ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২১ || ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
good-food
১২৮

কোন ধাপে কারা টিকা পাবেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৪০ ২২ জানুয়ারি ২০২১  

বাংলাদেশে করোনার টিকা আসা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত থেকে উপহার হিসেবে ২০ লাখ এসেছে। সামনে আরও আসবে। এখন পর্যন্ত সরকার ৩ কোটি ডোজ কিনেছে। শিগগির টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। মোট তিন পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে।


প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে তিন শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসবেন। তারা হচ্ছেন সবধরনের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজকর্মী, যারা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরাসরি জড়িত। এদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফারি পেশায় নিয়োজিত কর্মী, মেডিক্যাল ও প্যাথলজি ল্যাব কর্মীরা, পেশাদার স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন কর্মীরা, সাইকোথেরাপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, মেডিসিন পারসনেল, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক মিলে ৩ লাখ ৩২ হাজার জন।


সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, যারা স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ধাপে কাজ করেন। কিন্তু সরাসরি কোভিড-১৯ মোকাবেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা কর্মী, ক্ল্যারিক, বাণিজ্য কর্মী, লন্ড্রি কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য গাড়ির চালক-এমন ১ লাখ ২০ হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।


এছাড়া ২ লাখ ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি ফ্রন্টলাইনে কাজ করা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, যেমন পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য, ৩ লাখ ৬০ হাজার অন্যান্য বাহিনী যেমন সেনাবাহিনী, নেভি, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও প্রেসিডেন্ট গার্ডের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ৫০ হাজার কর্মকর্তা, ফ্রন্টলাইনে কাজ করা সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী ৫০ হাজার জনকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।

 

এই ধাপে আরো যারা ভ্যাকসিন পাবেন, তারা হচ্ছেন, জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্মী, ধর্মীয় নেতা, দাফন ও সৎকারে নিয়োজিত কর্মী, ওয়াসা, ডেসা, তিতাস ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, স্থল, সমুদ্র ও বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী শ্রমিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মী, ব্যাংক কর্মী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে, এমন রোগী, রোহিঙ্গা এবং বাফার, জরুরি ও মহামারী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মী।

 

প্রথম ধাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে ৬০ বছর বা এর চেয়ে বয়স্ক নাগরিকদের। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৫৫ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী নাগরিক, বয়স্ক এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষ, শিক্ষক এবং সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া মিডিয়া কর্মী, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য, গণপরিবহন কর্মী, হোটেল, রেঁস্তোরা ও ওষুধের দোকানের কর্মী, গার্মেন্টস শ্রমিক, যৌনকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যরা।

 

তৃতীয় পর্যায়ের দুটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে যাদের টিকা দেয়ায় অগ্রাধিকার দেয়া হবে, তাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, যারা আগের ধাপে টিকা পাননি, গর্ভবতী নারী, অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী কর্মী, অন্যান্য স্বায়ত্বশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, রপ্তানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দর কর্মী, কয়েদি ও জেলকর্মী, শহরের বস্তিবাসী বা ভাসমান জনগোষ্ঠী, কৃষি ও খাদ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মী, ডরমেটরির বাসিন্দা, গৃহহীন জনগোষ্ঠী, অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী, বাদ পড়া গণপরিবহন কর্মী, বাদ পড়া ৫০-৫৪ বছর বয়সী নাগরিক, জরুরী ও মহামারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা।


 
তৃতীয় পর্যায়ের শেষ ধাপে যারা টিকা পাবেন, তারা হচ্ছেন অন্য ধাপে বাদ পড়া যুব জনগোষ্ঠী, শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী, এবং এর আগের সব ধাপে বাদ পড়া জনগোষ্ঠী।


সবমিলিয়ে ৮০ শতাংশ জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে ১৯২ দিন সময় লাগবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে। সরকারি ছুটির দিনে বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় নির্ধারিত কিছু টিকাদান কেন্দ্রে সন্ধ্যায় টিকা দেয়া হবে।


ভ্যাকসিনগুলোকে জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় রেফ্রিজারেটর ট্রাকে করে পরিবহন করবে ইপিআই।


জাতীয় পর্যায় এবং অগ্রাধিকার পরিকল্পনার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের টিকার আওতায় আনতে আলাদা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কম ঝুঁকিতে রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়া হবে।
 

করোনাভাইরাস বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর