায় তুলে দেওয়ার ভিডিও, আন্দোলনকারী ও আশেপাশের ভবন থেকে ব্যক্তিগত মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও, বিটিভির জুলাই অনির্বাণ ডকুমেন্টারি, শহীদ পরিবার, নির্দেশ অমান্য করা পুলিশ সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য।
অভিযোগ ৫
চব্বিশের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে হত্যা করে তাদের লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
সাক্ষ্যপ্রমাণ :
আশুলিয়া থানার পুলিশ কর্তৃক গুলির ভিডিও, নিহতদের ছয়জনের লাশ ভ্যানে তোলার ও চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ভিডিও, পোড়া লাশের ছবি, পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য।
সাক্ষীদের পরিচয় :
ভুক্তভোগী, আহত, শহীদ পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, দোষ স্বীকারকারী আসামি, ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ, আন্দোলনকারী, পুলিশ, ওয়ারলেস অপারেটর, তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান ও তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রসিকিউশনের প্রার্থনা
সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের আবেদন জানায়।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেসব অভিযোগের বিচার চলছে।
- ‘শিগগিরই’ হানা দেবে শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’
- শীতকালে শরীরে ব্যথা বাড়ে কেন?
- জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে বিশাল নিয়োগ
- বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
- আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে: সালাহ
- কেন বাড়ি এসে কাঁদতেন আমির খান?
- কাশির ওষুধ নাকি লেবু-মধু বেশি কার্যকর?
- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, যুদ্ধের প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলার
- ফেসবুকে কত ফলোয়ার থাকলে কত টাকা পাবেন?
- আফ্রিদির সঙ্গে প্রেম, আফগান ক্রিকেটারকে বিয়ে করছেন সেই নায়িকা
- ভাত বেশি সেদ্ধ হয়ে গেছে? ঝরঝরে করবেন যেভাবে
- খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিতে বিলম্বের কারণ জানালেন ডা. জাহিদ
- ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৪ প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন সম্পন্ন
- হাসিনা-কাদের-কামালসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- এমবাপ্পে-হালান্ডের লড়াই দেখতে মুখিয়ে দেশ্যম
- সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়ালি হাজিরার আবেদন খারিজ
- শীতে লেপ-কম্বলের যত্ন নেবেন যেভাবে
- প্রতি মুহূর্তে অমিতাভের প্রেমে পড়েন জয়া
- ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিতে কোহলির ‘৫৩’
- সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই হবে: ইসি সানাউল্লাহ
- নভেম্বরে বাজারে এসেছে যেসব নতুন বাইক
- শীতে মাফলার যেভাবে পরবেন
- খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি নিলয় আলমগীরের
- ফের বাড়ল এলপিজির দাম
- চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া
- আইপিএল নিলামে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যে মুস্তাফিজ
- এবার অ্যান্ড্রয়েড থেকেই সরাসরি তথ্য যাবে অ্যাপলে
- পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ
- আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি আনোয়ারুল
- শীতে বাড়তি শক্তি দেবে এই ১০ সুপার ফুড
- শীতে বাড়তি শক্তি দেবে এই ১০ সুপার ফুড
- ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিতে কোহলির ‘৫৩’
- সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়ালি হাজিরার আবেদন খারিজ
- শীতে লেপ-কম্বলের যত্ন নেবেন যেভাবে
- এবার অ্যান্ড্রয়েড থেকেই সরাসরি তথ্য যাবে অ্যাপলে
- খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি নিলয় আলমগীরের
- নভেম্বরে বাজারে এসেছে যেসব নতুন বাইক
- ফের বাড়ল এলপিজির দাম
- আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে: সালাহ
- শাকিব খানের যে কথা মেনে চলেন অপু বিশ্বাস
- শীতে মাফলার যেভাবে পরবেন
- সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই হবে: ইসি সানাউল্লাহ
- চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া
- আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি আনোয়ারুল
- পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ
- আইপিএল নিলামে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যে মুস্তাফিজ
- কেন বাড়ি এসে কাঁদতেন আমির খান?
- আফ্রিদির সঙ্গে প্রেম, আফগান ক্রিকেটারকে বিয়ে করছেন সেই নায়িকা
- ফেসবুকে কত ফলোয়ার থাকলে কত টাকা পাবেন?
- বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম









