ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ আশ্বিন ১৪২৮
good-food
৮৩

কবি নজরুলের সামনে কিছুক্ষণ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৫৮ ৩১ আগস্ট ২০২১  

আমার প্রথম কোলকাতা অভিযান। ছাত্রজীবনে। ১৯৭২ এর ফেব্রুয়ারি। নজরুলকে দেখতেই হবে। খুঁজে খুঁজে ক্রিস্টোফার রোড সিআইটি বিল্ডিং এ কাজী সব্যসাচী র পুরনো এপার্টমেন্ট অবধি ছুটে গেলাম। দোতলা। আটফুট বাই নয় ফুট ছোট ঘর। একেবারে ফাঁকা। বিদ্রোহী সাদা সিঙ্গেল বিছানার কোনে বসা। জানালার দিকে পিঠ। পা ঝুলিয়ে। পাশেই ছোট টেবিল। সাদা কাপড়ে ঢাকা। এক পা এক পা করে ঘরে ঢুকলাম।

 

ঘাড়টা সামান্য ঝুঁকিয়ে তিনি তাকালেন। সেই বিখ্যাত চাহনি। একদৃষ্টিতে অনেকক্ষণ। কী যেন বলতে চাইলেন। তারপর মনোনিবেশ করলেন কাজে। হাতে একটুকরো কাগজ। একপাশ থেকে সরু করে ধীরে ধীরে এর বুক চিরলেন। তারপর ফেলে দিলেন। বিদ্রোহী রণক্লান্ত। বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো।

 

আমি ধন্য হলাম। সালাম এবং স্যালুট জানিয়ে বিদায়ের সময় পাশের ঘরে ডাক পড়লো। পুত্র কাজী সব্যসাচীর সাথে টুকটাক কথা হলো। কবির হারমোনিয়াম সেতার দেখালেন। বললেন পান্ডুলিপিও জমা আছে। বললাম স্মৃতি জাদুঘর হওয়া উচিত। (পরে আসানসোল পুরুলিয়াতে হওয়া স্মৃতি জাদুঘরে আছে কীনা জানিনা।) উমা কাজী বললেন বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। খালিমুখে যাবেন? মিষ্টিমুখ করিয়ে তবে বিদায়।

 

তখনো বুঝিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নজরুল কে দেখতে চান। তিনমাস পরই তাঁকে ঢাকায় আনলেন বঙ্গবন্ধু। দলবল নিয়ে তাঁকে আনার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন শেখ কামাল। অবশেষে ঢাকা হলো কবির শেষ ঠিকানা।

 

( আমার তখন ক্যামেরা ছিলনা। তাই ছবি তুলতে পারিনি)

কবির ছবি দি হিন্দু অনলাইন

বাড়ীর ছবি এই সময়

সংশোধিত পুরনো পোস্ট ২৮ আগস্ট ২০২০

 

পুনশ্চ: ঢাকায় এনে কবিকে বিভিন্ন মঞ্চে নিয়ে সম্মানিত করার হিড়িক পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান সূচক ডক্টরেটও দেয়। অসুস্থ নির্বাক কবির প্রতি এমন আচরন নিয়ে নাটক লেখেন শেখ আকরাম আলী। রাবি নজরুল অডিটোরিয়ামে মঞ্চায়নও হয় রাবি রোভার স্কাউটস এর তহবিল সংগ্রহের জন্য।

 

মাস্টার তফাজ্জল হোসেন পরিচালিত " বিক্ষুব্ধ অতীত এবং নজরুল" নাটকে যুবক নজরুল এর অভিনয় করেন বর্তমানে ঢাবি প্রফেসর রহমত আলী। আর বৃদ্ধ নজরুল ইসলামের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেন প্রশান্ত সাহা। যা আজো স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

 

আহমেদ শাফি উদ্দিনের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত