ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
১৯১

ছাড়ে আইফোন কেনার আগে যে ৮ বিষয় দেখা দরকার

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:০৮ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫  

সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ে অবিশ্বাস্য কম দামে আইফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন। নতুন অনলাইন শপ বা রিসেল মার্কেটেও লোভনীয় ছাড়ের ছড়াছড়ি। কিন্তু এই আকর্ষণীয় অফারের আড়ালেই লুকিয়ে আছে প্রতারণার নানা ফাঁদ। সামান্য অসতর্ক হলেই নতুন আইফোনের স্বপ্ন পরিণত হতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতির দুঃস্বপ্নে। তাই ডিসকাউন্টে আইফোন কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

আসুন জেনে নিই, কম দামে আইফোন কেনার আগে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।


ফোনটি রিফারবিশড বা রিকন্ডিশন্ড কি না যাচাই করুন

অনেক বিক্রেতা রিফারবিশড বা রিকন্ডিশন্ড ফোনকে একেবারে নতুন বলে বিক্রি করে। এসব ফোনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ আগে থেকেই মেরামত করা থাকে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। ফোনের Settings > General > About এ গিয়ে মডেল নম্বরটি দেখুন। মডেল নম্বর ‘M’ দিয়ে শুরু হলে ফোনটি নতুন। কিন্তু ‘F’ (Refurbished), ‘N’ (Replacement) বা ‘P’ (Personalized) দিয়ে শুরু হলে বুঝবেন এটি সাধারণ নতুন ডিভাইস নয়।


অ্যাক্টিভেশন বা আইক্লাউড লক আছে কি না দেখুন

অনেক প্রতারক চক্র চুরি করা বা লকড আইফোন কম দামে বিক্রি করে। ফোনটি কেনার আগে বিক্রেতার সামনেই রিস্টোর করে দেখুন। যদি ফোন চালু হওয়ার পর ‘Activation Lock’ স্ক্রিন আসে, তবে বুঝবেন ফোনটি তার আসল মালিকের iCloud অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত। এই ধরনের ফোন কেনা মানে টাকা জলে ফেলা, কারণ এটি আপনি কখনোই পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন না।


আইএমইআই এবং সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে নিন

ফোনের বক্সের সঙ্গে ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বরের মিল আছে কি না, তা পরীক্ষা করা আবশ্যক। অনেক সময় পুরনো বা নকল বক্স দিয়ে প্রতারণা করা হয়। ফোনের Settings থেকে সিরিয়াল নম্বরটি নিয়ে অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (checkcoverage.apple.com) গিয়ে যাচাই করুন। এতে ফোনটির ওয়ারেন্টি এবং আসল স্ট্যাটাস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।


ব্যাটারি হেলথ চেক করতে ভুলবেন না

ডিসকাউন্টে ফোন বিক্রির এটি একটি সাধারণ কৌশল। পুরনো ও দুর্বল ব্যাটারির আইফোন কম দামে বিক্রি করা হয়। ব্যাটারি হেলথ ৮৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং পারফরম্যান্সও খারাপ হতে শুরু করে। তাই ফোন কেনার সময় অবশ্যই Settings > Battery > Battery Health & Charging অপশনে গিয়ে ব্যাটারি হেলথ দেখে নিন। চেষ্টা করুন ৯০ শতাংশের বেশি হেলথযুক্ত ফোন কিনতে।


নকল ডিসপ্লে বা যন্ত্রাংশ আছে কি না পরখ করুন

নকল বা নন-অরিজিনাল স্ক্রিন ব্যবহার করা হলে আইফোনের কালার, ব্রাইটনেস এবং টাচ অনুভূতি কখনোই আসলটির মতো হয় না। iPhone X এবং এর পরবর্তী মডেলগুলোতে Settings > General > About এ গেলে ‘Parts and Service History’ নামে একটি অপশন পাওয়া যায়। এখান থেকে আপনি সহজেই জানতে পারবেন ফোনের ব্যাটারি বা ডিসপ্লে পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং সেগুলো আসল যন্ত্রাংশ কি না।


অস্বাভাবিক কম দামই প্রতারণার প্রথম লক্ষণ

মনে রাখবেন, আইফোনের দাম কখনোই অস্বাভাবিকভাবে কম হয় না। যদি কোনো বিক্রেতা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি ছাড় দেয়, তবে সেখানে প্রতারণার ঝুঁকি প্রবল। বিশেষ করে অখ্যাত ফেসবুক পেজ, অগোছালো ওয়েবসাইট বা নতুন অনলাইন শপের লোভনীয় অফার দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।


বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা অনুমোদিত শপ থেকে কিনুন

সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অ্যাপলের অনুমোদিত রিটেইলার বা বাজারে সুনাম রয়েছে এমন কোনো বিশ্বস্ত দোকান থেকে আইফোন কেনা। এতে দাম কিছুটা বেশি হলেও আপনি আসল ডিভাইস, অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা পাবেন। প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিও প্রায় থাকবে না।


হাতে নিয়ে পারফরম্যান্স পরীক্ষা করুন

সবশেষে, ফোনটি হাতে নিয়ে ভালোভাবে এর পারফরম্যান্স পরীক্ষা করুন। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলুন, স্পিকারের সাউন্ড কোয়ালিটি দেখুন, Face ID বা Touch ID ঠিকমতো কাজ করছে কি না, চার্জিং পোর্ট, ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ কানেকশন ঠিক আছে কি না—এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করুন। অনেক সময় ডিসকাউন্টের ফোনে এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলোতে সমস্যা থাকে।


একটি ভালো ডিলেই প্রতারণার ফাঁদ হতে পারে যদি আপনি সতর্ক না থাকেন। তাই আইফোন কেনার সময় তাড়াহুড়ো না করে এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে নিন। এতে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং আপনি একটি আসল ও ভালো মানের ডিভাইস ব্যবহার করার মানসিক শান্তি পাবেন।