ঢাকা, ১০ জানুয়ারি শনিবার, ২০২৬ || ২৬ পৌষ ১৪৩২
good-food
১০

তথ্য চুরির দিকে ঝুঁকছে সাইবার হামলাকারীরা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৫০ ৯ জানুয়ারি ২০২৬  

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস জানিয়েছে, উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগের তুলনায় এখন কম সংখ্যক ঘটনায় ডেটা এনক্রিপ্ট করা হচ্ছে। বরং তথ্য চুরি করে তা ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের কৌশল বেশি গ্রহণ করছে সাইবার হামলাকারীরা।

গত এক বছরে র‍্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হওয়া ৩৩২টি ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে সফোসের প্রকাশিত “সফোস স্টেট অফ র‍্যানসমওয়্যার ইন ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোডাকশন ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে এখন র‍্যানসমওয়্যার হামলাগুলোতে আগের তুলনায় কম ক্ষেত্রে ডেটা এনক্রিপ্ট করা হচ্ছে। এর বদলে সাইবার হামলাকারীরা তথ্য চুরি করে তা ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের দিকে ঝুঁকছে। আবার, সিস্টেম এনক্রিপ্ট করার পাশাপাশি তথ্য চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি দ্বিগুণ হচ্ছে। আগের চেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইল লক হওয়ার আগেই আক্রমণ শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের ডেটা এনক্রিপ্ট হয়ে যায়, তাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে এখনো প্রায় পুরো দাবিকৃত মুক্তিপণই পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সফোস আরও জানায়, ডেটা পুনরুদ্ধারের খরচ ও সময় আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের সিস্টেম স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে পারছে।

তবে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা জনবলের ঘাটতি, নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করতে সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সমাধানের অভাব। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই সাইবার হামলাগুলো সফল হচ্ছে, ফলে আইটি ও নিরাপত্তা টিমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সাইবার হামলা মোকাবিলায় সফোসের পরামর্শ

সাইবার ঝুঁকি কমাতে সফোস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে—

মূল দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধান: প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত যেসব দুর্বলতার কারণে হামলা ঘটে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি। সফোস ম্যানেজড রিস্কের মতো সমাধান এতে সহায়তা করতে পারে।

সব এন্ডপয়েন্টে সুরক্ষা নিশ্চিত করা: সার্ভারসহ সব ডিভাইসে শক্তিশালী অ্যান্টি–র‍্যানসমওয়্যার সুরক্ষা থাকতে হবে, যাতে হামলা শুরুর আগেই তা প্রতিহত করা যায়।

আগাম প্রস্তুতি ও অনুশীলন: স্পষ্ট ইনসিডেন্ট রেসপন্স প্ল্যান, নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ এবং নিয়মিত ডেটা রিকভারি অনুশীলন অপরিহার্য।

২৪ ঘণ্টা নজরদারি: সার্বক্ষণিক সিস্টেম পর্যবেক্ষণ জরুরি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো ২৪/৭ থ্রেট মনিটরিং ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এমডিআর) পরিষেবার সহায়তা নিতে পারে।