ঢাকা, ১২ জানুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২৮ পৌষ ১৪৩২
good-food

কুয়াশা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫৭ ১১ জানুয়ারি ২০২৬  

শীত এলেই ভূমির কাছাকাছি বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে মিশে তৈরি হয় কুয়াশা। শীতে ঢাকা সহ বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় এমন কুয়াশার দেখা মেলে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে আসে প্রায় শূন্যে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি ফ্লাইট ও ট্রেন চলাচলেও দেখা দেয় বড় ধরনের বিঘ্ন। তবে কুয়াশার প্রভাব শুধু যাতায়াতের ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নয়াদিল্লির আকাশ হেলথকেয়ারের রেসপিরেটরি ও স্লিপ মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অক্ষয় বুধরাজার মতে, সাধারণ কুয়াশা মূলত দৃশ্যমানতা কমানোর কারণেই বিপজ্জনক। কিন্তু কুয়াশা যখন বায়ুদূষণের সঙ্গে মিশে ‘স্মগ’-এ রূপ নেয়, তখন সেটিই হয়ে ওঠে প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্মগ কীভাবে শরীরের ক্ষতি করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম দূষণ কণিকা ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন কণিকাদূষণের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুস ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে। স্মগ হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বাড়ায়, কাশি ও শ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি চোখে জ্বালা, ত্বকের রোগ, গলা ব্যথা, সাইনাস ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি নিউমোনিয়ার তীব্রতা বাড়াতে পারে।

স্মগ মূলত ধোঁয়া ও কুয়াশা এই দুইয়ের সংমিশ্রণে তৈরি হয়।

স্মগ কী? 

স্মগ হলো বায়ুদূষণের একটি বিপজ্জনক রূপ, যা মূলত ধোঁয়া ও কুয়াশা এই দুইয়ের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। স্মগ শব্দটিই এসেছে স্মোক এবং ফগ শব্দ দুটি মিলিয়ে।

আরও পড়ুন: কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে?

সাধারণভাবে কুয়াশা একা থাকলে তা বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না। কিন্তু যখন কুয়াশার সঙ্গে যানবাহন, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তৈরি ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণিকা মিশে যায়, তখন সেটিই রূপ নেয় স্মগে।

কুয়াশায় বাইরে ব্যায়াম: নিরাপদ নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

ঘন কুয়াশার সময় স্মগের মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে। তাই এ অবস্থায় বাইরে ব্যায়াম করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. বুধরাজার পরামর্শ, এই সময় বাইরে দৌড়ানো বা হাঁটার বদলে ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করাই ভালো। তবে ঘরের বাতাসও পরিষ্কার রাখতে হবে—প্রয়োজনে ইনডোর প্ল্যান্ট বা এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘন কুয়াশার সময় স্মগের মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে।

কারা থাকবেন বেশি সতর্ক

শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং হাঁপানি, সিওপিডি বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—কুয়াশা, তীব্র শীত ও বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাব হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও আকস্মিক শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।