ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০২২ || ১১ আশ্বিন ১৪২৯
good-food
৫৬

ইতিহাস কথা কও

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:০৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২  

তখন আমি তরুণ ক্যাপ্টেন। নির্দেশ এলো বাংলাদেশের অভ্যুত্থান নিয়ে কথিকা পরিবেশন করার। 'ইতিহাস কথা কও' আলেখ্যটি রচনাসম্পাদনা, মঞ্চসজ্জা, কোরিওগ্রাফি- এমনকি মূল ভূমিকায় অভিনয় করার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছিল। ছবিগুলোতে নবাব সিরাজউদদৌলার শাসনামল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভয়াল উপনিবেশিক শাসনের চুম্বক অংশ সময়ের ধারাবাহিকতায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

 

নবাব সিরাজের সরলতা আর মহানুভবতায় ব্রিটিশরা এদেশে সরাসরি ব্যবসা করবার সুযোগ পেলো। বেনিয়ার বেশে আসা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত কূটকৌশলে বাংলার প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকে উস্কে দেয়। মীর জাফর আলী খাঁরায় র্লভউমিচাঁদসহ অনেক উচ্চাভিলাষীকে ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে নবাব সিরাজকে হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে ২০০ বছরের জন্য নিভিয়ে দেয়া হয়।

 

. উপনিবেশ চিরস্থায়ী করতে গোরা সৈনিক বাহিনী তৈরি করা হয়। তাদের হাতে তুলে দেয়া গাদা বন্দুকের কার্তুজ মুখ দিয়ে কাটতে হতো। সেগুলোতে শুকর গরুর চর্বি মাখিয়ে দেয়া হয়। সেনাদের অধিকাংশই হিন্দু মুসলমান। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিকে পদতলে নিস্পেষিত করা হলো। তাঁরা বিদ্রোহ করলে নির্মমভাবে সেটিকে দমন করা হয়। আজও ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক সেনা নায়ক মংগল পান্ডেসহ বীরযোদ্ধাদের স্মৃতি বহন করে চলছে।

 

তিতুমীর বাঁশ দিয়ে কেল্লা গড়ে ব্রিটিশ কামানের বিরুদ্ধে লাঠি হাতে বুক উঁচিয়ে দাঁড়ান। গুঁড়িয়ে দেয়া হয় কেল্লা। ব্রিটিশরা নির্মমভাবে হত্যা করে তিতুমীর এবং তার সহযোগীদেরকে।

 

কিশোর ক্ষুদিরাম। অশ্রুসজল ক্ষুদিরাম গাইছে, 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি '! তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো।

 

২০০ বছরের দানবীয় শোষণের পর সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাকে বারংবার দুর্ভিক্ষ উপহার দিয়ে, নিজেদের দেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে ব্রিটিশরা। 'ডিভাইড এন্ড রুল' এর ঘৃণ্য কৌশলের মাধ্যমে মূল জনগোষ্ঠী হিন্দু মুসলিমকে পরস্পরের বিরুদ্ধে ভাতৃঘাতী সংঘাতের মোহন মায়ায় বুঁদ করে রাখা হয়। লর্ড মাউন্টব্যাটনের এক ঘোষণায় বিশাল জনপদকে খন্ডিত করার মাধ্যমে ব্রিটিশরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

একযুগ আগে লন্ডনে মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে মোমের রানীর সঙ্গে আমাকে ক্যামেরাবন্দী করা হয়। রানী এলিজাবেথ চলে গেলেন ৯৬ বছর বয়সে। মৃত্যু মানুষকে শোকাচ্ছন্ন করে। আমিও শোক প্রকাশ করছি। তবে 'ইতিহাস কি কথা কইবে? 'ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের 'অংগুলি হেলনে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা সূর্য সেন, প্রফুল্ল চাকী, প্রীতিলতাফকির মজনু শাহ, নূরলদীনসহ অসংখ্য বিপ্লবীর হন্তারকদের ইতিহাস ক্ষমা করবে কী?

 

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ 
ক্লাসিফাইড স্পেশালিস্ট 
বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস।