ঢাকা, ২৯ জুলাই বুধবার, ২০২৬ || ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৫৫

নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:১২ ৮ এপ্রিল ২০২৬  

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বিল উত্থাপন করেন। পরে সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

ফলে এখন থেকে যেকোনো ব্যক্তি কিংবা সত্তা অর্থাৎ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করতে পারবে সরকার। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে। এছাড়া কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলকে অর্থ, আশ্রয় বা সহায়তা করলে কঠোর শাস্তির বিধান বাড়ানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনে জারি অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেসময় সংসদ কার্যকর না থাকায় আইন অধিকতর সংশোধন করে আশু ব্যবস্থা নিতে সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। 

মূলত, অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না।

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম চালালে শাস্তির বিধান যুক্ত করার বিষয়টি শোনা গেলেও সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী বিলে তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা অধ্যাদেশ হুবহু সংসদে পাস হয়েছে।

বিলে কী আছে

কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে সরকার। সত্তার যাবতীয় কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা যাবে। 

ওই ব্যক্তি বা সত্তার সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন কিংবা জনসসক্ষে বক্তৃতা নিষিদ্ধ করতে পারবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অবিকল অনুমোদের সুপারিশ করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। আর ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে একটি সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ। তবে এদিন যে বিল পাস হয়েছে, তাতে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি রহিত করা হয়। এছাড়া ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।