ঢাকা, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৪ চৈত্র ১৪৩২
good-food
৪২

৪০ ভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পাননি শ্রমিকরা, মালিকের বক্তব্য ভিন্ন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ১৮ মার্চ ২০২৬  

সরকার নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দেশের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানার মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি কারখানায় এখনও ঈদের বোনাস দেওয়া হয়নি। যা ছুটির আগেই শ্রমিকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। শ্রমিক নেতারা এই অবস্থার জন্য দায় চাপাচ্ছেন কারখানার মালিকদের ওপর।

শিল্প পুলিশ–এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৬টি ইউনিট বা ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনও পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে, প্রায় ৩,০৩৫টি ইউনিট বা ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ বোনাস দেয়নি, এবং ৭ হাজার ৬৫টি কারখানা বা ৬৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বোনাস এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে।

এই মাসের শুরুতে কারখানা মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কারখানাগুলোকে মার্চ ৯-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং মার্চ ১২-এর মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তহবিল সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার রপ্তানি শিল্পের জন্য এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ সহজ শর্তের ঋণ প্রদানের পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা নগদ প্রণোদনা দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সত্ত্বেও বেতন-বোনাস পরিশোধ পরিস্থিতি পুরোপুরি সমাধান হয়নি। কয়েকটি শিল্প অঞ্চলে শ্রমিকরা বকেয়া পরিশোধ দাবিতে আন্দোলনও শুরু করেছেন।

শ্রম নেতাদের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে এই বিলম্ব হচ্ছে না।

শিল্প বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন দাবি করেন যে কিছু কারখানা মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছেন।

তিনি বলেন, “কিছু মালিক ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাস ইচ্ছাকৃতভাবে রাখেন। আগে দেওয়া হলে শ্রমিকরা বর্তমান মাসের বেতনের অংশও দাবি করতে পারে।” এর ফলে কিছু কারখানাই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন আংশিক মার্চের বেতনের সঙ্গে মিলিয়ে পরিশোধ করেছে।

তবে বিকেএমইএ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম দেশকাল নিউজকে বলেন, “কারখানাগুলো প্রায় দুই বছর ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেই সব বেতন পরিশোধ হবে।”

জানা যায়, গাজীপুরের এইচডিএফ অ্যাপারেলস–এ ১০০ এর বেশি শ্রমিকের বেতন পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেখানে কারখানার মালিক সহযোগিতা করছে না বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।

তবে বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আশা প্রকাশ করে বলেন, “শিল্প জোনে ব্যাংক লেনদেন বুধবার ও বৃহস্পতিবারও চলবে। আশা করা যায় এই সময়ের মধ্যে বেতন ও বোনাস পরিশোধের পাশাপাশি ছুটি ঘোষণা করা যাবে না।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন ‘কারখানাগুলোতে বড় ধরনের বিঘ্ন হবে না।’

এদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের ২ হাজার ১২৭টি কার্যক্রমরত কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৯০টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ৩৭টি বকেয়া রয়েছে।

ঈদ বোনাস এরইমধ্যে ২ হাজার ৫১টি কারখানায় বিতরণ হয়েছে। বাকি ৭৬টি এখনও বাকি। জানুয়ারি মাসের বেতন পাঁচটি কারখানায় এখনও বাকি আছে।

বিজিএমইএ আরও জানিয়েছে, ৪৭৮টি কারখানা মার্চের জন্য অগ্রিম বেতন এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে।

বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান বলেন, “আমরা কারখানার কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু কারখানায় শেষ মুহূর্তের বিলম্ব ঘটতে পারে, তবে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

সংগঠনটি জানিয়েছে, ৩৫ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানা মঙ্গলবার থেকে ঈদ ছুটি শুরু করেছে, ৪৫ শতাংশ বুধবার, এবং বাকি কারখানা বৃহস্পতিবার থেকে ছুটি ঘোষণা করবে।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর