ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০২৬ || ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৬

দাঁতের সুরক্ষায় যেসব খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:০১ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দেওয়া’, পুরোনো এই প্রবাদটি আমাদের অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে একদম সত্যি। বাহ্যিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে খাবার চিবিয়ে খাওয়া, সব কিছুতেই সুস্থ দাঁতের বিকল্প নেই। অথচ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় কিছু খাবারই অনবরত দাঁতের ওপরের সুরক্ষাকবচ বা ‘এনামেল’ ক্ষয় করে চলেছে।

মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো রাখা কেবল ব্রাশ করার ওপর নির্ভর করে না; বরং ক্ষতিকর খাবারগুলো চিনে তা থেকে নিজেকে দূরে রাখাও সমান জরুরি। আসুন জেনে নেই, দাঁতকে দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত রাখতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন বা সতর্কতার সঙ্গে খাবেন…

লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফল

লেবু, কমলা ও আঙুরের মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকলেও এতে থাকা মাত্রাতিরিক্ত অ্যাসিড দাঁতের এনামেল বা বাইরের শক্ত স্তরকে ক্ষয় করে ফেলে।

পরামর্শ: সাইট্রাস জাতীয় ফল খাওয়ার পরপরই বেশি করে পানি পান করে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালকোহল বা মদ

রেড ওয়াইন বা হোয়াইট ওয়াইন, যেকোনো ধরনের অ্যালকোহলই দাঁতের ক্ষয়ের বড় কারণ। এটি মুখের স্যালাইভা বা লালা নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করত। ফলে দাঁত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

কোল্ড ড্রিংকস বা কোমল পানীয়

কার্বোনেটেড পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি, অ্যাসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে। এটি টুথ ইরোশন (এনামেল ক্ষয়) এবং ক্যাভিটি বা পোকা লাগার প্রধান কারণ। দাঁতের সুরক্ষায় সোডা বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া একদম কমিয়ে দেওয়া উচিত।

আচার

খিচুড়ি বা ভাতের সঙ্গে আচার অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু আচারে ব্যবহৃত হয় তীব্র অ্যাসিডিক ভিনেগার এবং অতিরিক্ত চিনি। এই মিশ্রণটি দাঁতের এনামেল গলিয়ে দিতে পারে। তাই আচার খাওয়ার পর পরই ভালো করে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

চা ও কফি

চা এবং কফিতে ‘ট্যানিক অ্যাসিড’ নামের উপাদান থাকে। এটি ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং দাঁতে স্থায়ী হলদে বা বাদামি দাগ ফেলে দেয়। অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে আনা উচিত, অথবা দুধ-চিনি ছাড়া গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।

ক্যান্ডি ও চকোলেট

ক্যান্ডি বা আঠালো চকলেট অতিরিক্ত চিনিতে ভরপুর থাকে। সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো, এগুলো সহজে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়াকে খামার জোগায়। ফলে দাঁতে দ্রুত গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি হয়।

একবার দাঁতের স্থায়ী ক্ষতি বা এনামেল ক্ষয় হয়ে গেলে তা প্রাকৃতিকভাবে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন। তাই মুখগহ্বরের যত্ন নিতে শুধু সমস্যার অপেক্ষায় না থেকে খাবারের বিষয়ে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর