ঢাকা, ০৭ নভেম্বর শনিবার, ২০২৬ || ২২ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৯

চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে: বিজেপি এমপি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৫:০৫ ৭ নভেম্বর ২০২৬  

ঝাড়খণ্ডের বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবের কার্যকলাপ ও মন্তব্য অতীতে অনেক বারই  বিতর্কের ঝড় তুলেছে ভারতীয় রাজনীতিতে। এবার প্রতিবেশী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, নোয়াখালী এবং সিলেট অঞ্চল ‘পুনরুদ্ধারের’ কথা বলে কূটনীতির মঞ্চে বিতর্কের আশঙ্কা উস্কে দিয়েছেন তিনি। 

স্বাধীনতার সময় ‘ত্রিপুরা বিভাজন’ নিয়ে কংগ্রেস এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দুষেছেন নিশিকান্ত। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিনটি অঞ্চলকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে এক সারিতে এনেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত বলেন, “আমার মতে, শুধু পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করার সময়ই আসেনি, নেহরুজি জোর করে যেসব অঞ্চল হস্তান্তরিত করেছিলেন, সেগুলোও পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট।”

তার মন্তব্য, “নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর—এই তিন অঞ্চল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। ত্রিপুরা আগে তিপ্রা নামে পরিচিত ছিল। সেখানকার রাজা বীরবিক্রম সিং ধারাবাহিকভাবে নেহরুর নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। নেহরুকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কীভাবে আপনি আমাদের ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে পারেন? কীভাবে আপনি নোয়াখালী পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে পারেন? কীভাবে সিলেটে গণভোট করাতে পারেন? কীভাবে চট্টগ্রামে গণভোট করাতে পারেন?”

বিজেপি এমপির কথায়, “ত্রিপুরার রাজা বীরবিক্রম সেসময় নেহরুকে বলেছিলেন, ‘এটি আমার রাজ্য। এটি ভারতের অংশ থাকবে নাকি পাকিস্তানের অংশ হবে কিংবা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে—সেই সিদ্ধান্ত আমি নেব। কিন্তু তা মানা হয়নি।” 

নিশিকান্তের দাবি, স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন বলেই শেষ পর্যন্ত ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের অংশ হয়েছিল। 

তার ভাষ্য, “১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হননি নেহরু। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৪৬-এর ২ সেপ্টেম্বর। (যদিও ইতিহাস বলেছে ১৯৪৬-এর ২ সেপ্টেম্বর নেহরু অন্তর্বর্তী সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন)।”

নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে মুসলিম লিগকে তার সরকারে শামিল করার বিষয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার বিজেপি এমপি। তার অভিযোগ, সে কারণেই ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালীতে গোষ্ঠীগত দাঙ্গার সময় দুর্গত পরিবারগুলোকে দেখতে যাননি নেহরু। 

ভারতভাগের সময় চট্টগ্রাম বন্দর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কারণেই সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আজ যদি উত্তর-পূর্ব ভারত ‘পিছিয়ে পড়া অঞ্চল’ বলে মনে হয়, যদি সেখানকার খনিজ সম্পদ এবং গ্যাসের সদ্ব্যবহার করতে না পারা যায়, যদি এখনও বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকে থাকে, তার একমাত্র কারণ হলো—ভারতের কাছে আর সেই বন্দর নেই। এখন চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেট পুনরুদ্ধার করার সময় এসেছে।”

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে নিশিকান্ত লোকসভায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কিছু অংশ নিয়ে একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। তার দাবি ছিল, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কিষাণগঞ্জ ও কাটিহার অঞ্চলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে!” 

রাহুল গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে তার বিদেশযাত্রার অনুমতি রদ করা, দেশের বিচার ব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করার মতো অভিযোগও রয়েছে নিশিকান্তের বিরুদ্ধে। রয়েছে দেওঘর বিমানবন্দরের ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’-এ ঢুকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে রাতে চার্টার্ড বিমানের ফ্লাইটের অনুমতি দিতে বাধ্য করানোর অভিযোগ। 

এমনকি, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় বিজেপির একটি সভায় তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আপনাদের অনুরোধ বিজেপি প্রার্থী চোর-ডাকাত বা দুষ্ট লোক হলেও তাকে সমর্থন করুন।”

নিশিকান্তের অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৩ সালে সংসদের এথিক্স কমিটি মহুয়ার বিরুদ্ধে শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানীর থেকে উপহার এবং অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগের তদন্ত করেছিল। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সেসময় মহুয়ার সাংসদ পদও খারিজ হয়েছিল।