ঢাকা, ০৯ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২৬ || ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৪৮

চট্টগ্রাম বন্দর ১৫ বছর পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১২ ৮ অক্টোবর ২০২৬  

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। ১৫ বছরের জন্য এই চুক্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সই হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিপত্রে সই করেন।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই চুক্তির লেনদেন-সংক্রান্ত পরামর্শক ছিল।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “বাংলাদেশের পোর্ট ব্যবস্থাপনায়, কনটেইনার হ্যান্ডেলিং আধুনিক এবং প্রত্যাশা অনুসারে বিশ্বের মানদণ্ডের কাছে চলে যাচ্ছে। শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে তিনটিই এখন বাংলাদেশে এবং চিটাগাং পোর্টে।”

তিনি বলেন, “এ প্রক্রিয়ায় আমাদের স্বার্থ, অধিকার, অর্থনৈতিক প্রাপ্তি, কারিগরী বা টেকনিক্যাল যোগ্যতা অর্জনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছি।”

এর আগে টার্মিনালটি পরিচালনা করতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। গত বছরের ৬ জুলাই তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। পরে দিন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক এটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিপত্রে সই করেন। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালে এনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। 

পরে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। একপর্যায়ে  দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নির্বাচন করে তারা। কিন্তু তীব্র বিরোধিতা ও চলতি বছরের শুরুতে শ্রমিকদের ধর্মঘটে তা স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে বিএনপি সরকার।

২০০৭ সালে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের ১৪টিই এই টার্মিনালে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠা-নামার ৪০ শতাংশের বেশি এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনও এর বিরোধিতা করেছেন। 

তবে সরকারের ভাষ্য, এই চুক্তির ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড ও কনটেইনার ডুয়েল টাইম কমবে। আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস ব্যয় সাশ্রয় হবে। ফলে পোশাক, কৃষি, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খাত উপকৃত হবে।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর