ঢাকা, ১৪ জুলাই রোববার, ২০২৪ || ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
good-food
১৭২

উদ্বেগজনক: বিসিএস ক্যাডার পদ ছেড়ে হলেন নন-ক্যাডার সাব-রেজিস্ট্রার

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:৫৪ ১৪ জুন ২০২৪  

কোন একটা চাকরি ছেড়ে আরেকটা পছন্দসই চাকরিতে যেকেউ সুযোগ থাকলে যেতে পারে। বিসিএস তথ্য ক্যাডার পদ ছেড়ে তিনি যোগদান করছেন সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে। ব্যক্তিগত কারণ জানি না। কিন্তু এটা উদ্বেগের বিষয় এটা বলা যেতেই পারে আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতে। দুইটিই নবম গ্রেড প্রথম শ্রেণির পদ, তবে একটি ক্যাডার অন্যটি নন-ক্যাডার। একসময় সাব-রেজিস্ট্রার দ্বিতীয় শ্রেণির পদ ছিল।

 

সাব-রেজিস্ট্রার নন-ক্যাডার পদে জয়েন করলে প্রায় এ পদেই অবসর গ্রহণ করতে হয় থানার ওসিদের মতো। আর বিসিএস তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তা হলে তিনি পদোন্নতি পেয়ে কমপক্ষে ডিরেক্টর হয়ে অবসরে যেতেন৷ বৈধ সম্মান ও মর্যাদায় সাব-রেজিস্ট্রারের চেয়ে অনেক বেশি ভালো পদ তথ্য ক্যাডার। কিন্তু কেন সাব-রেজিস্ট্রারে পদটি লোভনীয় হলো? একটিই কারণ অবৈধ টাকা উপার্জন ও একক ক্ষমতার প্রদর্শন৷ একটি রেজিস্ট্রি অফিসে তিনিই একমাত্র বস।

 

একজন সাব-রেজিস্ট্রার দিনে ৫-৬ লাখ টাকাও ঘুষ পেতে পারেন। এসব বন্ধ না হলে নীতিহীন মানুষ সাব-রেজিস্ট্রার বা এজাতীয় ঘুষপ্রাপ্তি অফিসার হতে চাইবে৷ কারণ বেনজিরের মতো নজির স্থাপন করা যাবে, ক্ষমতার দাপট দেখানো যাবে। কম্বল বিতরণ করে এলাকার "কৃতিসন্তান" হওয়া যাবে।

 

সেদিন এক আলোচনায় দেখলাম স্টেজে বসে আছেন একজন সাবেক মন্ত্রী ও দুজন এমপি, একটা সরকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান ও একজন ডিআইজি। মঞ্চের অতিথিবৃন্দের মধ্যে পদ ও মযার্দার দিক থেকে ডিআইজি সবার নীচে৷ কিন্তু সঞ্চালক এমনভাবে উস্থাপন করলেন যাতে মনে হলো ডিআইজি সবার উপরে। বক্তব্য দিয়েই সকল সম্মানিত অতিথিদের রেখে তিনি চলে গেলেন। সঞ্চালক বললেন রাষ্ট্রীয় কাজে বাস্ত থাকায় তাকে চলে যেতে হলো।

 

এমপি-সাবেক মন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিগণ দেখলাম বেশ বিব্রত। বাকিরা রাষ্ট্র চালান কিন্তু ব্যস্ত নন! এভাবে আমরা কৃর্তীমান বানাই ক্ষমতার অপপ্রয়োগকারীদের, ঘুষখোরদের। এজন্য আমরাও দায়ী নয় কি? সমাজ বদলাতে হলে, জনস্বার্থে কাজ করতে হলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে না হলে যুগে যুগে বেনজিররা সমাজ ধ্বংসের নজির তৈরি করবে। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। শুধু তথ্য মুখস্ত করার শিক্ষা নয়, বিদ্যা অর্জন করার শিক্ষা। না হলে মযার্দাসম্পন্ন চাকরি ছেড়ে ক্ষমতা আর অর্থের দাপট দেখানো পদে এভাবেই যেতে চাইবে।

 

লেখক: মাহমুদুল হক

শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।