ঢাকা, ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ বৈশাখ ১৪২৮
good-food
৪৪

আমরা কি এমন হতে পারি না?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:২২ ২ এপ্রিল ২০২১  

কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু ওসাকা থেকে ট্রেনে চড়ে হিরোশিমায় যাচ্ছিলেন। সেটি থেকে নামার ঘণ্টাখানেক পর টের পেলো তার প্রয়োজনীয় কাগজ, দুপুরের খাবারসহ ব্যাগ ট্রেনে ফেলে এসেছেন। দুইদিন পর হিরোশিমা থেকে ফিরে রেলস্টেশনের কর্মকর্তাদের হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করে। পরে তারা তাকে একটি ফোন নাম্বার দিয়ে বলে, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ কথা বলে দেখতে পারেন।


আমার বন্ধু সেখানে ফোন দিয়ে ব্যাগের কথা বলার পর, কর্তৃপক্ষ তার ভ্রমণের স্থান, কোন স্টেশন ও সময় জেনে নেয়ার কিছুক্ষণ পর জানালো ব্যাগটি পাওয়া গেছে। সে ওসাকার ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ গিয়ে দেখে, সেই ব্যাগ থেকে দুপুরের খাবারের বক্স বের করে পরিষ্কার করে রেখে দেয়া হয়েছে। কাগজ তো সব গচ্ছিত ছিল, এমনকি ওই ব্যাগে এক ইয়েন (জাপানি মুদ্রা) কয়েন লুকিয়ে ছিল, যেটি ও কোনদিনই জানতো না, সেটিও হাতে তুলে দিয়েছে।


শুধু স্টেশন নয়, জাপানের যেকোনও জায়গায় যদি কোনও কিছু হারিয়ে ফেলেন, সেটা পুলিশকে জানিয়ে রাখলে নিশ্চিত থাকবেন, হারানো জিনিস ঘরে বসে ফিরে পাবেন।  কর্মব্যস্ততায় ডুবে থাকা জাপানি জাতির এসব জিনিসের ‘জমাস্থল’ হলো লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার। এটি জাপানের বড় শহরগুলোতে রয়েছে। জাতীয় পুলিশ এজেন্সি বলছে, তারা প্রতিবছর অন্তত ১ কোটি হারিয়ে যাওয়া জিনিস উদ্ধার করে প্রাপকদের ফিরিয়ে দেয়। এসবের মধ্যে রয়েছে ছাতা, স্যানগ্লাস, স্মার্টফোন, চাবি, ড্রিংকস সামগ্রী, ব্যাগসহ নানা কিছু।


লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টারে পেলে যত্ন সহকারে সেগুলোতে ট্যাগ বসিয়ে লকারে রাখে। পরবর্তীতে কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দিয়ে দেয়। আর কেউ যদি না আসে, তাহলে হারিয়ে যাওয়া জিনিসে ঠিকানা থাকলে সেই ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।


কয়েক বছর আগে আমার হারিয়ে যাওয়া বাইসাইকেল এক মাস পর পেয়েছিলাম। এসব ঘটনা আমাদের নিত্যদিন শেখায়। অথচ বাংলাদেশে এরকম কল্পনায় করতে পারি না, বরং সারা দুনিয়া ঘুরে এসে কিছু না হলেও এদেশের বিমানবন্দরে ল্যাগেজ কেটে জিনিস খোয়া যাওয়ার ঘটনা অহরহ। 
কিন্তু তা থামাতে পারছি না। মানসিকতার উন্নতি না হলে আমরা কখনোই সভ্য নই। 


একটা জাতি কতটা সৎ হলে এমন সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকে তা ভাবনার বাহিরে। অন্যের হারানো জিনিস ফিরিয়ে দেয়াকে পরম ধর্ম মনে করে। অন্যের সম্পদ মানে হলো অপরের ধন। সততা শিখতে স্কুলে যাওয়ার দরকার পড়ে না, সেটি শেখা যায় পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা দেখে। আর সম্ভবত জাপানিরা সেখান থেকে শিখে ‘মানুষ’ হিসেবে নিজেকে গড়ার সুযোগ পায়।

 

লেখক : নাদিম মাহমুদ

পোস্টোডক্টোরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট

ওসাকা ইউনিভার্সিটি, জাপান।