ঢাকা, ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৭ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২৩৬

কে পুড়েছে - রাফি, নাকি বাংলাদেশ?

সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ১২ এপ্রিল ২০১৯  


পোড়া শরীরের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে নুসরাত জাহান রাফি ক’দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন। যমদূতের কাছে পরাজিত হলেন রাফি। পরাজিত হলো বাংলাদেশ। পরাজিত হলাম আমরা।

হয়ত একদিন এই জঘন্য নির্মম হত্যার বিচার হবে। বিচারে ঘাতকের দন্ড হবে অথবা ঘাতকের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীর উপস্থাপিত আইনের মারপ্যাঁচে অপরাধ প্রমাণিতত না হলে অপরাধী নির্দোষ খেতাব নিয়ে মুক্তি লাভ করবে।

সে অনেক পরের কথা। এর মধ্যে গাঢ় অন্ধকার কবরে রাফির আগুন পোড়া দেহটা ধীরে ধীরে মাটির সাথে মিশে যাবে। কালের গ্রাসে হারিয়ে যাবে নুসরাত জাহান রাফির সমস্ত স্মৃতি। তাতে রাফির কি আর যাবে আসবে! এই অপরিস্ফুটিত ফুলের সকল স্বপ্ন সকল প্রত্যাশা অন্ধকারে বিলিনত সেদিনই হয়ে গেছে, যেদিন তাঁর শরীরে আগুন দিয়ে আশিভাগ দগ্ধ করেছিল মানুষ রূপি কিছু অমানুষের দল। পোড়া যন্ত্রণায় কাতর মৃত্যুশয্যায় মাথার কাছে বারবার যমদূতের উপস্হিতি দেখেছিলেন বলেই হয়ত রাফি ক্ষীণস্বরে ডাক্তারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আমি কি বাঁচবো? জানিনা সান্তনা ছাড়া কি উত্তর ছিল ডাক্তারের। কারণ আশিভাগ পোড়া শরীরের তো বাঁচার কথা ছিলই না।

কাকে প্রশ্ন করবো - এই আগুনে কে পুড়েছে - নুসরাত জাহান রাফি, নাকি বাংলাদেশ?

কাকে প্রশ্ন করবো - বাসের চাকার নীচে ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রের রক্তাক্ত মৃতদেহটি আবরার আহমেদ চৌধুরী, নাকি আমার সোনার বাংলাদেশ?

মরা মাংসের লোভে বাংলার আকাশে এখন আর শকুন ওড়েনা। আমরা বলি বিলুপ্তির পথে শকুন। সত্যি কি তাই? নাকি মাটিতে হায়নার উৎসব দেখে ওরাও লজ্জায় ঘৃণায় ভয়ে ছেড়ে গেছে স্বাধীন বাংলার নীল আকাশ!


 # লেখক :  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার