ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি সোমবার, ২০২২ || ১১ মাঘ ১৪২৮
good-food
১১১

একজন কিশোরী রোগী ও একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ 

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২৪ ১৩ নভেম্বর ২০২১  

বাবা মা'র দাম্পত্য কলহ এবং জটিলতায় মেয়ে বাচ্চাটি শিশুকাল থেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনিশ্চয়তাবোধ, ভয়সহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক ট্রমার শিকার। বাচ্চাটির জন্য দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সব সদস্য খুবই  সংবেদনশীল। মেয়েটিকে স্বাভাবিক রাখার প্রয়াসে নানা সময় বিভিন্ন বিখ্যাত সাইকিয়াট্রিস্টের থেরাপি দেয়া  হয়। 

 

মেয়েটি শৈশব ও বালিকাবেলা পেরিয়ে একসময় কৈশোরে। হ্যাঁ, মেয়েটি তখন কিশোরী;  অনন্য মেধাবী, স্বল্পভাষী এবং আত্মসম্মানবোধ অত্যন্ত প্রখর। একজন বিখ্যাত সাইকিয়াট্রিস্ট (নারী) এর মাধ্যমে সাইকোথেরাপি দেয়া হচ্ছিলো।  বেশ কয়েকটি সিটিং হয়েছে। তেমন কোনো ফলাফল দৃশ্যমান না হলেও থেরাপী অব্যাহত; সঙ্গে হালকা কিছু মেডিসিনও দেয়া হয়।

 

এ রকম বাস্তবতায় শীতকালের এক বিকেলে কিশোরীকে নিয়া যাওয়া হলো সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারে। অভিভাবকরা বাইরে অপেক্ষমাণ। থেরাপি শেষে বাসায় আসার পর তার মা কে জানালো যে সে ওই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে আর যাবে না। কারণ জানতে চাইলে জানায়--- উনি ভুল থেরাপি দিয়েছন। কী ভুল থেরাপি দিয়েছেন?  কিশোরী জানায়--- মা, দেখো, এখন শীতকাল, এমনিতেই  ঠাণ্ডা।  

 

এ অবস্থায় উনি বলেছেন, মনে করো তুমি খুব বড় একটা গাছের নিচে বসে আছো। খুব ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। তুমি খুব আরামবোধ করছো, আহা কী আরাম, কী শান্তি!  আছা মা বলো তো, এ ঠাণ্ডার মধ্যে আরো ঠাণ্ডা শান্তি দেয় কীভাবে? এর পর মেয়েটিকে ওই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে আর নিয়ে যাওয়া যায়নি।

লেখক: খায়রুল আনাম

সাবেক অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ সরকার