ঢাকা, ১৮ জুন শুক্রবার, ২০২১ || ৪ আষাঢ় ১৪২৮
good-food
১৯১

কল্যাণে-অকল্যাণে চলচ্চিত্র

সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:০৫ ৭ মে ২০২১  

চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা বিরাজমান। অনেকে মনে করেন চলচ্চিত্র মানব কল্যাণে কোনো উপকারে আসে না। বরং চলচ্চিত্র অশ্লীল অনৈতিক একটি শিল্প মাধ্যম মাত্র। সত্যি কি তাই? 


অস্বীকার করার উপায় নেই যে অতি মুনাফা লাভের আশায় কখনো কখনো চলচ্চিত্রকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন কিছু অসৎ মানসিকতা সুযোগমতো কব্জা করে বিভিন্ন চাহিদা পণ্যের বাজার। সে আলু হোক বা পেঁয়াজ। যেহেতু চলচ্চিত্র শুধু বাণিজ্যিক বিষয়ই নয়। এটা একটা বিনোদন মাধ্যমও বটে। 


তাই চলচ্চিত্রে নাচ, গান, ফাইট ইত্যাদির ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে প্রকারভেদে উপেক্ষিত হয় সেসব ছবি যেসব ছবিতে উঠে এসেছে সমাজ সভ্যতার অসঙ্গতির কথা। মানব কল্যাণের কথা। সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগানোর কথা। 


আমার অন্তর্ধান। এই ছবিতে সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে অনৈতিকভাবে ফারাক্কা বাঁধের কারণে মহানদী পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি সংকটে পদ্মাপারে কিভাবে শত শত একর জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এমন হাজার উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশ থেকে সুদূর ইরান হয়ে পৃথিবীর বহু দেশে ডজন ডজন ছবি নির্মাণ হয়েছে ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙেচুরে স্বচ্ছ সুন্দর নতুন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে। 


জহির রায়হানের কাচের দেয়াল, খান আতাউর রহমানের আবার তোরা মানুষ হ, আজিজুর রহমানের ছুটির ঘণ্টা, স্টিভেন স্পেইলবারগের স্কিন্ডলারস’স লিস্ট, জগত বিখ্যাত ভিটোরিও ডি সিকার দ্য বাইসাইকেল থিভ, সত্যজিৎ রায়ের হিরক রাজার দেশে বা অপুর সংসার, ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা, সামিরা মাখবালফের ব্লাকবোরডস। 


আর যদি সাম্প্রতিককালের ছবির কথা বলি, তাহলে বলতে হয় এডওয়ারড জিকের ব্লাড ডায়মন্ড-এমন অসংখ্য ছবি আছে যা মানবতার বার্তা বহন করে। অথচ এসব নিয়ে আমরা কথা বলি কম। যত বলি অতি বাণিজ্যিক ছবির ধারা নিয়ে। এতে সিনেমার প্রতি সাধারণ মানুষের মনে একটা অনিহা তৈরিতে যথার্থ ভূমিকা রাখা হয়। 


একথা নির্দিধায় বলা যায়, সিনেমা একটা শিল্প মাধ্যম। শিল্পের ভালো-মন্দ থাকবেই। ব্যবহার বিশেষে বিজ্ঞানে যেমন মানব কল্যাণের পাশাপাশি অকল্যাণের দৃষ্টান্ত রয়েছে; তেমনই চলচ্চিত্রেও বিষয়টি প্রবাহমান। অতএব এক চোখে চলচ্চিত্রকে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসাটাও অপরিহার্য।

 

লেখক: সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার।