ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২০ মাঘ ১৪৩২
good-food

আপনার এক্স অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যা করবেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:২৩ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

বর্তমান সময়ে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটার নিয়ে আলোচনা আর তর্কের শেষ নেই। আমাদের অনেকের মধ্যেই একটি ধারণা কাজ করে যে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের চেয়ে এক্স অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবতা হলো যত শক্তিশালী নিরাপত্তাই থাকুক না কেন অসতর্ক থাকলে যেকোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী পর্যন্ত এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার খবর নিয়মিতই সামনে আসছে। ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু মত প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকের জন্য এটি পেশা, ব্যবসা, এমনকি পরিচয়ের বড় অংশ। ফলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই শুধু কয়েকটি পোস্ট হারানো নয়, বরং বিশ্বাসযোগ্যতা, অর্থ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি।

কেন হ্যাক হয় এক্স অ্যাকাউন্ট?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এক্সের নিজস্ব সার্ভার বা প্রযুক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু হ্যাকিংয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনা ঘটে ব্যবহারকারীর সামান্য কিছু ভুলের কারণে। যেমন অনেকে অনেকগুলো সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। ফলে একটি সাইট হ্যাক হলে হ্যাকার খুব সহজেই আপনার এক্স অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়ে। এছাড়া টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু না রাখা এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করা হ্যাকিংয়ের প্রধান কারণ। অনেক সময় দেখা যায় আমরা বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে আমাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে রাখি। এগুলোও অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অরক্ষিত বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে লগইন করলেও তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে।

হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি দেখেন আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন সব পোস্ট বা টুইট করা হচ্ছে যা আপনি নিজে করেননি তবে বুঝতে হবে সমস্যা আছে। এছাড়া আপনার অজান্তেই কাউকে ডিরেক্ট মেসেজ পাঠানো বা কাউকে ফলো অথবা আনফলো করার মতো ঘটনা ঘটলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় হ্যাকাররা বিটকয়েন বা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের প্রলোভন দেখিয়ে পোস্ট করে থাকে। এক্স কর্তৃপক্ষ থেকেও অনেক সময় অস্বাভাবিক লগইন সম্পর্কে ইমেইল পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়। সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো যখন আপনি আপনার পুরনো পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে পারেন না।

 

অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে কত সময় লাগে?

অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া নির্ভর করে আপনার পদক্ষেপ কতটা দ্রুত তার ওপর। যদি আপনি দ্রুত এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন এবং আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বরের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকে তবে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা সম্ভব। তবে হ্যাকার যদি অ্যাকাউন্টের ইমেইল এবং সিকিউরিটি সেটিংস পুরোপুরি বদলে দেয় তবে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তিন থেকে সাত দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

হ্যাক হলে দ্রুত যা করতে হবে

যদি বুঝতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে তবে সময় নষ্ট না করে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি আপনি তখনও লগইন করতে পারেন তবে সবার আগে পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। পাসওয়ার্ড বদলানোর সময়লগ আউট অফ অল সেশনসঅপশনটি বেছে নিন যাতে অন্য কোনো ডিভাইসে অ্যাকাউন্টটি চালু থাকলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেটিংস থেকে চেক করুন আপনার ইমেইল এবং ফোন নম্বর ঠিক আছে কি না।

যদি আপনি লগইন করতে না পারেন তবে এক্সের অফিশিয়াল সাপোর্ট পেজে গিয়ে অ্যাকাউন্ট রিকভারি ফর্ম পূরণ করতে হবে। সেখানে আপনার ইউজারনেম এবং অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত ইমেইল দিন। এক্স কর্তৃপক্ষ আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কিছু প্রশ্ন করতে পারে। যেমন আপনার পুরনো পাসওয়ার্ড কি ছিল বা আপনি কোন ডিভাইস দিয়ে সচরাচর লগইন করেন। সঠিক তথ্য দিতে পারলে সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া সম্ভব। তবে হ্যাকার যদি ইমেইল এবং সিকিউরিটি সেটিংস সব বদলে ফেলে তবে থেকে দিন বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

 

নিরাপদ থাকার কিছু সহজ কৌশল

হ্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা কিছু মৌলিক অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রথমত একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন যা অন্তত ১২ থেকে ১৬ অক্ষরের হবে। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর ছোট হাতের অক্ষর সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সংমিশ্রণ রাখুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করবেন না।

দ্বিতীয়ত দুই স্তরের নিরাপত্তা বা টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন অবশ্যই চালু করুন। এসএমএসের মাধ্যমে আসা কোডের চেয়ে অথেন্টিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। কারণ সিম সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার ফোনের মেসেজ হাতিয়ে নিতে পারে।

তৃতীয়ত সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। অনেক সময় হ্যাকাররা এমনভাবে মেসেজ দেয় যে মনে হয় আপনার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হতে যাচ্ছে বা ভেরিফিকেশন প্রয়োজন। এমন প্রলোভন বা ভয়ে হুট করে কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। এছাড়া নিয়মিত বিরতিতে আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো পরীক্ষা করুন। যদি কোনো অ্যাপ অপরিচিত মনে হয় তবে সাথে সাথে সেটির অনুমতি বাতিল করে দিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সচেতন ব্যবহারই এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সামান্য সতর্কতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।