ঢাকা, ২০ নভেম্বর বুধবার, ২০১৯ || ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৬৬

সমালোচনার জবাবে নতুন পোস্ট

আবরারকে নিয়ে তসলিমার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

প্রকাশিত: ১২:৩৯ ১১ অক্টোবর ২০১৯  


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের শাস্তি চেয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আবরারকে যারা পিটিয়েছিল, তাদের শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। এর মধ্যেই কয়েকটাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

একইসঙ্গে তসলিমা এ কথাও লিখেছিলেন, ‘আবরার অফিসিয়ালি শিবির না করলেও শিবিরের মতো চাল চলন আর চিন্তা ভাবনা বানিয়েছিল। তাতে কী! শিবিরদেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাকে যারা পিটিয়েছিল, আমার বিশ্বাস, মেরে ফেলার উদ্দেশে পেটায়নি। কিন্তু মাথায় আঘাত লেগেছে, মরে গেছে।’

তসলিমা নাসরিনের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর ওই পোস্টের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট করেন। তসলিমার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো -

‘এই পোস্টের ঠিক আগের পোস্টটিই তৃতীয় পোস্ট। ওই পোস্টে আমি সমালোচনা করেছি তাদের, যারা আরবাবের (আবরার) গুণকীর্তণ গাইতে গিয়ে বলছেন যে আরবাব ধার্মিক ছিল, পাঁচবেলা নামাজ পড়তো। মাদ্রাসার ছাত্রের বেলায় যেটি গুণ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের বেলায়ও সেটি গুণ? আমার পোস্টটি মূলত গুণ নিয়ে। খুব বেশীদিন আগে নয়, গুলশান ক্যাফের সন্ত্রাসীদের বেলায় একই রকম গুণ গাওয়া হয়েছিল। খুব মেধাবী ছাত্র, পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। আইসিসে যোগ দেওয়া সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তারাও পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে। এত দেখার পর অল্প বয়সী ছেলেদের পাঁচ বেলা নামাজ পড়াকে এত প্রশংসা করা হয় কেন? সে পরীক্ষায় ভালো ফল পেত, এটিই কি গুণ নয়? গুণী এবং নির্গুণ সবারই বাঁচার অধিকার সমান। ভালো ফল পেত বলে, বা জানিনা ৫ বেলা নামাজ পড়তো বলেই কিনা, তার জন্য চোখের জল একটু বেশিই ফেলছে মানুষ। ঠিক যেমন সুন্দরী একটি মেয়ে আহত হলে তার জন্য মানুষের আবেগ উথলে ওঠে, অসুন্দরী মেয়ে আহত হলে খুব বেশী কিছু যায় আসে না।

আমার নাকি ভক্ত তাঁরা, আমার লেখা নাকি ছোটকাল থেকে পড়ে আসছেন। এত পড়ছেন, কিন্তু আমাকে বিন্দুমাত্র জানেন না, বোঝেন না। আমার আজকের একটি লেখা পড়ে তাঁদের মনে হলো আমি খুনকে সমর্থন করছি। যদিও খুনের বিচার আমি চেয়েছি, তারপরও মনে হলো। যেহেতু আমি লিখেছি খুন করার উদ্দেশে, আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবরার নামের ছাত্রটিকে পেটায়নি- এই মত নাকি খুনকে সমর্থন করে। না এই মত খুনকে মোটেও সমর্থন করে না। আজ যদি ভাড়া করা খুনী দ্বারা আরবাবকে মারা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য খুনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশ বছর বয়সী ছাত্ররা কোনও এক ফেসবুক পোস্টের জন্য তাদের এক সহপাঠীকে পিটিয়েছে।

খুন করলে তাদের ছাত্রজীবনের অবসান হবে, তাদের বাকি জীবন জেলে পচতে হবে, এটা এতগুলো ছেলের একজনও জানে নি? খুনের উদ্দেশ্য না থাকলেও যেহেতু পিটিয়েছে, যেহেতু খুন ঘটেছে, সেহেতু শাস্তি হওয়া জরুরি। এ কথাটা স্পষ্ট করে আমি লিখলেও আমার বিরুদ্ধে কুৎসিত গালি গালাজ বন্ধ হচ্ছে না। একজন তো নাকি আমার বহুকালের ফ্যান, তিনি বললেন, আমি নাকি কাউকে তেল দেওয়ার উদ্দেশে লেখাটা লিখেছি, বোঝাতে চাইছেন, আমি হাসিনাকে তেল দিচ্ছি, দেশে ফেরার জন্য। হায় মনুষ্য মস্তিস্ক! ধিক এইসব ফ্যানদের। এরা আমার বন্ধু তালিকা থেকে বিদেয় হলেই বাঁচি। আরেকজন বললেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমার মাথার ঠিক নেই, তাই আমি এইসব লিখছি। এঁরা আমার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। বন্ধু নামের কলংক। যাঁরা বন্ধু তালিকায় নেই, তাঁরা, মানে নারীবিদ্বেষী মোল্লা মুন্সি শেয়ার করছেন আমার লেখা, আর পতিতা বলে মনের সুখে গালি দিয়ে যাচ্ছেন।

এই হচ্ছে বাংলাদেশি আবেগ। যখন উথলে ওঠে, সুনামি লেগে যায়। চিন্তাশক্তি বিচারশক্তি সব লোপ পায়।’